ভারতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

0
18

ভারতের ১৭তম লোকসভার নির্বাচন-২০১৯ এপ্রিল ১১ থেকে মে ১৯, ২০১৯-এ শেষ হওয়ার কথা এবং মে ২৩, ২০১৯-এ ফলাফল ঘোষণার কথা। এ নির্বাচন হবে ইভিএম ব্যবহারে এবং এবারই প্রথম লোকসভা নির্বাচনে ইভিএমের (ঊঠগ : ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে ভিভিপিএটি ((ঠঠচঅঞ : ভোটার ভ্যারিফাইভ পেপার ট্রেল)। প্রায় ১০.৩৫ লাখ ভোটকেন্দ্রে ১৭ লাখ ইভিএমের মাধ্যমে ৯০ কোটি ভোটারের ভোটদানের ব্যবস্থা করা হলেও এ পর্যন্ত গড়পড়তা ৬০ শতাংশ সর্বোচ্চ ভোট পড়েছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনে, যে নির্বাচনে দক্ষিণপন্থি-কট্টরপন্থি হিন্দুবাদীদের সমর্থনে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল। ভারতের তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ সময় ভারতের কেন্দ্রীয়, প্রাদেশিক এবং সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ভারতের এবারের নির্বাচন ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের মতো একটি বৃহৎ উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দেশের যে চারিত্রিক পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা গেছে সেখান থেকে বের হওয়ার প্রয়াসই বড় চ্যালেঞ্জ। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় সব রাজ্যেই বিরোধীরা আগের তুলনায় শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে। এ চ্যালেঞ্জ শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্যই নয়, প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভারত সরকার কেন্দ্রীয় সাবেক সচিব সুনীল আরোরা (অপর দুই কমিশনারের একজন ভারতের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের সাবেক সচিব অশোক লাভাসা এবং অপরজন ভারতীয় রেভিনিউ সার্ভিসের সুশিল চন্দ্রা)। নির্বাচন কমিশন রাজ্য পর্যায়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার জন্য ৩৬ জন রাজ্য ও ইউনিয়ন টেরিটরিতে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) নিয়োজিত করে। এরা প্রায় সবাই ভারতীয় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ সদস্য। রাজ্য সিইওর দায়িত্বে স্ব স্ব রাজ্যের লোক ও বিধানসভার নির্বাচন পরিচালিত হয়। সিইওদের জবাবদিহিতা শুধু নির্বাচন কমিশনের কাছে। ভারতীয় রাজনৈতিক প-িতদের মতে, এবারের নির্বাচন ইদানীংকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এর অন্যতম প্রধান কারণ বলে বহু ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, নরেন্দ্র মোদি যেসব নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তা তিনি পূরণ করতে পারেননি। দুর্নীতি বহুগুণে বেড়েছে, অর্থনৈতিক উন্নতি হয়নি, বেকারত্ব বেড়েছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে খর্ব করার প্রয়াস নেওয়ার উদ্যোগ প্রতীয়মান হয়েছে। তদুপরি ভারতকে কট্টরপন্থি হিন্দুবাদীরা দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি পরিবর্তিত করে হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টায় রত। ২০১৪ সালের নির্বাচনে প্রায় সমগ্র হিন্দি ভাষাভাষী অঞ্চলে হিন্দুবাদীদের উত্থানের এবং কংগ্রেসের ভুলগুলোর কারণে মোদির নেতৃত্বে বিজেপি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিজয় পেয়ে প্রধান বিরোধী কংগ্রেসকে একেবারে অর্থহীন করতে পেরেছিল। তবে বিজেপির অপশাসন ও হিন্দুবাদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির কারণে কংগ্রেসের পালে পুনরায় হাওয়া লেগেছে। ভারতের গত নির্বাচনের পর বিজেপির যে শক্তিশালী উত্থান হয়েছিল সে অবস্থায় এখন ওই দল নেই। বর্তমানে ভারতে যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে সেটাকে অনেকে মনে করছেন মোদি বনাম অন্যরা। এবারের নির্বাচনে যে ধরনের আক্রমণাত্মক এবং উত্তাপ ছড়ানো হচ্ছে তেমনটা নিকট-অতীতে দেখা যায়নি। মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা অনেকাংশে কমে গিয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে আতঙ্কিত ছিল বিজেপি। তবে কাশ্মীরের পুলওয়ামা এবং পরে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বালাকোটে আক্রমণের দাবি ও পাকিস্তানের বর্ডারে খ- যুদ্ধ নিয়ে জাতীয়তাবাদের অহমকে ব্যবহার করতে পেরেছেন মোদি, যদিও সম্পূর্ণভাবে তেমনটা করতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। তথাপি বিজেপি দেশের নিরাপত্তা বিষয়টিকে জাতীয়তাবাদী চেতনার অহম হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে ‘মডেল কোড অব কন্ডাক্ট’ বা আচরণবিধির উলঙ্ঘনের বারবার অভিযুক্ত হচ্ছে। অনেক