নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ

0
86

নিরাপদ ক্যাম্পাস ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।

৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রোকেয়া ও বেগম শামসুন্নাহার হলের প্রায় শতাধিক ছাত্রী মিছিলে অংশ নেয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তি, দ্রুত কোটা সংস্কারের ওপর প্রজ্ঞাপন জারি এবং হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খরচ বহনের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে ছাত্রলীগের একটি দল টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাশে মানববন্ধন করে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ও বামপন্থী ছাত্ররা ক্যাম্পাসকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অপরাজেয় বাংলার পাশে একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন থেকে বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী মশিউর রহমানের নিঃশর্ত মুক্তি এবং তার ওপর হামলাকারীদের যথাযথ শাস্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে প্রচলিত ব্যবস্থায় ৫৬ শতাংশ আসনে কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটা। ১০ শতাংশ নারীদের জন্য, জেলাভিত্তিক ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্ধ রয়েছে ১ শতাংশ কোটা।

এ কোটা ব্যবস্থার সংস্কার দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ৮ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।

২৭ জুন, বুধবার জাতীয় সংসদে কোটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কিছু বক্তব্য নতুন করে সংশয়ের জন্ম দিয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের। ওই দিন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ সংসদে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার দাবি করলে এ বক্তব্যের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরে ৩০ জুন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলন করতে গেলে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় আহত হন ১১ জন। ১ জুলাই আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামলেও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানের কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অনেককে মারধর করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। পরে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা জানান, পর দিন তারা পতাকা মিছিল করবেন। পুলিশ আটক করে কয়েকজন আন্দোলনকারীকে। পর দিন ২ জুলাই শহিদ মিনারে অবস্থান নিলে আবারও হামলা চালায় ক্ষমতাসীন দলের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনটি। ওই সময় কয়েকজন ছাত্রীও তাদের নিগ্রহের শিকার হন। কয়েকজন সংগঠককে গ্রেফতার দেখানো হয়। এ দিন রাতে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি পর্যালোচনা, সংস্কার বা বাতিলের বিষয়ে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে সরকার।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিকদের প্রতিবাদ সমাবেশ’ করতে ৩ জুলাই বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। মানববন্ধনে দাঁড়াতে যাওয়া ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক, সংস্কৃতিকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়।

LEAVE A REPLY