প্রার্থিতা ফিরে পেতে আরও ২৩৪ জনের আপিল

13

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে বাদ পড়া আরও ২৩৪ জন প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই আপিল করেন। প্রথম দিন (৩ নভেম্বর) আপিল করেছিলেন ৮৪ জন। বাদ পড়া প্রার্থীরা আজও আপিল করার সুযোগ পাবেন।

দ্বিতীয় দিনে রংপুর বিভাগের ২৭টি, রাজশাহীর ২২টি, ঢাকার ৬৮টি, বরিশালের ১২টি, সিলেটের ১৫টি, ময়মনসিংহের ১৬টি, খুলনার ১৮টি ও চট্টগ্রাম বিভাগের ৫৬টি আপিল জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে।

এ ছাড়া বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান দলটির আরেক প্রার্থী আক্তারুজ্জামানের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।

গত ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। সারাদেশে দাখিল করা তিন হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর দুই হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।

দ্বিতীয় দিনের আপিলকারীদের মধ্যে রয়েছেন নাটোর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ করিম আব্বাসী, জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোহেল রানা, মেজর অব. মনজুর কাদের প্রমুখ।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঈনুল ইমলাম খান তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নমিনেশন সাবমিটের শেষ দিকে আমার সিরিয়াল আছে বলে জানানো হয়। পরে রিটার্নিং অফিসার বললেন, আপনার নমিনেশনের সঙ্গে যে দলীয় মনোনয়নপত্র সেটা আপনাদের ওয়েবসাইটে থাকা বিএনপি মহাসচিবের স্বাক্ষরের সাথে মিল নেই। তারা আমাকে সেটা দেখালেন। আমি বললাম- স্বাক্ষর হুবহু না হলেও সেটা মোটামুটি কাছাকাছি। তখন আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয় আপনার কাছে আর কোনো কাগজ আছে কি না? তখন আমি বলি মহাসচিবকে ফোন করেছি এবং তিনি লাইনে ছিলেন। আমি তখন বলি যিনি (মহাসচিব) স্বাক্ষর করেছে তার সাথে কথা বলেন। তখন উনি (রিটার্নিং কর্মকর্তা) বললেন এটা কোর্ট, আমি কারও সঙ্গে কথা বলব না।’

মঈনুল ইসলাম খান বলেন, ‘তখন আমি বলি, আমি কীভাবে প্রমাণ করব বলেন। তখন আমাকে বলা হয়, আপনাকে ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হলো। কিন্তু তখন বাজে ১১টা ৫০ মিনিট। তার মানে ১০ মিনিট। আমি সাথে সাথে পার্টি অফিসে যোগাযোগ করি। পরে ডিসি সাহেবের ইমেইল এবং ফ্যাক্সে পার্টি অফিস থেকে চিঠি এলো। আমি এসে আবার (সময় দেওয়া ১০ মিনিটের মধ্যে) বললাম আমার কাগজ প্রিন্ট হচ্ছে, আমার সময়টা বাড়িয়ে দেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত দিয়ে দিয়েছি এটা আর হবে না।’

কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপির আরেক প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুছের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার সব কাগজপত্র ঠিক ছিল, কিন্তু যেখান থেকে নোটারি করানো হয়েছে সেই আইনজীবীর নোটারি করার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়।’ তিনি ওই আসনের চারবারের সংসদ সদস্য বলে জানান।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু নির্বাচন কমিশনের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘হাজী সেলিম ও পঙ্কজ দেবনাথ আমার সঙ্গেই কারাগারে ছিলেন। তারাও দুদকের মামলায় দ-িত। তারা নির্বাচন করতে পারলে আমি কেন করতে পারব না।’