লন্ডনে আলিশান বাড়িতে যুদ্ধাপরাধী মঈনুদ্দীন

0
197
যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পত্রিকা। ছবি : দ্য সান
যুদ্ধাপরাধী চৌধুরী মঈনুদ্দীন লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পত্রিকা। ছবি : দ্য সান

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি চৌধুরী মঈনুদ্দীন লন্ডনে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। অথচ তাঁর নামে আছে ইন্টারপোলের ‘রেড অ্যালার্ট’। গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যের সংবাদ মাধ্যম দ্য সান এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

দ্য সানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন যুদ্ধাপরাধী, যাকে ইন্টারপোল খুঁজছে, সেই পলাতক লন্ডনের প্রাসাদোপম বাড়িতে থাকছেন।’ দ্য সান চৌধুরী মঈনুদ্দীনের একাধিক ছবিও প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কোনো শপিং মল থেকে কেনাকাটা শেষে বিলাসবহুল গাড়িতে উঠছেন তিনি।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ঠিক আগে দেশের সেরা সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। আর পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে এ ব্যাপারে সহায়তা করে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস।

চৌধুরী মঈনুদ্দীন ছিলেন আলবদর বাহিনীর নেতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান, সাংবাদিক সেলিনা পারভীনসহ বহু বুদ্ধিজীবীকে হত্যার করেন এসব বাহিনীর নেতারা।

দ্য সানের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারপোল ২৫ জন পলাতকের ছবি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে চৌধুরী মঈনুদ্দীনও আছেন। কিন্তু নর্থ লন্ডনের সাউথগেট এলাকায় এক মিলিয়ন পাউন্ডের প্রাসাদোপম বাড়িতে পাওয়া যায় মঈনুদ্দীনকে।

এক মিলিয়ন পাউন্ড মানে হচ্ছে ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মঈনুদ্দীনকে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। তাঁর এক প্রতিবেশী বলেন, ‘ইন্টারপোল ভালোভাবে খুঁজছে না হয়তো।’

লন্ডনে ওই বাড়িতে বসে মঈনুদ্দীন বলেন, ‘ইটস অল রাবিশ’। তিনি ইন্টারপোলের ওই নোটিশের বিরুদ্ধে ‘আপিল’ করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর মঈনুদ্দীন পালিয়ে যুক্তরাজ্যে চলে যান। এর পর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব লাভ করেন।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের এই দুই কেন্দ্রীয় নেতা মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক, ছয়জন সাংবাদিক ও তিনজন চিকিৎসকসহ ১৮ বুদ্ধিজীবীকে অপহরণের পর হত্যা করেন বলে রায়ে ‍উঠে আসে। মঈনুদ্দীনের বিরুদ্ধে আনা ১১টি অভিযোগের সবগুলোই প্রমাণিত হওয়ায় ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার আদেশ দেন। এই আসামি আত্মসমর্পণ অথবা গ্রেপ্তারের পর তাঁর সাজা কার্যকর করা হবে বলেও জানান ট্রাইব্যুনাল।

LEAVE A REPLY