ভেনেজুয়েলা : বাকি কূটনীতিকদেরও প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

16

বাংলাদেশ রিপোর্ট ॥ এবার ভেনেজুয়েলা থেকে বাকি কূটনীতিকদেরও প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অপরিহার্য নয় এমন কূটনীতিকদের কারাকাস থেকে দেড় মাস আগে ফিরিয়ে নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এদিকে, টানা পঞ্চম দিনের মতো বিদ্যুৎবিভ্রাট চলাকালে গত সোমবার ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নতুন করে গণবিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাঁর অনুরোধে জরুরি অবস্থা জারি করেছে পার্লামেন্ট। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত সোমবার রাতে বলেন, ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের দূতাবাসে নিয়োজিত থাকা বাকি কূটনীতিকদের যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে নেবে। ওই দিন সকালে পম্পেও কিউবা ও রাশিয়াকে একহাত নেন। কারণ, দেশ দুটি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে এখনো সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অপরিহার্য নয় এমন কূটনীতিকদের ভেনেজুয়েলা ত্যাগ করতে বলেছিল। সেই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় থাকা মার্কিন অভিবাসীদেরও দেশ ত্যাগের অনুরোধ করেছিল। সোমবারও ভেনেজুয়েলার বেশির ভাগ এলাকা বিদ্যুৎ–সংযোগহীন ছিল। দেশটিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চলা বিদ্যুৎবিভ্রাটের জন্য প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। কিন্তু মাদুরোর অভিযোগ অগ্রাহ্য করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও এর জন্য দায়ী করেছেন ভেনেজুয়েলার সমাজতন্ত্রকে। পম্পেও সাংবাদিকদের বলেন, ভেনেজুয়েলার দেশবাসীকে মাদুরো ভালো জীবন ও সমাজতান্ত্রিক স্বর্গ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি সমাজতন্ত্র নিশ্চিত করেছেন, আর তা করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছেন তিনি। এদিকে গুয়াইদো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গত সোমবার বলেন, ‘আগামীকাল (মঙ্গলবার) বেলা তিনটায় ভেনেজুয়েলার সবাই সড়কে থাকবেন।’ বিক্ষোভে বাধাদানে বিরত থাকতে গুয়াইদো সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। গুয়াইদো এ সময় দেশে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করাতে পার্লামেন্টকে অনুরোধ জানান এবং তাঁর অনুরোধ গৃহীত হয়। এর ফলে সংকটে জর্জরিত দেশটিতে ত্রাণ প্রবেশের পথ সুগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী এখনো মাদুরোর অনুগত থাকায় কার্যত জরুরি অবস্থা কার্যকরের সুযোগ নেই গুয়াইদোর।এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের জন্য কলম্বিয়া ও ব্রাজিল সীমান্তে প্রায় এক মাস ধরে ২৫০ টন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা আটকে আছে। মাদুরোর অনুগত সেনাবাহিনী সেই ত্রাণ দেশে প্রবেশ করতে দেয়নি। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ ৫০টির বেশি দেশ স্বঘোষিত অর্ন্তবরতীকালীন প্রেসিডেন্ট গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে।