‘শেষ ইচ্ছে’ প্রকাশ করলেন এরশাদ

90
‘শেষ ইচ্ছে’ প্রকাশ করলেন এরশাদ
‘শেষ ইচ্ছে’ প্রকাশ করলেন এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে গুম, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ সভায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। ছবি: সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছে ‘শেষ ইচ্ছে’ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

৮ সেপ্টেম্বর, শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের যৌথ সভায় তিনি শেষ ইচ্ছের কথা জানান।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘পার্টিকে ক্ষমতায় দেখা আমার একমাত্র শেষ ইচ্ছা। মৃত্যুর আগে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় এনে দিবা তোমরা। এটাই আমার শেষ ইচ্ছে।’

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় যৌথ সভার কার্যক্রম। সভার শুরুতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ, আর পেছনে ফেরার সময় নেই।’

জাতীয় নির্বাচনে তিনশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বরাবরের মতো উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, ‘নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে হলে, প্রতিটি জেলা, থানা ও ইউনিয়নে সফল কমিটি ঘোষণা অতিদ্রুত করতে হবে।’

সে সময় বর্তমান সরকারের কিছু অনিয়ম ও গাফলতির কথা তুলে ধরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশে গুম, খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, দুর্নীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় আনতে হবে।’

একই সঙ্গে আগামী ৬ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতাকর্মীদের আসার আহ্বানও জানিয়েছেন এরশাদ।

যৌথ সভার সমাপনী বক্তব্যে এরশাদ বলেন, ‘তোমাদের (তৃণমূল) কাছে আমার একটাই চাওয়া পার্টিকে ক্ষমতায় নাও। নিজেদের মধ্যে ঐক্য জোড়ালো করে মানুষের কাছে ছুটে যাও। আমাদের শাসন আমলের কথা সবার কাছে পৌঁছে দাও।’

অবশ্য রওশন এরশাদ তার বক্তব্যের শুরুতে কাজী নজরুল ইসলামের রণসংগীত চল চল চল… গাওয়া শুরু করেন। তারপর এই সংগীতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম, ক্ষমতায় যাওয়ার সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম।’

বক্তব্যের শেষে রওশন এরশাদ ‘নতুন বাংলাদেশ গড়ব মোরা’ গানও গেয়ে শোনান।

মন্ত্রী-এমপির সংখ্যা বাড়ানোর পরামর্শ তৃণমূল নেতাকর্মীদের

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকটি জেলার নেতারা। সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাইকে চাঙা করতে পরামর্শ দেন তারা।

খুলনা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে দলে মন্ত্রী-এমপির সংখ্যা বাড়াতে হবে। তা না হলে দলের মধ্যে অসংগতি দেখা দিবে। দলকে চাঙা রাখতে হলে দলের মধ্যে ক্ষমতা বাড়াতে হবে।’

সিলেট জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক ই আর চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষমতায় যেতে হলে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বাড়াতে হবে।’

নাটোর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে তিনশ আসনে লড়াই করতে হলে দলের মধ্যে ক্ষমতা বাড়াতে হবে। তাহলে আমরা এককভাবে আবার ক্ষমতায় আসতে পারব৷’

যৌথ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ। এ ছাড়া পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদেরসহ প্রেসিডিয়াম সদস্যরা বক্তব্য দেন।