জীবনী নিয়ে অস্বস্তিতে সঞ্জয়

0
104
‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউড’স ব্যাড বয়’ বইয়ের প্রচ্ছদ
‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউড’স ব্যাড বয়’ বইয়ের প্রচ্ছদ

‘প্লিজ, এটি আমার জীবনী নয়।’ বললেন সঞ্জয় দত্ত। নিজের জীবনী নিয়ে অস্বস্তিতে আছেন এই বলিউড তারকা। সঞ্জয় দত্তের জীবনের গল্প নিয়ে হিন্দি ছবি ‘সঞ্জু’ যখন চারদিকে হইচই ফেলে দিয়েছে, ঠিক তখনই আলোচনায় এসেছে তাঁকে জীবনী নিয়ে লেখা বই ‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউডস ব্যাড বয়’। লেখক ইয়াসির ওসমান। সম্প্রতি বেরিয়েছে বইটি।

ইয়াসির ওসমান টিভি সাংবাদিক, চলচ্চিত্র বিশ্লেষক। রাজেশ খান্না আর রেখাকে নিয়ে তাঁর লেখা দুটি বই খুব আলোচিত হয়। বই দুটিতে রয়েছে বলিউডের এই দুজন বরেণ্য তারকার জীবনের না জানা অনেক গল্প। রুপালি জগতের অন্ধকার দিক। রয়েছে কাস্টিং কাউচ প্রসঙ্গ। বই দুটি প্রকাশের পর তা প্রত্যাখ্যান করেন রাজেশ খান্না আর রেখা। পরে অনেকেই বলেছেন, রাজেশ খান্না আর রেখাকে নিয়ে যে দুটি বই বেরিয়েছে, সেখানে যেসব ঘটনার কথা বলা হয়েছে, তার প্রায় সবই সত্যি। কিন্তু এই দুজন তারকা হয়তো তা সামনে আনতে চাননি, হয়তো এসব ঘটনা সামনে চলে আসায় তাঁদের বিব্রত হতে হয়েছে।

একই ঘটনা ঘটেছে সঞ্জয় দত্তকে নিয়ে লেখা ‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউডস ব্যাড বয়’ বইটি নিয়েও। এ বছর ১৬ মার্চ প্রকাশিত হয় বইটি। একসময় বইটির লেখক ইয়াসির ওসমানের সঙ্গে সঞ্জয় দত্তের ছিল দারুণ সম্পর্ক। তাঁরা একজন আরেকজনকে বন্ধু মনে করতেন। আর তাঁদের বন্ধুত্ব ছিল দীর্ঘ সময়। এ কারণে সঞ্জয় দত্তের জীবনের প্রায় সব ঘটনা তাঁর জানা। নানা অস্বস্তিকর বিষয় নিয়ে সঞ্জয়ের সঙ্গে কথা বলেছেন। বইটি লেখার আগে কিছু কিছু বিষয় নিয়ে নাকি কথা বলেছেন আবারও।

বইটি বের হওয়ার পর চিত্র পাল্টে যায়। এখন ইয়াসির ওসমানের নাম পর্যন্ত শুনতে চান না সঞ্জয় দত্ত। এই বইয়ের ব্যাপারে যখন সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেছে, তিনি বলেছেন, ‘এসব ঠিক না।’ ‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউডস ব্যাড বয়’ বইকে একেবারেই নিজের ‘অনুমোদিত জীবনী’ বলছেন না সঞ্জয় দত্ত। তবে বইটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপও নেননি। এদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে সংবাদমাধ্যম জানতে পেরেছে, বইটি বের হওয়ার পর থেকে খুব অস্বস্তিতে আছেন সঞ্জয় দত্ত। ‘সঞ্জু’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় এখন তিনি নিজেকে কিছুটা চাপমুক্ত মনে করছেন।
‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউডস ব্যাড বয়’ বইয়ে কী আছে? আর কেনই-বা অস্বস্তিতে আছেন সঞ্জয় দত্ত? সঞ্জয়ের ড্রাগ আসক্তির কথা সবার জানা। তবে এই বইয়ে একটা অংশ পড়লে যে-কেউ চমকে যাবেন। এখানে বলা হয়েছে, ড্রাগের ডোজ ‘ইনজেক্ট’ করার পর সঞ্জয় দত্ত বাবা সুনীল দত্তের সামনে এসে বসেছেন। তখন তাঁর মনে হচ্ছে বাবা মোমের মতো গলে যাচ্ছেন! বাবার বলা কথাগুলো অর্থহীন চিৎকারের মনে হয়েছে তাঁর। জীবনে প্রথম দিকে যে সম্পর্কগুলো ভেঙেছে, তার জন্য সঞ্জয়ই দায়ী। আরও দায়ী সঙ্গীদের ব্যাপারে তাঁর অমনোযোগ আর নির্মম আচরণ। সঞ্জয় যখন যুক্তরাষ্ট্রে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি, তখন নিজের ছবির শুটিং ফেলে তাঁর কাছে ছুটে যান টিনা মুনিম। কিন্তু সঞ্জয় তাঁর সঙ্গে রূঢ় ব্যবহার করেন। সঞ্জয় কখনো নিজের বদ অভ্যাসগুলো বদলানোর চেষ্টা করেননি। তাঁর প্রথম স্ত্রী রিচা শর্মার ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। তিনি যখন হাসপাতালে, তখন মাধুরীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন সঞ্জয়। জানতে পেরে অসুস্থ রিচা চিকিৎসা বাকি রেখেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরে আসেন। কিন্তু সঞ্জয় তাঁকে পাত্তা দেননি। বরং তাঁকে ডিভোর্সের কাগজ পাঠিয়ে দেন। সঞ্জয় নাকি নিজেকে মুসলমান বলে ভাবতেন। অন্তত অর্ধেক মুসলমান। যেহেতু তাঁর মা নার্গিস ছিলেন মুসলমান। বাবরি মসজিদ ভাঙার পর দাঙ্গায় মুসলমানদের ওপর অত্যাচার ক্ষুব্ধ হন তিনি।

জানা গেছে, ‘দ্য ক্রেজি আনটোল্ড স্টোরি অব বলিউডস ব্যাড বয়’ বইটি এরই মধ্যে অনেকেই পড়েছেন। তা নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে।

LEAVE A REPLY