অভিযোগ অতীব গুরুতর এবং অভাবনীয় যা সামলাতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে। মোদির জাতীয়তাবাদের অহমে বড় ধাক্কা হতে পারে পাক-যুদ্ধ বিমান এফ-১৬ বিধ্বস্ত করার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের নাকচ করার প্রেক্ষাপটে। যাহোক অতীতে ভারতের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং ফলাফল নিয়ে কখনই কোনো প্রশ্ন ওঠেনি। ভারতীয় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও কমিশনকে আফ্রো-এশিয়ান গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মডেল হিসেবে গণ্য করা হয় এবং দারুণ এক স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিভিন্ন দেশে অনুকরণীয়। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অথবা নিরপেক্ষতা নিয়ে ভারতে কখনই নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়নি। যদিও এবার অনেকেই মনে করেন, কমিশনের কয়েকটি কর্মকা-ে কিছু কিছু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। এমনই বিশ্লেষণ কিছুটা পাওয়া যায়। এর উদাহরণ হিসেবে অনেক বিশেষজ্ঞ ৭ ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার যৌক্তিকতা নিয়ে, বিশেষ করে কয়েকটি রাজ্যে যেখানে শাসক জোটের প্রভাব কম উদাহরণস্বরূপ পশ্চিম বাংলাসহ আরও কয়েকটি রাজ্যে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মাত্র ৫ ধাপে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছিল। পশ্চিম বাংলায় এপ্রিল ১১, ২০১৯ মোট ৪২টি আসনের মধ্যে দুটি আসন কুচবিহার ও আলীপুরদুয়ারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রথম ধাপে মাত্র দুটি আসনে নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞই প্রশ্ন তুলেছেন। উত্তরবঙ্গের এই দুই জায়গায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য থাকলেও অনেকের মতে, ওই অঞ্চলে বিজেপি বেশ শক্ত অবস্থান গড়তে পেরেছে। তবে এই অভিযোগের যৌক্তিকতা কতখানি তা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ফলাফল প্রকাশ হওয়া পর্যন্ত। আরও অভিযোগ উঠেছিল, প্রধানমন্ত্রীকে এককভাবে মিডিয়া ব্যবহারে সময় দেওয়ার কারণেই মার্চ ১০, ২০১৯ রবিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার তফসিল ঘোষণা করেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ যে, নির্বাচন কমিশন আরও আগে তফসিল ঘোষণা করার কথা বললেও প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারের সরকারি খরচে সফর এবং মিডিয়াকে ব্যবহার করার সময় দেওয়ার কারণে রবিবার (ছুটির দিনে) সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছে। নির্বাচন কমিশন এমন অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। এ ধরনের ছোটখাটো অভিযোগ এর আগে কমিশনের সদস্যদের নিয়ে উঠলেও ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার কাঠামো এবং ঐতিহাসিক কারণে বৃহত্তর আঙ্গিকে কমিশনের পক্ষে পক্ষপাতিত্বের কোনো অবকাশ নেই। ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় প্রতি জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম) ডিক্ট্রিক্ট নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব যেমন পালন করেন, তেমনি প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়, যারা সাধারণত অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের সদস্য এবং তাদের তদারকিতে থাকেন সিইও। কাজেই এত বড় ব্যবস্থাপনায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করার সুযোগ নেই। কোনো সন্দেহ নেই যে, ভারত রাষ্ট্রের কাঠামো এবং রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্থাগুলোর ব্যাপকতা ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কারণে কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব সম্ভব নয়। এসব সংস্থার উদ্দেশ্য যে আইন এবং আইনের প্রয়োগ যে ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতাকে গ-ির মধ্যে রাখা তাতে সন্দেহ নেই। