প্রসঙ্গ : বাংলাদেশ সোসাইটি

14

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের সর্ববৃহৎ এবং সর্বদলীয় সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক। প্রবাসীদের কাছে এটি ‘আব্রেলা সংগঠন বা মাদার সংগঠন’ হিসেবেও পরিচিত। কেউ কেউ বাংলাদেশ সোসাইটি-কে প্রবাসের ‘মিনি পার্লামেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িতও করেন। যাই হোক ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি তার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে এসে পৌছেছে। আজ সোসাইটির স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে, নিজস্ব ভবন হয়েছে, নিজস্ব অফিস রয়েছে। সদস্য/ভোটার সংখ্যা ২৭,৫১০জন। যা সোসাইটির ইহিতাসে রেকর্ড। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি প্রবাসে শুধু বাংলাদেশী নয়, আমেরিকার মূলধারায় গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তাই তো সোসাইটির নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এখন নিজের পকেটের লাখো ডলার ব্যয় করতেও কুন্ঠাবোধ করেন না।
কিন্তু বাংলাদেশ সোসাইটির এবারে নির্বাচন ঘিরে সৃষ্ট মামলা-মোকদ্দমা প্রবাসীদের প্রাণের সংগঠনটিকে নতুন করে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। কেননা, বছর শেষে সোসাইটির বতর্দমান কমিটির বহাল থাকবে কি থাকবে না, সদস্য/ভোটার-এর মেয়াদ থাকবে কি থাকবে না, নির্বাচন কমিশন থাকবে কি, থাকবে না তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাপাশি নির্বাচন ঘিরে মামলার তারিখ পরিবর্তিত হয়েছে। মামলার নতুন তারিখ ২৭ নভেম্বর। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে সহজেই এই মামলার নিষ্পত্তি হচ্ছে না। যদি হতো তাহলে মামলার প্রথম দিনেই অর্থাৎ ৩০ নভেম্বর হতে পারতো। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে সোসাইটির নির্বাচন!
নিউইয়র্ক ভিত্তিক বার্তা সংস্থা ইউএনএ-এর খবরে বলা হয়েছে: বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের দুজন সদস্য প্রার্থীর মনোনয়ন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বাতিল হওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের মনোনয়ন বৈধতা এবং অপর একটি প্যানেলের সিনিয়র সহ সভাপতির মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবীতে সোসাইটির নির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ জারি জন্য সংশ্লিটরা গত ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আদালতের স্মরণাপন্ন হন। মামলা দায়েরের পরদিন অর্থাৎ ১৯ অক্টোবর শুক্রবার এই মামলার বিরুদ্ধে আপীলের ফলে আদালত ৩০ অক্টোবর মঙ্গলবার মামলার নতুন তারিখ ধার্য করেন। এদিকে সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সচেতন প্রবাসীরা সোসাইটি নিয়ে মামলা-মোকদ্দার বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না এবং এতে সোসাইটি বড় অংকের বারতি খরচের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২১ অক্টোবর রোববার বাংলাদেশ সোসাইটির দ্বি-বার্ষিক (২০১৯-২০২০) নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ছিলো। নির্বাচনে দু’টি প্যানেল সহ কার্যকরী পরিষদের ১৯টি পদে ৩৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এজন্য নিউইয়র্কের ৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা সহ নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্ততিও ছিলো।
সোসাইটির নির্বাচন বিষয়ে প্রথম আদালতের স্মরণপন্ন হন সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী। তিনি গত সেপ্টেম্বর মাসে কুইন্স সুপ্রীম কোর্টে একটি মামলা করেন (ইনডেক্স নং ৭৮৫০/২০১৮। ওসমান চৌধুরীর মামলা নিষ্পত্তি হতে না হতেই বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান এস এম জামাল ইউ আহমেদ এবং সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ-কে বিবাদী করে গত ১৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার কুইন্স সুপ্রীম কোর্টে মামলা করেন (ইনডেক্স নং ৭৮০৭/২০১৮) আলী আকবর, জিআর চৌধুরী ও শফিকুল ইসলাম নামের তিন সদস্য। এদের মধ্যে দুজন ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সদস্য প্রার্থী ছিলেন, ত্রুটির কারণে যাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিলো। সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই সোসাইটির ফান্ড থেকে ৬০ হাজার ডলারের মতো ব্যয় হয়েছে।
তবে মাননীয় আদাললতের রায়ের ওপরই সোসাইটির নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। আর নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল ইউ আহমেদ জনি জানিয়েছেন। এদিকে সোসাইটির গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলতি বছর অর্থাৎ আগামী ৩১ ডিসেম্বর সোসাইটির সদস্য/ভোটার এবং কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে সোসাইটি নতুন সংকটে পড়তে পারে বলেও আশংকা করা হলেও আদালতের সিদ্ধান্তের উপর সব কিছু নির্ভর করছে সোসাইটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
যাই হোক। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবারই আইনী ব্যবস্থা নেয়া অধিকার রয়েছে। কিন্তু যেখানে আইন-কানুনে উর্দ্বে উঠে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করা সম্ভব, সেখানে আদালতের স্মরণপন্ন হওয়া কারো জনৗই সুখকর নয়। বাংরাদেশ সোসাইটি সকল প্রবাসীর সংগঠন। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাগ-ক্ষোভ ভুলে নির্বাচন ঘিরে সোসাইটিতে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়ে একটি সুন্দর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করুণ, সোসাইটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান। সত্যিকারেই বাংলাদেশ সোসাইটি হোক আপনার, আমার সংগঠন।