এবার বোয়িং ৭৩৭-এর সব ফ্লাইট বাতিল করলো যুক্তরাষ্ট্র-ইইউ

12

বাংলাদেশ রিপোর্ট ॥ ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৩৭ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান বিমানের ১৫৭ জন যাত্রী। এর পর এই মডেলের বিমানের সব ফ্লাইট বাতিলে এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারত, চীনসহ একাধিক দেশ। সেই তালিকায় এবার নাম লিখালো যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের দাবি, বোয়িংয়ের এই মডেল নিরাপদ নয়- এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখনও আসেনি। আর ইইউ’র বিমান নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, ‘যেহেতু দুর্ঘটনা তদন্ত বর্তমানে চলছে এবং দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব তাড়াহুড়া হবে।’
রোববার সকালে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবা থেকে ফ্লাইট ইটি৩০২ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে যাচ্ছিল। আদ্দিস আবাবা থেকে রওনা দেওয়ার পর ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে বিশফটুশহরের কাছে বোয়িং ৭৩৭-৮০০ ম্যাক্স বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৪ মিনিটে বিমানটি উড্ডয়নের ৬ মিনিটের মাথায় বিধ্বস্ত হয়। এতে মোট ১৪৯ যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু ছিলেন। তবে কী কারণে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। এরপরই এক বিবৃতিতে চীনের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জানিয়েছে, কবে আবার বিমান সংস্থাগুলো পুণরায় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানের ফ্লাইট শুরু করতে পারবে সে বিষয়ে তাদের অবহিত করা হবে। ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বোয়িং ৭৩৭ বিমান ‘তৎক্ষণাৎ’ অবতরণ করার আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানের সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়। ব্রিটেনের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ (সিএএ) এক বিবৃতিতে বলেছে, বিধ্বস্ত ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে এখনও কোনো তথ্য জানা যায়নি। ফলে, আপাতত ব্রিটেনের আকাশ সীমায় বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স নিষিদ্ধ থাকবে। বিশ্বের ষষ্ঠ ব্যস্ত বিমানবন্দর সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ওঠানামা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সিঙ্গাপুরের সিল্ক এয়ার, চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্স, গারুদা ইন্দোনেশিয়া, শ্যাংডং এয়ারলাইন্স এবং থাই লায়ন এয়ারের অনেক ফ্লাইট সিঙ্গাপুরে যেতে পারবে না। সিঙ্গাপুরের বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের (সিএএএস) ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে পরবর্তী নির্দেশনার আগ পর্যন্ত ওই সিরিজের কোনও বোয়িং বিমানই সিঙ্গাপুর বিমান বন্দরে প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে ছেড়ে যেতে পারবে না। অস্ট্রেলিয়ার কোনো এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের এই মডেল ব্যবহার করে না। তবে দুটো বিদেশি এয়ারলাইন্সের-সিল্ক এয়ার এবং ফিজি এয়ারওয়েজ – এই বিমান অস্ট্রেলিয়ায় যায়। তারা এখন আর যেতে পারবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্টার জেট এয়ারলাইন্স বোয়িংয়ের এই মডেল ব্যবহার করে। বুধবার থেকে তাদের এটি না চালাতে বলা হয়েছে। এদিকে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, বোয়িংয়ের এই মডেলের বিমান তাদের আকাশ সীমায় আপাতত নিষিদ্ধ থাকবে। গত পাঁচ মাসে এ নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটল।