রাখাইনের মংডু পরিদর্শন করলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

0
32
মংডুতে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘর। ফাইল ছবি
মংডুতে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া রোহিঙ্গাদের ঘর। ফাইল ছবি

মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার চার দিনের সফরে দেশটিতে যান।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে সেখানকার মংডু পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

১১ আগস্ট, শনিবার দুপুরে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের কয়েকজন সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিট্টুয়ে থেকে মংডুতে যান।

মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী উইন মিয়াট আইয়িও প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছিলেন।

এ বিষয়ে ইয়াঙ্গুনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী বলেন, ‘হ্যাঁ, মন্ত্রী মংডু সফর করেছেন। তারা এখন সিট্টুয়ে ফিরে আসছেন। আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করছি।’

করিম খান জানান, বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মংডু থেকে ফিরে আসার পরই তারা ইয়াঙ্গুন ফিরে যাবেন। শনিবার সন্ধ্যায় সফরের বিষয়ে সংবাদিকদের জানানো হবে।

মিয়ানমারের নেতাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার চার দিনের সফরে দেশটিতে যান।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা দেখতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করছে। সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার দুই দেশ এই সমঝোতায় পৌঁছায় যে, এখন থেকে কক্সবাজারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা তাদের প্রাথমিক প্রত্যাবাসনের জন্য নিজেরাই যাচাইকরণ ফরম পূরণ করবে।

মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিলরের মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের মধ্যে যাচাইকরণ ফরম বিতরণ করা হবে এবং তারা এগুলো পূরণ করবে।

স্বাক্ষর, আঙুলের ছাপ ও ছবি দিয়ে ফরম পূরণ করে রোহিঙ্গারা তা স্বেচ্ছায় জমা দেবে এবং মিয়ানমারের যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।

রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতনে কক্সবাজারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন উচিত বলে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

মিয়ানমার দাবি করেছে, বর্তমানে কক্সবাজারে বসবাস করা রোহিঙ্গাদের পরিচয়পত্রের ভাষা সংশোধন করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ।

নাইপিদোতে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসনে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।

এ বিষয়ে আলোচনা সহজ করার জন্য মন্ত্রীদের মধ্যে একটি হটলাইন স্থাপন করা হয়েছে।

বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর কার্যালয় মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিয়াও টিন্ট সুই।

রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে ২০১৭ সালের নভেম্বরে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

চুক্তি মেনে নিয়ে মিয়ানমার দুটি অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং একটি ট্রানজিট শিবির তৈরি করেছে। এ ছাড়া পাঁচটি ট্রানজিট শিবির তৈরির অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। এসবের মধ্যে একটি সম্পন্ন হয়েছে, আরেকটির নির্মাণ চলছে এবং বাকি তিনটি তৈরি করা হবে।

LEAVE A REPLY