মদ্রিচ-রাকিটিচরা ফাইনাল খেলার দাবিদার ছিল

0
58
মাশরাফি বিন মুর্তজা।
মাশরাফি বিন মুর্তজা।

প্রতিটি ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার গল্প লিখেছে ক্রোয়েশিয়া।দেখতে দেখতে শেষ হওয়ার পথে রাশিয়া বিশ্বকাপ। আর মাত্র একটি ম্যাচের অপেক্ষা। যে ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্ব পেয়ে যেতে পারে নতুন চ্যাম্পিয়ন। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ক্রোয়েশিয়া হয়তো সেদিকেই দৃষ্টি দিয়ে রেখেছে। এই পথে অবশ্য তাদের সামনে কঠিন বাধা। শিরোপা যুদ্ধে ক্রোয়েশিয়াকে মুখোমুখি হতে হবে দারুণ ছন্দে থাকা ফ্রান্সের। তবে শিরোপা নিষ্পত্তির ম্যাচে যাই হোক, মদ্রিচ-রাকিটিচরা ফাইনাল খেলার দাবিদার ছিল।

পুরো আসরজুড়ে অসাধারণ ফুটবল খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল, প্রতিটি ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার গল্প লিখেছে তারা। যে কারণেই নিজেদের ফুটবল ইতিহাস পাল্টে এখন শিরোপা স্বপ্ন দেখছে ক্রোয়েশিয়া।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার গতি দেখেই বোঝা গেছে, তারা ফাইনাল খেলার জন্য কতটা ক্ষুধার্ত ছিল। যোগ্য দল হিসেবেই রাশিয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে তারা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তারা যে ফুটবল খেলেছে, সেটা ফাইনালে খেলতে পারলে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতে নেওয়ার সম্ভাবনা আছে ক্রোয়েশিয়ার।

সেমিফাইনালের লড়াইয়ে শুরুতেই ক্রোয়েশিয়াকে পিছিয়ে পড়তে হয়েছিল। ইংল্যান্ডই শাসন করে খেলেছে। প্রথমার্ধে ইংলিশদের দাপট সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে ক্রোয়েশিয়াকে। তবে আমার মনেহয় শুরুর ওই গোলটিই ক্রোয়েশিয়াকে পুরো ম্যাচের হিসাবটা বলে দিয়েছে। পিছিয়ে থাকায় অন্যরকম তাড়া কাজ করেছে তাদের মধ্যে। যেটা ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে ভালোভাবে টিকিয়ে রাখে।

সমতায় ফেরার কিছুক্ষণ আগে থেকে ক্রোয়েশিয়া যেভাবে খেলেছে, সত্যি মুগ্ধ হয়েছি। আর সমতায় ফেরার পর তো ম্যাচ নিজেদের করে নেয় তারা। ইংল্যান্ডকে পাগল করে তুলেছিল মদ্রিচ, রাকিটিচ, পেরসিচ, মানজুকিচরা। ওই সময় মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ডের জালে কয়েকবার বল পাঠিয়ে দেবে তারা।

ইভান পেরিসিচের পারফরম্যান্স আমাকে মুগ্ধ করেছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে পেরিসিচ যেভাবে খেলেছে, এক কথায় অবিশ্বাস্য। শেষের দিকে ক্রামারিচ পাসটা দিয়ে দিলে আরও একটি গোলের দেখা হয়তো পেতে পারত পেরিসিচ। আগের ম্যাচগুলোর মতো মদ্রিচ ও রাকিটিচও দারুণ খেলেছে। পুরো মাঠজুড়ে ছিল এই দুজন। পাশাপাশি মানজুকিচও ভরসার প্রতিদান দিয়েছে।

এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে আমার কাছে অন্যরকম মনে হয়েছে। পুরো মাঠে ভালো খেললেও ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগে গিয়ে অগোছালো হয়ে পড়েছে তারা। বিশেষ করে বলব রাশিয়া বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ছয় গোল করা হ্যারি কেইনের কথা। বেশ কয়েকটি মিস করেসে সে। ম্যাচ হেরে তার এই ভুলগুলোর দাম দিতে হয়েছে ইংল্যান্ড দলকে। এ ছাড়া রহিম স্টার্লিংও অনুজ্জ্বল ছিল। সহজ সুযোগ হাতছাড়া করতে দেখা গেছে তাকেও।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ম্যাচটি গ্রুপ পর্বের সেই লড়াইয়ের মতোই, যে ম্যাচে আমার মনে হয়েছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ইচ্ছাকৃতভাবে হেরেছে তারা। ওই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও বিশেষ পাওয়ার কিছু নেই দুই দলের। তবে এখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এড়ানোর হিসাব নেই। স্বাভাবিক খেলাই খেলবে ইংল্যান্ড। তারপরও এই ম্যাচে বেলজিয়ামকে এগিয়ে রাখতে চাই আমি।

LEAVE A REPLY