মাসুদ আজহারকে ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী’ ঘোষণায় চীনের ভেটো

13

পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের প্রধান মাসুদ আজাহারকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ঘোষণা করে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ভেস্তে গেছে। চীনের ভেটোতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আটকে গেছে প্রস্তাবটি। এ নিয়ে পর পর চার বার বাধা দিলো বেইজিং।

গতকাল বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে মাসুদ আজহারকে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার প্রস্তাব দেয় ফ্রান্স। এতে সম্মতি দেয় যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়াসহ একাধিক দেশ। তবে তা পাশ করাতে অস্বীকৃতি জানায় বেইজিং।

এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব তোলা হলে বিপক্ষে অবস্থান নেয় চীন।

এদিকে বিষয়টিকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে দেখছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি সদস্য সময় নেওয়ায় এবারও মাসুদকে গ্লোবাল টেররিস্ট ঘোষণা করা যায়নি। পুরো ঘটনায় আমরা হতাশ। এর ফলে পুলওয়ামার জঙ্গি হানার দায় নেওয়া জইশ প্রধান মাসুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গেল না।

মাসুদ আজহারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে তার সন্ত্রাসবাদী কাজ কর্ম চালাতে সমস্যা হতো। কোথাও যাওয়াত করতে সমস্যা হতো, বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখা টাকা থেকে শুরু করে অন্য সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়ে যেত।

২০০১ সালে জইশ-ই-মুহাম্মদকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে জাতিসংঘ। তবে ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার পর থেকে ভারত মাসুদকে গ্লোবাল টেররিস্ট হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি সদস্য দেশ ভেটো দিতে পারে। সেই তালিকায় আছে চীন। এর আগে আরও তিন বার ভেটো দিয়েছে তারা। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে একই কাজ করে বেইজিং। সেবার পাঠানকোট বায়ুসেনা ঘাঁটিতে হানা দেয় জইশ। তারপর ফের নিজেদের দাবি নিয়ে সরব হয় দিল্লি। কিন্তু সেবারও চীন বাধা দেয়।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় নিহত হন ৪০ জওয়ান। হামলার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই এর দায় স্বীকার করে নেয় জইশ-ই-মুহাম্মদ। এরপর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে।