নিউইর্কৈর বাংলাদেশীরা শেষ শ্রদ্ধা জানালো বীর মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দেব

17

বর্ণমালা ডেস্ক: পাকিস্তানী হানাদারদের পৈচাশিক আক্রমণের হাতে থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে রক্ষা করতে যেসব অসীম সাহসী বীর তরুণেরা প্রাণবাজী রেখে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছিলেন, তাদের একজন  সিলেটের শ্রীমঙ্গলে জন্মগ্রহনকারী বীর যোদ্ধা দিলীপ কান্তি দেব, এক পুত্র-এক কন্যাসহ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে চলে গেলেন না ফেরার দেশে । গত পহেলা নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোর রাতে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ায় নিজ বাসায় তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন ।

মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ দেব-এর এই হঠাৎ চলে যাওয়াতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, এবং যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের পুনর্গঠনকালের ঐতিহাসিক সময়ের অন্যতম এক সচেতন কারিগরের প্রস্থান হলো।

একাত্তরের মার্চ মাসে উত্তাল ছাত্র-গণআন্দোলনের সময়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরে যুদ্ধের জন্য যারা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন এবং যুদ্ধের প্রথম প্রহরে প্রতিরোধের দেয়াল তৈরি করেছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ দেব তাদের অন্যতম। সাতই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধূর ঐতিহাসিক ভাষণ ও মুক্তির ডাক, পঁচিশে মার্চের কালো রাত, ছাব্বিশে মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা, একাত্তরের গণহত্যা, এবং ষোলই ডিসেম্বরের মুক্তি অর্জনের ইতিহাস যতদিন মানুষ মনে রাখবে, ততদিন বাংলার মানুষকে দিলীপ দেব-এর মতো মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ঋণ স্বীকার করতেই হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় দিলীপ দেব রণাঙ্গণে তাঁর অসংখ্য সহযোদ্ধাদের হারিয়েছেন এবং দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তিকালেও কোন লোভ-লালসা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে তিনি নতি স্বীকার করেননি। ব‍্যক্তিগত জীবনে দিলীপ কান্তি দেব প্রগতিশীল আদর্শে বিশ্বাস করতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল, সৎ ও আপসহীন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি সক্রিয় ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত হয়ে পড়েছিলেন যার জন্য তাকে জেল-জুলুম ও শারীরীক নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে এবং পরিণতিতে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছে। তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের এস্টোরিয়াতে সপরিবারে বসবাস করতেন।

আমরা গভীর শোক ও বেদনা, এবং আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে বাংলাদেশ নির্মিতির অন্যতম কারিগর মৃত্যুঞ্জয়ী মুক্তিযোদ্ধা দিলীপ কান্তি দেবকে প্রবাসের ও বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষ থেকে শেষ অভিবাদন জানাচ্ছি, সাথে সাথে তাঁর পুত্র-কন্যাসহ পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। 

মোহাম্মদ চৌধুরী (রানা), ড. জিয়াউদ্দীন আহমদ, সুব্রত বিশ্বাস, নবেন্দু দত্ত, কামাল আহমদ, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল জলিল, সৈয়দ সিদ্দিকুল হাসান, আনসার হোসেন চৌধুরী, মোহাম্মদ ইকবাল, সৈয়দ বশারত আলী, সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, কাজী আতিকুজ্জামান, মিনহাজ আহমদ, সীতেশ ধর, জুয়েল চৌধুরী, জয়দেব দে, শাহাব উদ্দীন প্রমূখ।