প্রতি মাসে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ৬০টি ব্যাংক শাখা!

0
46

যুক্তরাজ্যে প্রতি মাসে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন ব্যাংকের অন্তত ৬০টি শাখা। যুক্তরাজ্যভিত্তিক কনজ্যুমার গ্রুপ ‘হুইচ?’ ব্যাংকিং খাতের জন্য এটিকে ‘ভয়াবহ আশঙ্কাজনক’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সালের শেষ পর্যন্ত ২৮৬৮টি ব্যাংক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৬০ ব্যাংক শাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চলতি বছর এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখিত সময়ে রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড বা আরবিসির ৩৫০টি, ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংকের ৬৩৮টি, এইচএসবিসি ব্যাংকের ৪৪০টি শাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খাতের এ চিত্রকে ‘আশঙ্কাজনক’ হিসেবে উল্লেখ করছে ‘হুইচ?’। তারা বলছে, মানুষ ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত সেবা না পেয়ে ব্যাংকবিমুখ হয়ে পড়ছে। কিন্তু ব্যাংকগুলো এ দাবি স্বীকার করছে না। তারা বলছে, মানুষ অনলাইন ব্যাংকিংয়ে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। ফলে তারা গ্রাহক হারাচ্ছেন।

হুইচ? অঞ্চলভেদে ব্যাংকিং খাতের আলাদা আলাদা চিত্র প্রকাশ করেছে। তাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডে এ চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। ২০১৮ সালের শেষ নাগাদ শুধু স্কটল্যান্ডেই ৩৬৮টি শাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া সাউথ ইস্টে ৩৬১টি, নর্থ ওয়েস্টে ৩৫৩টি, সাউথ ওয়েস্টে ৩২৭টি ব্যাংক শাখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

হুইচ?-এর বিশ্লেষক গ্যারেথ শ বলেন, ‘ব্যাংকগুলো বাণিজ্যিক লাভের কথা চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। কিন্তু গ্রাহকদের জন্য নিজেদের দরজা বন্ধ করার আগে গ্রাহকদের চাহিদাকে স্বীকৃতি দেওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।’

২০১৫ সালে ব্যাংকগুলো ‘অ্যাকসেস টু ব্যাংকিং স্ট্যান্ডার্ড’ নামের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুসারে ব্যাংকগুলো তাদের শাখা বন্ধ করার আগে গ্রাহকদের বিকল্প মাধ্যম খুঁজে বের করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করবে। কিন্তু হুইচ? বলছে, গ্রাহকদের কিছু কিছু সেবা দেওয়া হলেও শাখাগুলো থেকে গ্রহকরা যেসব সেবা পেত, শাখা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রাহকরা একই মানের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অনেক গ্রাহক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা পায় না অথবা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারে ইচ্ছুক নয়।

আরবিসির একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৪ সাল থেকে আরবিসির শাখা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এ সময়ে তাদের মোবাইল ট্র্যানজেকশন বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। এ মুখপাত্র বলেন, ‘গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত তাদের ব্যাংকিংয়ের ধরন পরিবর্তন করছে। আমাদেরও পরিবর্তন করতে হবে। তাই আমরা আমাদের ব্যাংকিং নিয়ে নতুন করে ভাবছি। গতানুগতিক ইট-কাঠের ব্যাংকিং থেকে বের হয়ে আমরা ভিন্ন উপায়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

যুক্তরাজ্যের ব্যাংকিং খাতের প্রতিষ্ঠান ‘ইউকে ফাইন্যান্স’-এর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘ব্যাংকিং সময় ও কর্মীসংখ্যা কমিয়ে আনা থেকে শুরু করে সব ধরনের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়ে গেলে তবেই একটি ব্যাংক শাখা বন্ধ করা হয়।’

ব্যাংকগুলো শুধু যে তাদের শাখাগুলোই বন্ধ করে দিচ্ছে তা-ই নয়, বরং তারা নগদ অর্থ লেনদেনও কমিয়ে এনেছে।

হুইচ? জানিয়েছে, শুধু জানুয়ারি মাসেই তারা যুক্তরাজ্যের অন্তত দুই হাজার লোকালয় চিহ্নিত করেছে, যেখানে ব্যাংকের এটিএম মেশিনের সেবা ভালো ছিল না এবং এটিএম মেশিনগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। তবে ব্যাংকগুলো বলছে, তাদের প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি এটিএম মেশিন আছে। তাই তারা শুধু যেখানে দরকার, সেখানেই এটিএম মেশিন রাখছে।

LEAVE A REPLY