জেবিবিএ’র বৈশাখী মেলায় বাঙালী সংস্কৃতির জয়গান

0
15

বাংলাদেশ রিপোর্ট ‘গত বছরের দীনতা আর গ্লানি ভুলে গিয়ে মঙ্গল আর সম্ভাবনাকে ধারণ করে ১৪২৬ কে রাঙিয়ে তুলি, রঙিন করে তুলি আমাদের জীবন। আর এভাবেই আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে বহুজাতিক এ সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে আমরা তুলে ধরি গোটাবিশ্বে’-এ আহ্বান জানিয়ে নিউইয়র্কে বাংলা নতুন বছরকে বরণে জেবিবিএ’র অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা।
গত ১৩ এপ্রিল শনিবার অপরাহ্নে বাঙালী চেতনা ও সংস্কৃতির পরিপূরক পোশাকে শত-সহ¯্র নারী-পুরুষের ‘শুভ নববর্ষ’ আর ‘এসো হে বৈশাখ-এসো এসো’ গানের তালে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায় বৈশাখ বরণের এ উৎসবে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ।
ক্যাটালিনা তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘বাঙালীরা গড়েছেন এই জ্যাকসন হাইটসে এবং কুইন্সকে। বাঙালীর এই এগিয়ে চলার মধ্য দিয়েই যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে চলছে। তাই বাঙালীদের নতুন বছরকে আমিও স্বাগত জানাচ্ছি। শুভ নববর্ষ।’
মেলার শুরুতে বেলুন উড়িয়ে পান্তা-ইলিশের আমেজে বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী করা হয়। এসময় মঞ্চে আরও ছিলেন ফোবানার নির্বাহী সচিব জাকারিয়া চৌধুরী, ৩৩তম ফোবানার হোস্ট কমিটির কনভেনর নার্গিস আহমেদ, খান’স টিউটারিয়ালের প্রেসিডেন্ট নাঈমা খান, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারী আব্দুল কাদের মিয়া, জেবিবিএ’র সভাপতি দিদারুল ইসলাম দিদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান কামরুল, মেলা কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ আহমেদ ও সদস্য সচিব মোহাম্মদ হোসেন বাদশা, যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহাদ সোলায়মানর, যুগ্ম সদস্য সচিব নূরল আমিন বাবু, প্রধান সমন্বয়কারী জে মোল্লা সানী, জেবিবিএ’র পরিচালনা কমিটির এম রহমান, হারুন ভূঁইয়া, রফিক আহমেদ ও রুহুল আমিন সরকার, উপদেষ্টা আসেফ বারি টুটুল, ড. রফিক আহমেদ ও কমিউনিটি লিডার আব্দুল কাদের চৌধুরী শাহীন।
এবারের মেলা প্রসঙ্গে জেবিবিএ’র সভাপতি দিদারুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি কামরুজ্জামান কামরুল বলেছেন, ‘জ্যাকসন হাইটসে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সে তাগিদেই আমরা প্রতি বছর এ মেলা করে আসছি। এর মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ক্রেতা সাধারণের সম্প্রীতির বন্ধন আরও সংহত হয়। একইসঙ্গে বাঙালী-চেতনা উজ্জীবিত রাখতেও বিরাট ভূমিকা রাখে এ ধরনের কর্মসূচি।
মেলার আপ্যায়ন কমিটির শাহ চিশতী এবং শাহ জে চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কমিটির মোশারফ হোসেন, সেলিম হারুন, কামরুজ্জামান বাচ্চু ছাড়াও এ মেলার নেপথ্য কর্মীদের মধ্যে আরও ছিলেন বিপ্লব সাহা, মনসুর এ চৌধুরী, মোহাম্মদ কাশেম, সাকিল মিয়া, সাজ্জাদ হোসেন প্রমুখ।
বৈশাখী আমেজে সঙ্গীত পরিবেশন করেন কামরুজ্জামান বকুল, রোকসানা মির্জা, রাজিব, বাউল ফখরুল, চন্দন চৌধরী, নৃত্য পরিবেশন করে সামিয়া চৌধুরী এবং সিমরান খান। টানা ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বৈশাখ বরণের এ উৎসবে মিশে গিয়েছিলেন ভিনদেশীরাও। ফলে বাঙালীর এ আয়োজন ঝলসে উঠে জ্যাকসন হাইটসের পথে প্রান্তরে। পুরো অনুষ্ঠানে যন্ত্রীরা ছিলেন মাটি ব্যান্ডের পার্থ, শফিক, রিচার্ড, সায়েম, মাহফুজ। মেলা শেষে সকলের মধ্যে বিনামূল্যে পান্তা-ইলিশসহ রকমারি খাবার পরিবেশন করা হয়।