লাইভে স্লিপ অব টাং হতেই পারে : শ্রাবণ্য

45

তিনি মূলত চিকিৎসক কিন্তু শিল্পের প্রতি মোহ থেকে বিচরণ করছেন গণমাধ্যমে। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন ভীষণ মেধাবী। যার দরুন সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিএস পাশ করে কাজ করছেন সফলভাবে। শিল্পের প্রতি মোহ থাকায় চিকিৎসা পেশার মতো মহান পেশাও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা। তাও যেনতেন বিষয়ে নয়, ক্রিকেটের মতো জটিল একটি খেলার উপস্থাপক-বিশ্লেষক।

বলছি শ্রাবণ্য তৌহিদার কথা। বাংলাদেশের ক্রিকেট যারা দেখে থাকেন তাদের কাছে চেনা একটি মুখ। এখন চলছে ক্রিকেটের মধ্যে গ্ল্যামার নিয়ে আসা ফ্র্যঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। এখানেও শ্রাবণ্য আছেন। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের হয়ে তিনি উপস্থাপনা করছেন বিপিএলভিত্তিক অনুষ্ঠানের। উপস্থাপনার শুরু চার বছর আগে ২০১৪ সাল থেকে। তখন থেকেই তিনি ক্রিকেটের বাইরের মানুষ হয়েও ক্রিকেটে ভীষণ জনপ্রিয় একটি মুখ।

বিপিএলে ক্রিকেট মাঠের আলোচনাকে ছাপিয়ে এখন উপস্থাপনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে। ধারাভাষ্যকার হতে শুরু করে টিভি অনুষ্ঠানের উপস্থাপক-উপস্থাপিকাদের বিভিন্ন কথা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলে হাস্যরস। অনেকে বিপিএল কর্তৃপক্ষের কড়া সমালোচনাও করেছেন নিম্নমানের আয়োজনের জন্য।

কিন্তু শ্রাবণ্যও তো একজন উপস্থাপিকা, তিনি কী করতেন ট্রলের শিকার হলে? ‘ট্রলের শিকার হওয়া কিন্তু অনেক ধরনের হতে পারে। আমি আবারো বলছি আমি যদি বেসিক জায়গায় ভুল করি দেন ডেফিনেটলি এই জায়গায় থাকা উচিৎ না। আমি হলে আমি থাকতাম না।’

তার মতে, ‘একটা লাইভে কিন্তু স্লিপ অব টাং হতেই পারে। একজন প্রেজেন্টারের এটা হতেই পারে। এটা বড় কোনো বিষয় না। কিন্তু ক্রিকেটের যে বেসিক থিং সেগুলো ভুল করা যাবে না।’ কিন্তু যাদের ক্রিকেট সম্পর্কে জ্ঞান নেই তাদেরকে আনা ঠিক হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে শ্রাবণ্য বলেন, ‘ঠিক হচ্ছে কিনা বলার মতো জায়গায় আমি নাই, এখন যারা করছে তারা কিন্তু ভালো করছে, খারাপ করছে না কেউ। আমি তো বলছি স্লিপ অব টাং হতেই পারে একজন প্রেজেন্টারের। প্রেজেন্টারের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে বলব আমরা যারা প্রেজেন্টার, আমরা যারা লাইভ করছি খুব চ্যালেঞ্জিং একটা কাজ করছি। মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। কিন্তু এন্ড অব দ্য ডে নিজেকে সেলফ মিররে দেখাটা খুব ইম্পরটেন্ট।’

শুরুর দিকে তিনি নিজেই ট্রলের শিকার হয়েছিলেন। তবে তার বিশ্বাস ছিল কখনো বেসিক ভুল করেননি। অবশ্য এজন্য তিনি দায়ী করেন পুরুষতান্ত্রিক সমাজকে। একজন মেয়ে হওয়াতে খেলাধুলা বিষয়ক অনুষ্ঠানে বিশ্লেষক-উপস্থাপক হওয়াটা মেনে নিতে পারেননি অনেকে।

