কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবদী দলের প্রধানসহ ১৮ জন আটক

20

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবদী দলের নেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন মালিককে আটক করছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শ্রীনগরের মাইসুমার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে।

বিচ্ছিন্নতাবদী দল জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের (জেকেএলএফ) এর প্রধান হচ্ছেন মালিক। চলতি সপ্তাহে তাকে নিয়ে মোট ১৮ জন বিচ্ছিন্নতাবদী নেতা ও ১৫৫জন জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেকেএলএফ প্রধান মালিককে আটক করে স্থানীয় কোঠিবাগ থানায় নিয়েছে পুলিশ। ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামা হামলার পর কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত।

আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে ‘অনুচ্ছেদ ৩৫-এ’ গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হতে চলেছে তার। উল্লিখিত অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাইরের কেউ কাশ্মীরে জমি বা সম্পত্তি কিনতে পারবেন না। তাছাড়া বহিরাগতদের সেখানে কোনও সরকারি চাকরি বা বৃত্তি পাওয়ারও অধিকার নেই।

সম্প্রতি সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৩৫’র গ্রহণযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল হয়। সেই মামলারই শুনানি শুরু হবে সোমবার থেকে। আর এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের প্রধান ইয়াসিন মালিককে আটক করা হলো।

কাশ্মীরে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে হাইঅ্যালার্ট রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইয়াসিন মালিক ছাড়া আরও কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার নাম প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীর উপত্যকায় ভারতীয় সেনার ওপর সবচেয়ে বড় হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ হামলায় ৪৪ জন সেনা নিহত হন। ঘটনার দায় স্বীকার করে নিয়েছে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহম্মদ। এর পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্ষোভে, বিরক্তিতে ফেটে পড়ে ভারত। কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে একঘরে করে দেওয়ার প্রক্রিয়াও ভারত শুরু করে আন্তর্জাতিক মহলে।

গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতকে সতর্ক করে বলেছেন, মোদি প্রশাসন এই মুহূর্তে যা করছে তার জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে পাক সেনার।

এদিকে হামলার পর দিনই পাকিস্তানের থেকে ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ এর তকমা ছিনিয়ে নেয় ভারত। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ বেশি শুল্ক চাপানোর কথাও ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।