ইয়াবা পরিবহন-বিপণনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

30

আগের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২-১৫ বছরের দণ্ড
দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। ইয়াবা (অ্যামফিটামিন) পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করতে হবে। অবশ্য ইয়াবার পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশি দেওয়া হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীনে অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা করলেও একই ধরনের শাস্তি পেতে হবে। সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে হেরোইন ও কোকেন উদ্ভূত মাদকদ্রব্যের জন্যও ইয়াবার মতোই কঠোর শাস্তি রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ৫ গ্রামের বেশি ইয়াবা পরিবহন, মজুদ, বিপণন ও সেবনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আর ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন, কোকেনসহ সমজাতীয় মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিও মৃত্যুদণ্ড। আগের আইনে মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২ থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড।

গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এই অনুমোদনের কথা জানান। দেশব্যাপী চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কঠোর সাজা রেখে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত কয়েক মাসে মাদকবিরোধী অভিযানে দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই নিহত হয়েছেন পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, হেরোইন, কোকেন জাতীয় মাদকদ্রব্যের পরিমাণ অনূর্ধ্ব ২৫ গ্রাম হলে কমপক্ষে ২ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড। আর মাদকদ্রব্যের পরিমাণ ২৫ গ্রামের বেশি হলে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। পরিবহন, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উত্পাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ -সবগুলোই এর মধ্যে চলে আসে। আগের আইনটি ১৯৯০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল। এটাকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সিঙ্গেল কনভেনশন অন নারকোটিকস ড্রাগস-১৯৬১, ইউএন কনভেনশন অন সাইকো ট্রপিক সাবসটেন্সস-১৯৭১ এবং ইউএন কনভেনশন অন নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকো ট্রপিক সাবসটেন্সস ১৯১৮ এ সই করেছে। এগুলোর ভিত্তিতে আইনটি হালনাগাদ করা হয়েছে।

আগের আইনে অনেক বিষয় সরাসরি পরিষ্কার করা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নতুন আইনে ইয়াবা, সিসাবার, ডোপ টেস্টের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সব ধরনের মাদককে নতুন আইনে যুক্ত করা হয়েছে। এমন কোনো বিষয় নেই যা এই আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। কোনো না কোনোভাবে তালিকার মধ্যে চলে আসবে। ইন্টারন্যাশনাল নারকোটিক্স কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রস্তাবিত আইনে ‘কন্ট্রোল-ডেলিভারি’ নামে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বিয়ারের সংজ্ঞা হালনাগাদ করা হয়েছে। প্রস্তুতকৃত দশমিক ৫ শতাংশ অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়কে বিয়ার বলা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মাদকদ্রব্যের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, এই আইনের তফসিলে উল্লিখিত কোনো দ্রব্য এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা মাদকদ্রব্য বলে ঘোষিত অন্য কোনো দ্রব্য যা সংশ্লিষ্ট তফসিলের অংশ বলে গণ্য হবে। মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অন্য যে কোনো দ্রব্য মিশ্রিত বা একীভূত দ্রব্য সমুদয় পণ্য মাদকদ্রব্য বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, সিসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ভেষজ-নির্যাস সহযোগে দশমিক ২ শতাংশের ঊর্ধ্বে নিকোটিন এবং এসএস ক্যানেল মিশ্রিত উপাদান।

শফিউল আলম বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী কেউ যদি বার চালাতে চায় তার লাইসেন্স লাগবে। লাইসেন্স ছাড়া যদি কেউ বার চালায় তার জন্য শাস্তির বিধান আছে। অনূর্ধ্ব এক লাখ টাকা আদায় করে শর্ত পূরণ পূর্বক লাইসেন্স দেয়া হবে। মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে শনাক্তকরণে বিধি দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ডোপ টেস্ট করা যাবে। টেস্ট পজিটিভ হলে কমপক্ষে ছয় মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে।