জেল হত্যা দিবসে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের দোয়া ও আলোচনা সভা

18

গত ৩ রা নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ। বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিশোধ নেবো আমরা ২০৪১ সালে। যদি জিয়া-এরশাদ ২১ বছর দেশ চালাতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৬৩ বছর চালাবে। কারণ নেত্রী ১০০ বছরের একটি মেগা প্রকল্প নিয়েছেন। ২১ সালে আছি, ৪১ সালেও আমরা থাকবো ইনশাল্লাহ। রক্ত দিয়ে অর্জিত এ স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার চালানোর অধিকার আর কারো নেই। আমরা দেব না।নিউইয়র্কে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এ কথা বলেন। এটিই আমাদের গণতন্ত্র, জননেত্রীর গণতন্ত্র এবং এভাবেই চলতে হবে। আজকে যদি আমরা রাশিয়া, চীন ও সৌদী আরবের কথা কেউ বলতে না পারি। কিসের গণতন্ত্র আমাদের। কোনটা অসুবিধা আছে আমাদের। এ সরকারের আমলে আইন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুই বারের প্রধানমন্ত্রীও আজ আইনের বাইরে নয়। আইনের আওতায় জেল খাটছেন। খাটতেই হবে। অন্যায় করলে অন্যায়ের ফল তাকে একদিন পেতেই হবে।
স্থানীয় সময় গত ৩ রা নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ। সংগঠনের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের পরিচালনায় এ অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফুল আলম সিদ্দিকি। মুনাজাতে জাতীয় চার নেতা সহ ১৫ই আগস্টের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও শামসুদ্দিন আজাদ, উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান ও আবদুল হাসিব মামুন, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম, মুক্তিযোদ্ধা বিষযক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, ত্রাণ ও পূনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গির হোসেন, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, উপ দপ্তর সম্পাদক আবদুল মালেক, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন আক্তার দীবা, সবিতা দাস, কার্যকরী সদস্য মুজিবুল মাওলা, আলী হোসেন গজনবী, জহিরুল ইসলাম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সভাপতি মোর্শেদা জামান, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মোরশেদ আলম, কফিল চৌধুরী, এন আমিন, নুরুল আফসার সেন্টু, মো. জসিম উদ্দিন ভূইয়া, অধ্যাপক আনিসুর রহমান, হারুনুর রশিদ, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস আক্তার বিউটি, নুরুন্নাহার গিনি, সেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, মুক্তিযোদ্ধা নূরে আলম বাবু, যুক্তরাষ্ট্র কৃষক লীগের সভাপতি হাজী নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাস, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নুরুজ্জামান সর্দার, যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিক লীগের সভাপতি কাজী আজিজুল হক খোকন, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের আহবায়ক তারিকুল হায়দার চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক হুমায়ুন চৌধুরী, যুবলীগ নেতা সাইফুল্লাহ ভূইয়া, আকমল খান, ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, কৃষক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির বক্তব্যে ড. সিদ্দিকুর রহমান আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সোনার বাংলায় পরিণত করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে বিস্ময়কর উন্নতি বাংলাদেশকে আজ নি¤œমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরীত করেছে। আগামী ২০২১ এ মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ এ উন্নত দেশে পরিণত করতে আওয়ামীলীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে হবে। এজন্য আসন্ন নির্বাচনে প্রবাসীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা বিনম্র শ্রদ্ধায় জাতীয় চার নেতার রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, সামাজিক ও কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে বলেন, সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সদ্য স্বাধীন দেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বক্তারা বলেন, ১৫ আগস্ট, ৩রা নভেম্বর এবং ২১ শে আগস্ট একই সূত্রে গাঁথা। বিচার বিভাগীয় কমিশনের গঠনের মাধ্যমে এসব হত্যাকান্ডের নেপথ্য নায়কদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই এসব জঘন্যতম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

বক্তারা বলেন, জাতীয় এ চার নেতা আপোষহীন আদর্শিক রাজনীতির উজ্জল নক্ষত্র। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাদের আদর্শ অনুকরণ-অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে জেল হত্যা দিবস পালনের সার্থকতা।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা জাতীয় চার নেতা স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, বেসামরিক সরবরাহ, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী এএইচএম কামরুজ্জামানকে ১৯৭৫ সালের ৩ রা নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।