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কিছু কিছু দুর্বলতার অনুযোগ থাকলেও নির্বাচনকালে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন যে নিয়ন্ত্রক তা বর্তমান নির্বাচন কমিশন, এর সহযোগী এবং বিচার বিভাগ দেখাতে শুরু করেছে। মাত্র কয়েকদিন আগে রাজস্থানের গভর্নর উত্তরপ্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়ের বিরুদ্ধে ‘মডেল কোড অব কন্ডাক্ট’ লঙ্ঘন করে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দকে অভিযোগ করে ব্যবস্থা নিতে বলেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি সরকারকে গভর্নরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পত্র দিয়েছেন। ‘বল’ এখন ভারত সরকারের কোটে। এটি একটি অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভারতের কোনো রাজ্যপাল বা গভর্নরের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তার সঙ্গে তাদের করণীয় করেছে, এখন সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোদি সরকারের জন্য এটি এক কঠিন পরীক্ষা। গভর্নর নিজে পদ থেকে সরে না দাঁড়ালে অথবা সরকার ব্যবস্থা না নিলে বিষয়টি সরকারের বিপক্ষে আদালতেও গড়াতে পারে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করে সতর্ক করে পত্র দিয়েছে। যোগী আদিত্যনাথের বিরুদ্ধে প্রমাণিত অভিযোগ যে, তিনি নির্বাচনী প্রচারণাকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ‘মোদিজির আর্মি’ বলেছেন। তথ্যে প্রকাশ যে, সেনাবাহিনীর তরফ থেকেও এর প্রতিবাদ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এমনকি ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংসকারী মিসাইলের সার্থক পরীক্ষার পর নির্বাচনকালীন প্রধানমন্ত্রীর মিডিয়া ব্যবহারে জাতির উদ্দেশে ভাষণ আচরণভঙ্গ করেছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন। স্মরণযোগ্য যে, ভারতের মডেল কোড অব কন্ডাক্ট কোনো আইন বা বিধি নয়, তথাপি এর ব্যত্যয় মামলাযোগ্য অপরাধ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের শক্তির পেছনে শুধু সংবিধান এবং অন্যান্য আইনই নয়, রয়েছে আদালতের মতো সহায়ক শক্তি। নির্বাচনের সময় ভারতীয় আদালতগুলো নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা না নিলেও নির্বাচনী সহায়ক হিসেবে মডেল কোড অব কন্ডাক্টের আওতায় মামলার শুনানি করে থাকে। ইতোমধ্যেই মোদির জীবনীভিত্তিক ছায়াছবিÑ বিবেক অবেরয় অভিনীত ছবি প্রদর্শনীর বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে প্রদর্শন থেকে বিরত রেখেছে। আগামী এপ্রিল ৮, ২০১৯-এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও এ ছবির ছাড়পত্রের বিষয়ে আগেই নির্বাচন সেন্সর বোর্ডের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিয়ে অনেকের কিছু নেতিবাচক ধারণা থাকলেও ভারতের নির্বাচনী ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এমনই ব্যাপক, বিশেষ করে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রের নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের পক্ষপাত আচরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। যদিও অনেক সময় নানা ধরনের অভিযোগ অনেক আঞ্চলিক দল করে থাকে। ইদানীং পশ্চিম বাংলার চারজন শীর্ষ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তার রদবদল এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনা থেকে বাদ দেওয়ায় ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেও নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। স্বাধীনতার পর প্রথম নির্বাচন থেকেই ভারতীয় নির্বাচন কমিশন যেভাবে নিজেদের স্বাধীনতা এবং স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা স্থাপন করেছে তারই ধারাবাহিকতার কারণে ভারতীয় নির্বাচন কমিশন ‘দারুণ শক্তিশালী স্বাধীন’ সংস্থা বলে স্বীকৃত। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতি এবং অন্যান্য কমিশনারের স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা সাংবিধানিকভাবে না থাকলেও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা, আইনের প্রয়োগ নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। অতীতেও ভারতীয় নির্বাচনের ফলাফল সব দলই মেনে নিয়েছে এবং সে ধারাবাহিকতাই বজায় থাকবে, কারণ ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের ও রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা রয়েছে। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মযজ্ঞ সিংহভাগ উন্নয়নকামী গণতান্ত্রিক দেশের, বিশেষ করে এই উপমহাদেশের নির্বাচন কমিশনের জন্য মডেল হিসেবে বিবেচিত। এই উপমহাদেশের বাংলাদেশসহ কাগজে-কলমে অনেকাংশে ভারতীয় কমিশনের চেয়ে, আইনের দিক থেকে শক্তিশালী হলেও প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে। শুধু আইনের দিক থেকে শক্তিশালী হলেই নয়, জনগণের আস্থাভাজন হতে হলে নির্মোহভাবে আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন না করতে পারলে নির্বাচন কমিশন শক্ত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হতে পারে না। য় ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : কলাম লেখক, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, বর্তমানে অনারারি ফেলো এসআইপিজি-এনএসইউ