শরীয়তপুরে ডায়রিয়ায় ১৩ দিনে ২০০ জন হাসপাতালে

0
19

চলতি মাসের ১৩ দিনে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২৭ জন। এদিকে বেড সীমিত হওয়ায় মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগী।

সরেজমিনে গিয়ে কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডায়রিয়া রোগীর উপচে পড়া ভিড়। এদিকে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এর মাঝখান দিয়ে হাঁটা চলা করছেন চিকিৎসক, নার্স ও রোগীর স্বজনরা। এ ছাড়া বেড সীমিত হওয়ায় মেঝেতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন অনেক রোগীরা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ভর্তির পর তাদের খাবার স্যালাইন ছাড়া আর কিছুই দেওয়া হচ্ছে না হাসপাতাল থেকে। প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ তাদের বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া বাথরুম এবং হাসপাতালের ময়লা আবর্জনার গন্ধ আরও অসুস্থ করে দিচ্ছেন রোগী ও স্বজনদের।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে দায়িত্বরত নার্স আখি বিশ্বাস জানান, চলতি মাসের ১৩ দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ২০০ জন রোগী এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছের এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১০টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি আছেন ২০ জন। হাসপাতালে জায়গা না থাকায় অনেক রোগীই চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।

রহিমা বেগম নামে এক রোগী জানান, গতকাল শনিবার সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালে এসে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে খাবার স্যালাইন ছাড়া কিছু দেওয়া হয়নি তাকে। কলেরা স্যালাইন, অ্যান্টিবায়োটিক, ইনজেকশনসহ সব জিনিস বাহির থেকে কিনতে হচ্ছে।

হৃদয় নামে আরেক রোগী জানান, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। কিন্তু হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বেড না থাকায় মেঝেতে ফোমের ওপর শুয়ে আছেন।

হৃদয়ের মা বলেন, ‘ছেলের ডায়রিয়া হয়েছে সদর হাসপাতালে আনলাম, কিন্তু বেড নেই, ডাক্তার নেই। নার্সকে কিছু বললে ডাক্তারের কাছে যেতে বলে। টয়লেটের অবস্থা খুবই খারাপ। যেমন দুর্গন্ধ, তেমন ময়লা জমে আছে।’

এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘শরীয়তপুরে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ গরম পড়ার কারণে ডায়রিয়া রোগী বেশি। এর মধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ ও নারী রয়েছে। যার মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যা বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় রোগীদের আন্তঃবিভাগের বারান্দাসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিছু ওষুধ কম আছে। আশা করছি দ্রুত ডায়রিয়া রোগের ওষুধ পাব। হাসপাতালের পরিবেশ সুন্দর রাখতে পরিষ্কার করা হচ্ছে। বাড়তি রোগীদের অন্যত্র নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ করেই দুই-তিন যাবৎ হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। মূলত এখন গরমের দিন, আর গরমের দিনগুলোতেই ডায়রিয়া রোগ বেশি হয়। গরমে মাছির উপদ্রব বাড়ে, খাবার সহজে নষ্ট হয়ে যায় আর খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায় না জানার কারণে এ সমস্যা হয়ে থাকে। ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের এখন পর্যন্ত মারাত্মক কোনো সমস্যা হয়নি।’