নিউইয়র্কে চাঁন রাতে জ্যাকসন হাইটসে ‘লেইস ফিতা’র নাচ-গান

0
139
শেষ রোজার ইফতার শেষ করে, কে থাকে ঘরের ভিতরে? বৃদ্ধ-যুবা-শিশু-কিশোর ঈদের চাঁদ দেখার তরে ঘরের বাহিরে বের হয়ে পরে । না। সবাই মিলে চাঁদ দেখে ঈদের বার্তা আর আমেজ নিয়ে ঘরে ফেরার দিন এখন আর আগের মতো নেই। চাঁন রাত এখন নিজেই এক উৎসবে পরিনত হয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে রাতটি কিভাবে উদযাপিত হয় বিস্তারিতভাবে জানা নাই। তবে এই রাতে যে কেউ নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আসলেই বুঝতে পারবেই চাঁন রাত একটি ¯^তন্ত্র উৎসবের রাত্রি। লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ এবং ৭৪ স্ট্রিট ও তার আশে-পাশ। আক্ষরিক অর্থেই পা ফেলার জায়গা থাকে না মানুষেল কোলাহলে। অন্তত ১০০ জন তরুণী এই অঞ্চলে মেহেদি পড়ানোর জন্য বসেন রাস্তার দুই পাশে। ছোট টেবিলকে কেন্দ্র করে মেহিদি পড়ার জন্য নারীরা লাইন ধরে থাকেন। ২০১৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে চাঁন রাতে আনন্দের আরেক নাম ‘লেইস ফিতা’। 
লেইস ফিতা একটি স্ট্রিট র‌্যাপ গানের দল । সহজে বহনযোগ্য একটি এমপি ফায়ারে গানের মিউজিক বাজিয়ে তার সঙ্গে তারা কন্ঠ দেয়। গানের তালে চলে বডি রকিং। দলের নেতৃত্বে আছেন গায়ক, বডি রকার এবং স্ট্রিট ডেন্সার নীল মিয়া। নীলকে র‌্যাপে সহযোগীতা করেন সেলিম এবং রুবেল। বডি রকিং তথা ডেন্সে থাকেন রাজ কিলারি, ফরিদ খন্দকার,  গাফ্ফার, রুবেল এবং তাহমিদ। এছাড়াও দলের যে কোনো আয়োজনে আরো ১০ জন সদস্য তাদেও সঙ্গে থাকেন। 
বড় আয়োজনে দলটিা বাদ্যযন্ত্রও নিয়ে আসেন। এবারের চাঁন রাতে ডাইভারসিটিতে আছে তাদের নাচ-গানের আয়োজন। সাউন্ড বক্স এবং পিয়ানো- গিটার বাজিয়ে রাত ১টা পর্যন্ত চলবে র‌্যাপ গান ও বডি রকিং। নীল মিয়া গিটার বাজিয়ে গান গাইবেন তার সঙ্গে রাজ বাজাবেন পিয়ানো। দলটি সাধারনত আমেরিকার বিখ্যাত র‌্যাপ গায়ক ফিফটি সেন্ট ও এম এন্ড এম এর গান গেয়ে থাকেন । দলের সক্রিয় সদস্যরা  ফিফটি সেন্ট ও এমএন্ডএম এর পোশক, মেকাপ-গেটাপ এবং জীবনাচরন অনুসরণ করে।  দলটি কোনো বংলা গান করে না। এর কারণ হিসেবে নীল মিয়া বলেন, আমরা দুঃখ লাইক করি না। বাংলা গানে শুধু দুঃখ আর দুঃখ। জীবন একটাই। আমরা জীবনটা উপভোগ করতে চাই। আমরা বাংলা সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশকে ভালোবাসি। 
এমন গানের দলের কেমন সমালোচক এবং শুভানুধ্যায়ী আছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে নীল মিয়া বলেন, তরুন প্রজন্ম আমাদেও ভালোবাসে। বিভিন্ন মেলায় অনেকে আমাদের আমন্ত্রন জানান গান ও বডি রকিংয়ের জন্য। আমরা নিজের খরচেই এসকল অনুষ্ঠানের আয়োজন এবং অংশগ্রহন কওে থাকি।  প্রবীনরা সাধারনত আমাদের দর্শক না তারপরও তারা মাঝে মধ্যে কটু কথা শুনান। আমি উত্তরে একটি কথাই বলি, আই পে মাই রেন্ট। 

LEAVE A REPLY