আইনস্টাইনের সমস্যা সমাধানের শেষ ভরসা ছিলেন জামাল

0
28

আজ প্রখ্যাত মহাবিশ্বতাত্ত্বিক জামাল নজরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের জীবনাবসান হয় ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ। তিনি ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ছিলেন। সেই ইনস্টিটিউটেরই এক তাত্ত্বিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ইসভিয়ার আরসেথ।

‘মহাবিশ্বের অন্তিম নিয়তি’র চিন্তক জামাল নজরুল ইসলামের জীবনকর্ম নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগ করেছিলাম তার সঙ্গে। ই-মেইল আলাপে আরসেথ এই লেখককে বলেন, ‘আমি একজন অতিপ্রখ্যাত বিজ্ঞানীর কথা জানি। তিনি হলেন অধ্যাপক [জন] হুইলার। তিনি বলেছিলেন, আইনস্টাইনের [আপেক্ষিকতাবিষয়ক] সমস্যার সমাধানের জন্য জামালই ছিলেন শেষ ভরসা।’

মহাবিশ্বের কপালে কী আছে, এ নিয়ে ভাবতেন অধ্যাপক জামাল। এ নিয়ে লিখেছিলেন একটা বইও। নাম ‘দি আলটিমেট ফেইট অব দি ইউনিভার্স’। ১৯৮৩ সালে বইটি প্রকাশ করেছিল ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস। এই বইয়ের ‘নানা বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত দেওয়ার জন্য’ জামাল বইয়ের ভেতর ঋণ স্বীকার করেছেন ইসভিয়ার আরসেথের কাছে।

মহাজাগতিক বস্তুদের মহাকর্ষীয় মিথস্ক্রিয়া (মেনি বডি প্রবলেম) বিষয়ক গবেষণার অন্যতম উজ্জ্বল মুখ আরসেথ। চল্লিশ বছরের বেশি সময় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন এমন গবেষণায়। বিজ্ঞানবিশ্বে জামাল নজরুলের গুরুত্ব কতখানি, জানতে চাইলে আরসেথ বলেন, ‘আমি একজন তাত্ত্বিক জ্যোতির্বিজ্ঞানী। জামালের গবেষণাকর্মকে বিচার করার যোগ্য আমি নই।

তবে শুনেছি, আইনস্টাইনের সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্বের একটা নিখুঁত সমাধানে পৌঁছার চেষ্টা তিনি করেছিলেন। অবশ্য সে চেষ্টা সফল হয়নি।’ আরসেথ অবশ্য যোগ করেন, ‘আমি জানি না অন্য বিজ্ঞানীরা কী ভাবছেন। তবে জামাল যেমনটা বলে গেছেন তার বইয়ে, ঠিক সে রকমই একটা ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে এই মহাবিশ্বের ভাগ্যে।’ ব্যক্তি জামাল কেমন ছিলেন, সে বিষয়েও নিজের মত দিয়েছেন আরসেথ। তিনি জানান, অন্তত দুটো বিষয়ে জামাল অন্যদের চেয়ে আলাদা। আরসেথের ভাষায়, ‘তার একটা বিষয় ছিল স্বতন্ত্র। ই-মেইল ব্যবহার করতেন না তিনি।

আধুনিক পদ্ধতিগুলো নিয়ে সচেতন থাকতেন বলে মনে হতো।’ দ্বিতীয় যে বিষয়টি জামাল নজরুলকে অনন্যতা দিয়েছে, তা হলো তার দেশপ্রেম। আরসেথ যেমনটা বললেন, ‘আরেকটা বিষয়, তিনি বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলেন দেশের প্রতি তার ভালোবাসার কারণে। অথচ লন্ডনের একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ভালো এবং স্থায়ী চাকরি তার ছিল।’ আসসেথ জানান, ‘বাঘ দেখতে বাংলাদেশে এসে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলাম।’

তাদের সম্পর্ক নিয়ে ইসভিয়ার আরসেথ বলেন, ‘আমি তাকে বন্ধু হিসেবেই মনে রেখেছি। আধুনিক সমাজ সম্পর্কে তার সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির কথা মনে পড়ে। তিনি মনে করতেন, এই সমাজটা একটা দূষিত সমাজ।’

এর আগে এই লেখককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রখ্যাত ব্রিটিশ-মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রিম্যান ডাইসন বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই জামাল ইসলামের প্রতি আমার অসম্ভব শ্রদ্ধা। কত সহজেই তিনি আমেরিকা বা ইউরোপে একটা বৈজ্ঞানিক ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারতেন। অথচ তিনি ফিরে গেলেন জন্মভূমিতে। নিজের ক্যারিয়ারকে তিনি বলি দিয়েছিলেন আপন দেশকে সাহায্য করার জন্যই।’