নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তোড়জোড় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : রিজভী

23

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র ‍যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে সংলাপ চলছে, সেই সংলাপে এখনও পর্যন্ত সংকট সুরাহা না হওয়ার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার তোড়জোড় করছে নির্বাচন কমিশন, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এমনকি নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মতামতকেও অগ্রাহ্য করা হচ্ছে। গণমাধ্যমেও এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় ‘একদিকে আলোচনা অন্যদিকে আন্দোলন, এটি আমার বোধগম্য নয়’- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, এখনও তো সেই অর্থে জোরালো আন্দোলন শুরু হয়নি। আপনি সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসন করতে পারলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলনের পথে যাবে না। সংকট নিরসনের চাবিকাঠি আপনার হাতে।

তিনি আরো বলেন, শনিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তফসিল পেছানোর আবেদন করা হলেও ইসির সচিব তা অস্বীকার করে বলেছেন, তারা কোনো চিঠি পাননি। এ সপ্তাহের মধ্যেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান। আমি নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলতে চাই, নিজ আইনসঙ্গত ক্ষমতাবলে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিন। রাজনৈতিক সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা থেকে বিরত থাকুন।

এ ছাড়াও সারা দেশে নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার পুলিশ বাছাই করছে দাবি করে বিএনপির ‍যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, বিভিন্ন থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা নির্বাচনী কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছে। পুলিশ তালিকা ধরে ধরে কারা সরকার দলীয় সমর্থক তাদের নাম বাছাই করছে নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে। এমনকি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গিয়ে যাচাই করছে, ফোন করে জিজ্ঞাসা করছে আপনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য। যদি কোনো শিক্ষক বিএনপি সমর্থক হয়ে থাকে তাকে বলা হচ্ছে আপনার নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের দরকার নেই। জনগণ এমন কর্মকাণ্ডকে ভোট কারচুপির পূর্ব প্রস্ততি বলেই মনে করছে। সরকারের হুকুমেই এমন নজিরবিহীন কর্মকাণ্ড চলছে বলে জনগণ বিশ্বাস করে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার পর এখন দেশজুড়ে গণগ্রেপ্তারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। সর্বব্যাপী নিপীড়নের ধারায় বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় বিএনপির সক্রিয় নেতা-কর্মীদের বেছে বেছে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। গণগ্রেপ্তারের সঙ্গে চলছে রমরমা অর্থ-আদায় বাণিজ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-দপ্তর সম্পাদক বেলাল আহমেদ, মুনীর হোসেন প্রমুখ।