পৃথিবী এবং জীবন বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সমন্বিত প্রদক্ষেপ গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানালেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী

0
5

বাংলাদেশ রিপোর্ট ॥ পৃথিবী এবং জীবন বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে সমন্বিত প্রদক্ষেপ গ্রহণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোর আহ্বান জানালেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আজ জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ইকোসকের উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন (এফএফডি) ফোরামে কান্ট্রি স্টেটমেন্ট প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের স্বীকার যা এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্থ করছে।
এছাড়া এলডিসি থেকে উত্তরণকারী দেশগুলোর টেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে নীতিগত বিষয়গুলো পুন:বিবেচনা করে সহযোগিতার পদক্ষেপসমূহ অবারিত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। ‘টেকসই উত্তরণ’ অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “এলডিসি থেকে উত্তরণ আমাদের জাতীয় আকাক্সক্ষার একটি। বাংলাদেশ দ্রুততার সাথে টেকসই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ গ্রহণ করেছি এবং এই রূপকল্পদ্বয়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ অন্তর্ভুক্ত করেছি”। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে ২০১৪ সালে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৫ ভাগ যা বেড়ে ২০১৮ সালে ৮.১৩ ভাগে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু গড় জাতীয় আয় ২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ২৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। সমন্বিত ও সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নীতি গ্রহণ করে আমরা দারিদ্রের হার ২০০৬ সালের ৪০% থেকে ২০১৮ সালে ২১.৪% এ নামিয়ে এনেছি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ষোলো কোটি মানুষের অভিন্ন লক্ষ্য হল ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করা, যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান”। মিয়ানমার থেকে বাস্ত্যুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের উন্নয়ন পদক্ষেপে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী তাদের টেকসই প্রত্যাবাসন এবং এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব, সাধারণ পরিষদের সভাপতি, সদস্য দেশ সমূহ থেকে আগত মন্ত্রীসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সংস্থা সমূহের প্রতিনিধিবর্গ, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক, জাতিসংঘ ও এর সহযোগী সংস্থাসমূহের কর্মকতাবৃন্দ, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিগণ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, সিভিল সোসাইটি ও ব্যবসায়ী সেক্টরের প্রতিনিধিবর্গসহ স্থানীয় প্রতিনিধিগণ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৪র্থ এফএফডি’র এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। ইউএনডিপির প্রশাসক আসিম স্টেইনার এবং গ্রীণ ক্লাইমেট ফান্ড এর নির্বাহী পরিচালক ইয়ানিক গ্লেমারেক এর সাথেও এ সময় বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। ইকোসকের এফএফডি ফোরামের ফলোআপ টেকসই উন্নয়ন লক্ষসমূহ বাস্তবায়নে একটি বৈশ্বিক আন্ত:সরকারি প্রক্রিয়া। ইকোসকের এই ৪র্থ উন্নয়নের জন্য অর্থায়ন ফোরাম আজ শুরু হয়েছে যা আগামী ১৮ এপ্রিল শেষ হবে।