শ্রাবণ্য বলেন, ‘একেবারে শুরুর কথা বলবো, অবশ্যই সমালোচনা হয়েছে। কারণ তখন কিন্তু একজন মেয়ে প্রেজেন্টার স্পোর্টস অ্যানালাইসিস করছে,তখন বাংলাদেশের পুরুষ সমাজের মেনে নেয়াটা অনেক কষ্টের ছিল। তখন আমাদের নিয়ে ট্রল হতো বাট থিং ইজ তখন মেনে নেয়া আর না নেয়ার ব্যাপারটাই বড় ছিল। কিন্তু বেসিক ভুল আমরা কখনো করি নাই দ্যাট ইজ দ্য মেইন পয়েন্ট।’

তবে শ্রাবণ্য বারবার একটা কথা বলেছেন একটা লাইভ প্রোগ্রামে স্লিপ অব টাং হতেই পারে। তার মতে উপস্থাপনায় আসতে হলে জেনে শুনে আসা উচিত। বেসিক জিনিস কোনোভাবেই ভুল করা যাবে না। যারা এমন করছেন তাদের সঙ্গে ক্রিকেটের সম্পর্ক কতটুকু এ নিয়ে শ্রাবণ্য প্রশ্ন তুলেছেন নিজেই।

তার মতে গণমাধ্যম অনেক বিশাল জায়গা। সব জায়গায় ফোকাস করতে গেলে সফল হওয়া যাবে না। শ্রাবণ্য নিজেও পরিবারের পরামর্শ নিয়ে নজর দিয়েছেন শুধু উপস্থাপনায়।

শ্রাবাণ্য বলেন, ‘উপস্থাপকের চেহারা কিন্তু সুন্দর হলেই হয় না বা সুন্দর করে কথা বলতে পারলেই কিন্তু হবে না। আমার কাছে মনে হয় তাদের বুদ্ধিমত্তাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই সঙ্গে শুদ্ধ উচ্চারণ, বাংলা উচ্চারণটা জানা খুব জরুরি। নিজের অবস্থাটা নিজের জানাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ বলার আগে ট্রল হওয়ার আগের নিজেকে জেনে নেয়া উচিত। যদি উপস্থাপনা করতে চাও তাহলে একটা জায়গাতেই লক্ষ্য রাখো সব কিছু এক সঙ্গে করতে গেলে কোনোটাই হবে না এটা আমার বিশ্বাস। আর ক্রিকেটের উপস্থাপনা করতে হলে ক্রিকেটের উপর স্টাডি করে আসতে হবে অবশ্যই। তুমি যদি একজন দেশের ক্রিকেটারের নামই না জানো তাহলে তোমার এই জায়গায় আসা উচিৎ না।’

খেলার মাঠে ক্রিকেট নিয়ে পড়ে থাকলেও শ্রাবণ্য কিন্তু সংসারীও। যেখানেই তিনি থাকেন না কেন তার মনে থাকে তার পরিবার। সংসার-ডাক্তারি-উপস্থাপনা তিনটি কাজ সামলাচ্ছেন সমান তালে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যখন যে জায়গায় যাই তখন সেই ক্যারেক্টার প্লে করি। আমি যাই করি না কেন বিহাইন্ড দ্যা মাইন্ড আমার ব্লাডের ভিতর আমার ছেলে অলওয়েজ থাকে। আমার পরিবারই সব কিছু।’

শ্রাবণ্য কথা বলেছেন তার মূল পরিচয় চিকিৎসা পেশা নিয়েও। গণমাধ্যম ও চিকিৎসা পেশা দুটোর মধ্যে তার মতে পার্থক্য অনেক। তিনি যখন যেটা করেন সেটা শতভাগ দিয়েই করেন।

‘অ্যাট দ্য সেম টাইম প্রতিটা মানুষেকেই কিন্তু পারফর্ম করতে হয় তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে। সো আমি যখন ডাক্তার তখন আমি টোটালি ডাক্তার মাথায় অন্য কিছু নেই না। আমার তখন সাদা অ্যাপ্রোন আমি আমার পেশেন্ট আমার স্টেথিস্কোপটাই তখন আমার সব কিছু। আবার যখন আমি টিভির সামনে আসি তখন কিন্তু আমি আর ওই জিনিসটা মাথায় রাখছি না। আমি যখন যে কাজটা করি সেটা ১০০% ডেডিকেশন দিয়ে করি।’ নিজের দুই পেশা নিয়ে এভাবেই বলছিলেন শ্রাবণ্য।