মাইগ্রেন সমস্যার কারণ ও করণীয়

0
39

মাথাব্যথা এক ভয়াবহ সমস্যা। যার হয়, সেই বোঝেন বেদনাটা কেমন। মাথাব্যথা হওয়ার কারণ অনেক। মাইগ্রেন সমস্যা সেগুলোর একটি। এ ব্যথা হয় মাথায়। ব্যথা শুরু হয় মাথার যে কোনো এক পাশ থেকে। অনেক সময় পুরো মাথায় ব্যথা করে। এতে মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহে সমস্যা দেখা দেয়। সব মাথাব্যথা মাইগ্রেন নয়। দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কে টিউমারসহ বিভিন্ন কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।
তবে মাইগ্রেন ব্যথা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময় সম্ভব। চিকিৎসকের অধীনে এবং নিয়মিত চেকআপের মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসা করলে রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ রোগ হওয়ার কারণ এখনো অজানা। তবে বংশগত বা অজ্ঞাত কোনো কারণ এর পেছনে থাকতে পারে। মাইগ্রেনে পুরুষের চেয়ে নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়। নারীদের ঋতুস্রাবের সময় মাথাব্যথা বাড়ে।
চকোলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খেলে, জন্মবিরতিকরণ পিল, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম, অনিদ্রা, দীর্ঘক্ষণ টিভি দেখা, কম্পিউটারে কাজ করা, মোবাইলে কথা বলার কারণে এ রোগ হতে পারে। মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিউজ্জ্বল আলো এ রোগের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। মাথাব্যথা, বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ না থাকা, বিরক্তিবোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনো কখনো অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় মাথাব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
এ ব্যথা প্রতিরোধে করণীয় হলো-খেতে হবে ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত, আলু ও বার্লি; বিভিন্ন ফল, বিশেষ করে খেজুর ও ডুমুর; সবুজ, হলুদ ও কমলা রঙের শাকসবজি; ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি; তিল, আটা ও বিট; আদার টুকরো বা রস দিনে দুবার জিঞ্চার পাউডার পানিতে মিশিয়ে পান করলেও উপকার পাওয়া যায়। তবে এড়িয়ে চলতে হবে চা, কফি ও কোমলপানীয়, চকোলেট, আইসক্রিম, দই, দুধ, মাখন, টমেটো ও টক জাতীয় ফল, রুটি, পাস্তা, ব্রেড, আপেল, কলা ও চীনাবাদাম, পেঁয়াজ ইত্যাদি। তবে এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। মাইগ্রেন চিকিৎসায় তাৎক্ষণিক এবং প্রতিরোধক ওষুধের পাশাপাশি কিছু উপদেশ মেনে চললে রোগীর ভালো থাকা সম্ভব।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক
নিউরো সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়