যাজকদের যৌন নিপীড়ন : দায়ী যৌন বিপ্লব!

0
21

সাবেক পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট মনে করেন, ক্যাথলিক চার্চে শিশুদের যৌন হয়রানির পেছনে গত শতকের ষাটের দশকে সংঘটিত যৌন বিপ্লবের সম্পর্ক রয়েছে৷ ‘পেডোফিলিয়া’র কারণ হিসেবে ‘সৃষ্টিকর্তার অনুপস্থিতিকে’ দেখছেন তিনি৷

ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতন কেলেঙ্কারির জন্য ১৯৬০-এর দশকের যৌন বিপ্লব, ক্রমবর্ধমান ধর্মনিরপেক্ষতা এবং দুর্বল গির্জা আইনকে দায়ী করেছেন সাবেক পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট৷ বৃহস্পতিবার এক নিবন্ধে একথা লিখেছেন তিনি৷

সাবেক পোপ লিখেছেন, ‘‘১৯৬৮ সালের বিপ্লবে যেসব স্বাধীনতা চাওয়া হয়েছিল তার মধ্যে এই সম্পূর্ণ যৌন স্বাধীনতার ব্যাপারটি ছিল… ৬৮-র বিপ্লবের বাহ্যিক চিত্রের একটি ব্যাপার এমনও ছিল যে পেডোফিলিয়াকে তখন অনুমোদনযোগ্য এবং যথাযথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো৷” পাদ্রীদের জন্য তৈরি জার্মান মাসিক ম্যাগাজিন ‘ক্লেরুসব্লাট’-এ প্রকাশিত তার ছয় হাজার শব্দের নিবন্ধে এসব কথা লেখা হয়েছে৷

পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট লিখেছেন, ‘‘পেডোফিলিয়া কেন এত বেড়েছে? চূড়ান্তভাবে এর কারণ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার অনুপস্থিতি৷” তিনি এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তিগুলোতে সৃষ্টিকর্তার কথা উল্লেখ করার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার প্রসঙ্গটি টেনে এনে লিখেছেন, এটা পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষতার এক নেতিবাচক উদাহরণ৷

জার্মানিতে ইওসেফ রাটসিঙ্গার হিসেবে জন্ম নেয়া বেনেডিক্ট উল্লেখ করেছেন যে ষাটের দশকে তার নিজের এলাকা বাভারিয়ায় সিনেমায় যৌনতার উপস্থিতি এবং বিভিন্ন সেমিনারে ‘সমকামীদের চক্র’ তৈরির মতো ব্যাপারগুলো ‘‘মোটামুটি উন্মুক্ত এবং উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবেশ বদলে দিয়েছে৷” তিনি সেসময় নৈতিক ধর্মবিজ্ঞানের ব্যর্থতাকেও এজন্য দায়ী করেছেন৷

আয়ারল্যান্ড, চিলি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পোল্যান্ড, জার্মানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গির্জায় যৌন নিগ্রহের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে গির্জা কর্তৃপক্ষ৷ এসব নিগ্রহের অনেকগুলো গত শতকের ষাটের দশকের আগেও ঘটেছে৷

কেউ কেউ পোপের এই নিবন্ধের প্রশংসা করলেও অনেকে সেটির সমালোচনাও করেছেন৷ গির্জা বিশ্লেষকরা মনে করছেন যৌন নিগ্রহ বিষয়ক ২০১৯ সালের সামিটের ভিত্তিতে বর্তমান পোপের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে এই নিবন্ধ এক বাধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে৷
সূত্র : ডয়চে ভেলে