নিউইয়র্ক ষ্টেট যুব দলের প্রতিবাদ সভায় নেতৃবৃন্দ খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে দুর্বার আন্দোলনের আহবান

0
14

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নিউইয়র্ক ষ্টেট বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার রাজনীতির শিকার হয়ে এক বছরের অধিক সময় ধরে বিনা অপরাধে জেলে বন্দী রয়েছেন। আন্দোলন ছাড়া ফ্যাসিস্ট সরকারের কাছ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। নেতৃবৃন্দ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহবান জানান।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির এক প্রতিবাদ সভা গত ৭ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি ও ঢাকা জেলা বিএনপির প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম স্বপন এবং পরিচালনা করেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল আজাদ ভুইয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাহের শামীম, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ স¤্রাট, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু, যুক্তরাষ্ট্র যুব দলের সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র যুব দলের সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ আহমদ, বিএনপি নেতা মার্শাল মুরাদ, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, ঢাকা জেলা বিএনপির কার্যকরি কমিটির সদস্য এম বাসেত রহমান, যুব দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মাহমুদ, অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী আশরাফুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা মীর মশিউর রহমান, টেক্সাস বিএনপির সভাপতি বশির আহমেদ, পেনসিলভেনিয়া বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর খান হারুণ, বিএনপি নেতা হেলাল উদ্দিন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ আবুল হাশেম, শাহাদাত হোসেন, বিএনপি নেতা এবাদ আহমেদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জমান সেলিম।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সহ সভাপতি সেলিম আহমেদ, বি এম বাদশা, মহিলা নেত্রী রাশেদা আহমেদ, তাহমিনা আক্তার, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রচার সম্পাদক মাইন উদ্দিন, নিউজার্সি বিএনপির সাহিত্য সম্পাদক শাহীন আহমেদ, নিউইয়র্ক স্টেট যুব দলের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ খান, সদস্য ইউছুপ আলী, বিএনপি নেতা ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী, শামসুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা সায়েম আহমেদ, শাহবাজ আহমেদ প্রমুখ।
নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি না দেয়ার জন্য কুপরামর্শ দিয়েছেন, তারা আজ বিএনপিতে নেই। কিন্তু সর্বনাশ যা করার করেছেন। তারা বেগম খালেদা জিয়াকে বুঝালেন যে ডিপ্লোমিসির মাধ্যামে তাকে ক্ষমতায় আনবেন, কিন্তু আজকে তারা কোথায়? বেগম জিয়া কোথায়? মঈনুদ্দিন এবং ফখরুদ্দিন চেষ্টা করেছিলেন বেগম জিয়াকে দেশ ত্যাগ করার জন্য। কিন্তু তিনি যাননি। তিনি বলেছেন, এটাই আমার দেশ, মৃত্যু হলে এখানেই হবে। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আজকে অবস্থার জন্য নিজেকেও অপরাধী মনে হয়। তবে তারা নেতৃত্বে ছিলেন, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে? তিনি বলেন, শেখ মুজিব এবং শেখ হাসিনা অপোষের রাজনীতি করেছে, বেগম জিয়া কোন দিন আপোষ করেননি। এখন কোন অনশন নয়, এখন আন্দোলন হওয়া উচিত স্বেচ্ছায় কারা বরণ। কেন এই কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে না?
আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, বিএনপির এখন দুর্দিন, এই দুর্দিনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে। তিনি বলেন, আজকে সারা বাংলাদেশকে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা কারাগারে পরিণত করেছে। তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়াকে বিনা অপরাধে জেলে রেখেছে। আন্দোলনের অংশ হিসাবে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, কিন্তু ভোট চুরি করে শেখ হাসিনা বিএনপিকে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত। কথা বলার অধিকার নেই। এই সরকার অনির্বাচিত সরকার, দুর্নীতিবাজ সরকার- ভোট চোর সরকারকে কোন রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়নি, এটা আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছি।
আব্দুল লতিফ স¤্রাট বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন বাংলাদেশের মানুষের জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী আর শেখ হাসিনা হচ্ছেন ভোট চোর প্রধানমন্ত্রী।
জিল্লুর রহমান জিল্লু বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সব সময়ই ঐক্যবদ্ধ। স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার পতনে আমরা সবাই একমঞ্চে থেকে আন্দোলন করছি। তিনি বলেন, কমিটি না থাকলেও আমরা আন্দোলন করে যাচ্ছি, আগামীতেও করবো। তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার পতন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া আমরা ঘরে ফিরে যাবো না।
বদরুজ্জমান সেলিম বলেন, ভোট চোর প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। উন্নয়নের দোয়া তুলে গুম চলছে, তাদের একমাত্র শক্তি হচ্ছে পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এই বাহিনী ছাড়া শেখ হাসিনার ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি যায়নি, যে কারণে ভোট কেন্দ্রে মানুষ যায়নি। এটাই হচ্ছে সুখের খবর। বাংলাদেশের মানুষ শেখ হাসিনা সরকারকে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্ত করতে হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।