শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে লন্ডন হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

30
শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে লন্ডন হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ
শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে লন্ডন হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ

বিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেন তাঁর স্বজন-বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলোবিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ করেন তাঁর স্বজন-বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মীরা। ছবি: প্রথম আলোবিশিষ্ট আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শহিদুল আলমের স্বজন-বন্ধু ও মানবাধিকার কর্মীরা। তাঁরা শহিদুল আলমের মুক্তির দাবিতে পিটিশনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। গানে ও বক্তব্যে মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনালের সলির ত্রিপাথি, আলোকচিত্রী ও ছবি নির্মাতাদের সংগঠন অটোগ্রাফ এবিপি’র মার্ক সিলি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মার্ক ডামেট, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মিনাক্ষী গাঙ্গুলি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখিকা ও টিভি উপস্থাপিকা কনি হক প্রমুখ। ছিলেন শহিদুল আলমের বড় বোন কাজী নাজমা করিম ও ভাগনি সোফিয়া করিমসহ বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তাঁরা বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি বব মার্লির ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ, স্ট্যান্ড আপ ফর ইউর রাইট’ এবং ‘লর্ড অব দ্য ড্যান্স’ গান দুটি গেয়ে শহিদুল আলমের সাহস ও প্রতিবাদী মানসিকতার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে শহিদুল আলমের মুক্তি দাবির পাশাপাশি বিতর্কিত তথ্য প্রযুক্তি আইনে আটক সব বন্দীর মুক্তি দাবি করেন। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দেশের সব নাগরিকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখার জোর আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, কেবল সরকারের সমালোচনা করার কারণে শহিদুল আলমকে কারাবন্দী করার ঘটনা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটা সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য।

কনি হক বলেন, ‘শহিদুল আলম আল জাজিরা টেলিভিশনের সাক্ষাৎকারে নিজের মতামত দিয়েছেন। এ জন্য বাংলাদেশের পুলিশ তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। বাংলাদেশ সরকার এমন কাজ করতে পারে তা কখনো ভাবতে পারিনি। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হিসেবে এক সময় নিজেকে খুব গর্বিত মনে করতাম। আমি আশা করি শহিদুল আলম মুক্তি পাবেন এবং তাঁর প্রতি ন্যায়বিচার করা হবে।’

শহিদুল আলমের সততা ও সাহসের কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন তাঁর বড় বোন কাজী নাজমা করিম। তিনি বলেন, ‘ছোট বেলা থেকে শহিদুল অসম্ভব সৎ, তুমুল সাহসী এবং ভীষণ সত্যবাদী। মানবাধিকারের বিষয়ে সে সব সময় সচেতন।’ তিনি বলেন, ‘শহিদুল কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। সে একজন মানবতাবাদী মানুষ। কেবল ন্যায় ও মানবাধিকারের পক্ষে তাঁর অবস্থান।’

কাজী নাজমা করিম প্রথম আলোকে বলেন, শহিদুল আলমের জামিনের শুনানি নিয়ে নানাভাবে কালক্ষেপণ হচ্ছে। তাঁর জামিনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতির ‘বিব্রতবোধ’ করা নিয়ে তিনি বলেন, বিচারক কেন ‘বিব্রতবোধ’ করলেন তা নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। শহিদুল আলমের প্রতি নতুন করে আর কোনো অন্যায় হবে না বলে তিনি আশা করেন।