দাবি আদায়ে বিএনপির ৭ দফা

34

আগামী জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৭ দফা দাবি ১২টি লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিএনপি।

রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত জনসভা থেকে নতুন এ কর্মসূচির ডাক দেয় দলটি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এসব দাবি আদায়ে ৩ অক্টোবর বুধবার দেশের সব জেলায় সমাবেশ এবং জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি এবং পরের দিন ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সব মহানগরীতে সমাবেশ ও বিভাগীয় প্রধান বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কর্মসূটি ঘোষণা করেছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এভাবে ধাপে ধাপে বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে। আর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।

৭ দফা ও ১২ লক্ষ্য

বিএনপির ৭টি দাবীর মধ্যে রয়েছে-

১। বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার

২। জাতীয় সংসদ বাতিল করা

৩। সরকারের পদত্যাগ ও সকল রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা

৪। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সশস্ত্রবাহিনী নিয়োগ নিশ্চিত করা,

৫। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার বিধান নিশ্চিত করা

৬। নির্বাচন নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পযবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সম্পূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া পযবেক্ষণে তাদের উপর কোনো প্রকার বিধি-নিষেধ আরোপ না করা।

৭। ক) দেশের সকল বিরোধী-রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তি, সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার

খ)  নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনী ফলাফল চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত না হওয়া পযন্ত চলমান সকল রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা ও নতুন কোনো ধরনের মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা

গ) পুরনো মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার না করার নিশ্চয়তা

ঘ) কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের দাবীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, সাংবাদিকদের আন্দোলন এবং সামাজিক গণমাধ্যমে স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ছাত্রছাত্রী, সাংবাদিক সহ সকলের বিরুদ্ধে দাযেরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তির নিশ্চয়তা।

১২ দফা লক্ষ্য

১। রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে একটি ন্যায় ভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন করা।

২। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দলীয়করণের ধারার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

৩। রাষ্ট্র ক্ষমতায় গ্রহণযোগ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।

৪। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা নিশ্চিত করা।

৫। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবচ দেশপ্রেমিক স্বশস্ত্র বাহহিনীকে আরও আধুনিক, শক্তিশালী ও কার্যকর করা।

৬। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

৭। কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমনের লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও অধিকতর কার্যকর করা।

৮। সকল নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা  ও মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা বিধান করা।

৯। “সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরীতো নয়”- এই মূলনীতিকে অনুসরণ করে জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থ সংরক্ষণ করে স্বাধীনতা পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ সমূহের  সাথে পারস্পরিক এবং সৎ প্রতিবেশী সুলভ বন্ধুত্ব ও সমতার ভিত্তিতে ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ, বিনিয়োগ ইত্যাদি ক্ষেত্রে আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা।

১০। কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় না দেয়া এবং কোনো জঙ্গী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেয়া।

১১। ক) নিম্ন আয়ের নাগরিকদের মানবিক জীবনমান নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন-মজুরি নির্ধারণ ও আয়ের বৈষম্যের অবসানকল্পে সমতাভিত্তিক নীতি গ্রহণ করা এবং সকলের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার-ভাতা, সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্যবীমা চালু, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, শিল্প-বাণিজ্য ও কৃষির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিদ্যুত ও জ্বালানী সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ও আধুনিক করা।

খ) স্নাতক পর্যায় পর্যান্ত অবৈতনিক এবং উচ্চশিক্ষা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে জীবনমুখী শিক্ষানীতি চালু করা, প্রযুক্তি-বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ে মানব সম্পদের উতকর্ষ সাধন করা, জাতীয় উন্নয়নের সকল ক্ষেতে নারীর  অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জীবন, সম্ভ্রম ও সম্পদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

গ) তৈরি পোশাক শিল্পের অব্যাহত উন্নয়ন এবং শিল্প ও রফতানী খাতকে বহুমুখী করে উন্নয়নের ধারাকে গ্রামমুখী করা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ, ঝুঁকিমুক্ত ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিভার বিকাশ ও তাদের আধুনিক চিন্তা চেতনাকে জাতীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর জন্য শিক্ষা, তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিখাতকে অগ্রাধিকার দেয়া।

১২। সকল প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসানে জাতীয় ঐক্যমত গঠন করা।