খাশোগিকে গুলির নির্দেশ ছিল যুবরাজের

20

সাংবাদিক জামাল খাশোগি দেশে না ফিরলে ও সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা বন্ধ না করলে তাকে রুখতে ‘বুলেট’ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ২০১৭ সালে সৌদির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে সালমান এই নির্দেশ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গোয়েন্দাদের বরাত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। পত্রিকাটি বলছে, সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুবরাজ সালমানের ওই কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে।
এদিকে জাতিসংঘও বলছে, তাদের তদন্ত দল সৌদি কনস্যুলেটে জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এ ঘটনায় তুরস্কের তদন্ত উদ্যোগে বাধা দেওয়ারও সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে সৌদি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০০৭ সালের ওই কথোপকথনে যুবরাজ সালমান বলেছিলেন, খাসোগি সৌদি আরবে ফিরতে প্রলুব্ধ হবেন না। তাই তাকে জোর করে ফিরিয়ে আনতে হবে। আর কোনো পদ্ধতিই কাজ না করলে খাসোগির বিরুদ্ধে ‘বুলেট’ ব্যবহার করতে হবে।
এখন মার্কিন গোয়েন্দারা বুঝতে চেষ্টা করছেন যুবরাজ সালমান ‘বুলেট’ শব্দটি ব্যবহার করে খাসোগিকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, নাকি খাসোগিকে রুখতে প্রয়োজনে যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের উপমা অর্থে তিনি ‘বুলেট’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।
পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা বিদেশি শীর্ষ ব্যক্তিদের ভয়েস ও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের তথ্যগুলো নিয়মিত নজরদারিতে রাখে। সে প্রক্রিয়ায়ই বছরের পর বছর তারা যুবরাজ সালমানের যেসব ভয়েস ও বার্তা সংগ্রহ করেছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়েই ২০০৭ সালের ওই কথোপকথনের বিষয়টি চিহ্নিত হয়। কয়েক মাস ধরে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা যুবরাজ সালমানের ব্যাপারে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা, হোয়াইট হাউস ও ঘনিষ্ঠ বিদেশি সহযোগীদের সরবরাহ করছে। খাসোগি হত্যার কয়েক সপ্তাহ পর সিআইএ ঘটনা সম্পর্কে তাদের মূল্যায়নে জানায়, যুবরাজ সালমানই খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এদিকে বিবিসি জানিয়েছে, সৌদি কর্মকর্তাদের খাসোগিকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ তদন্ত দল। তদন্ত প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে খাসোগিকে হত্যার ১৩ দিন পরও তুরস্কের তদন্ত কর্মকর্তাদের সেখানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি; বরং পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে।
সৌদি সরকারের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত বছর ২ অক্টোবর ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে খুন হন। পরে তুরস্ক জানায়, কনস্যুলেটের ভেতর সৌদি কর্মকর্তারাই খাসোগিকে খুন করেন, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। তবে প্রথম দিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়। যদিও সৌদির ভাষ্য, খাসোগি দুবৃত্তদের হাতে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সৌদি আরব ১১ জনকে বিচারের মুখোমুখি করেছে।