বাংলাদেশির ৭ বছর কারাদণ্ড

0
187
কামাল হুসেন
কামাল হুসেন

• দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ কামাল হুসেন ।
• কামাল হুসেন ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন।
• কামাল হুসেনের পাঠানো হাজারো বার্তা শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের বাড়িতে বসে বিভিন্ন দেশ থেকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পক্ষে যোদ্ধা সংগ্রহের চেষ্টার দায়ে আইএসের এক বাংলাদেশি সমর্থককে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আইএসে যোগ দিতে তাঁর পাঠানো আমন্ত্রণ পাওয়া বসনিয়ার এক যুবকের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।

পুলিশ বলেছে, দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত এই বাংলাদেশির নাম মোহাম্মদ কামাল হুসেন (২৮)। আইএসের এই সমর্থক জঙ্গিগোষ্ঠীটির পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের লক্ষ্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের বার্তা প্রেরণ সেবা ব্যবহার করে হাজার হাজার বার্তা পাঠিয়েছেন। গত বছরের মার্চে বসনিয়ায় বসবাসরত এক যুবক (২৩) ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তরে ই-মেইল বার্তায় বলেন, আইএসে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি অপরিচিত এক ব্যক্তির কাছ থেকে ফেসবুকে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এ ই-মেইল পাওয়ার পর পুলিশ আইএসের ওই সমর্থকের তৎপরতা উদ্‌ঘাটনে সক্ষম হয়।

পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশি নাগরিক কামাল হুসেন ভিসার মেয়াদ পার হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। বসবাস করছিলেন পূর্ব লন্ডনের একটি বাড়িতে। আইএসের যোদ্ধা সংগ্রহের চেষ্টার দায়ে কিংসটন ক্রাউন কোর্ট তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদে উৎসাহিত করার দুটি ধারায় ও নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থন করার একটি ধারায় তাঁকে অভিযুক্ত করেছেন জুরিরা।

মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাস দমনবিষয়ক কমান্ডের প্রধান ডিন হেডন বলেন, একজন বিবেকবান ব্যক্তি তাঁর বুদ্ধি খাটিয়ে সন্দেহজনক কিছুর ব্যাপারে জানানোর পর তদন্ত শুরু হয়। কামালের পাঠানো আমন্ত্রণের বিষয়টি ওই ব্যক্তি এড়িয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা না করে আমন্ত্রণের একটি স্ক্রিনশট নিয়ে দ্রুত যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপরই পুলিশ কামালকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।

পুলিশ বলেছে, কামাল হুসেনের পাঠানো হাজারো বার্তা শনাক্ত করেছে গোয়েন্দারা। এগুলোর মধ্যে ছিল ফেসবুকের কিছু পোস্টও, যেখানে তিনি লোকজনকে আইএসে যোগ দিতে উৎসাহ দিয়েছেন। বার্তাগুলোর মধ্যে আইএসের নেতা আবু বকর আল-বাগদাদির বক্তৃতাও রয়েছে।

ডিন হেডন বলেন, এই উগ্রবাদী ব্যক্তি আইএসে অনুসারীদের নিয়োগে সচেষ্ট ছিলেন। বার্তাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি আইএসের সমর্থক ছিলেন। পুলিশের সন্ত্রাস দমনবিষয়ক কমান্ডের সদস্যরা গত বছরের ৩০ জুন তাঁকে গ্রেপ্তার করেন।

LEAVE A REPLY