সিনেমার প্রচারে তারকাদের অনীহা

0
65

গতকাল শুক্রবার দেশজুড়ে মুক্তি পেয়েছে দুটি ছবি—‘দাগ হৃদয়ে’ ও ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’। মুক্তির আগে ছবি দুটি নিয়ে এর নায়ক-নায়িকাদের সেভাবে প্রচার–প্রচারণায় দেখা যায়নি। ‘দাগ হৃদয়ে’ ছবির নায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম, আঁচল এবং ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ছবির পরীমনি তাঁদের নতুন ছবি দুটি নিয়ে একেবারেই নীরব। তাই সেই পুরোনো প্রশ্ন আবার নতুন করে উঠছে সিনেমাপাড়ায়—সিনেমা মুক্তির আগে এর প্রচারণায় কেন শিল্পীদের অনীহা?

ছবির প্রচারে না থাকার ব্যাপারে মিম বলেছেন, ‘আমি প্রচারণায় অংশ নিতে চেয়েছি। কিন্তু প্রযোজকের প্রতিশ্রুতি ঠিক না থাকার কারণে প্রচারে নামিনি। তাঁর কাছে পারিশ্রমিক বাবদ কিছু টাকা বকেয়া ছিল। প্রচারের আগে তা পরিশোধ করার কথা ছিল। পরে আমাকে জানিয়েছেন, তিনি তা দিতে পারবেন না।’

প্রচারের কারণে একটি ছবি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা পেলে তো শিল্পী ও প্রযোজক—উভয়ই লাভবান হন। সে ক্ষেত্রে নিজ উদ্যোগে নিজের ছবির প্রচার কি শিল্পীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে? জানতে চাইলে মিম বলেন, ‘অবশ্যই পড়ে। ছবির প্রযোজক সিনেমার প্রচারণার জন্য আলাদা শিডিউল প্রস্তুত করবেন, শিল্পীরা সেই অনুযায়ী প্রচারাভিযানে অংশ নেবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমি মনে করি, ছবি মুক্তির আগে প্রযোজকদের সঠিকভাবে প্রচারের বিষয়ে পরিকল্পনাই থাকে না।’

কিছু ব্যতিক্রম বাদে ‘প্রচারেই প্রসার’—এই প্রবাদ ঢাকার চলচ্চিত্রের মূলধারার সিনেমায় দেখা যায় না। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঢালিউড আজ যে সংকটে পড়েছে, তার অন্যতম কারণগুলোর একটি হলো ছবি মুক্তির আগে এর প্রচারণার অভাব। ছবির প্রচারাভিযানে তারকাশিল্পীদের অনুপস্থিতিকে অনেক প্রযোজক বলছেন পেশাদারত্বের অভাব। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান হার্টবিট প্রোডাকশন থেকে মুক্তি পাওয়া সর্বশেষ দুটি ছবি হলো শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত সুপার হিরো আর মাহিয়া মাহি ও বনি অভিনীত মনে রেখ। সুপার হিরো মুক্তি পায় গত বছর ঈদুল ফিতরে, মনে রেখ ঈদুল আজহায়। কিন্তু মুক্তির সময় ছবি দুটির কোনো শিল্পীকেই এর প্রচারে দেখা যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তাপসী ফারুকের মতে, প্রচারণার কারণে একটি ছবি অনেক এগিয়ে যায়, অনেক দর্শকের কাছে পৌঁছাতে পারে। চুক্তির সময় শর্ত থাকা সত্ত্বেও মাহি ও বনি মনে রেখ ছবির প্রচারে অংশ নেননি। সুপার হিরো ছবির জন্যও শাকিব খান প্রচারে আসেননি। এ নিয়ে তাপসী বলেন, ‘সুপার হিরোর মুক্তির সময় শাকিব খানকে আমি নিজেও অনুরোধ করেছিলাম ছবির হয়ে প্রচার করতে। কিন্তু তিনি করেননি। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত থাকা সত্ত্বেও মনে রেখ ছবির জন্য বনি ও মাহিকে পাইনি আমরা। আমাদের এখানে পারিশ্রমিক নেওয়া শেষ হলে আর কোনো শিল্পীর খোঁজ পাওয়া যায় না। একটি ছবির মুক্তির খবর যদি দর্শক জানতে না–ই পারেন, তাহলে সেটা দেখতে তাঁরা হলে আসবেন কীভাবে?’ এ ব্যাপারে ছবির পরিচালককেও দুষলেন এই প্রযোজক। তিনি বলেন, ‘ছবির শুটিং শেষ হয়ে গেলে নায়ক-নায়িকাদের মতো কোনো কোনো পরিচালকও ছবির দায়িত্ব ঝেড়ে সরে পড়েন। তাঁরা নতুন ছবি ধরার জন্য অন্য প্রযোজকদের কাছে ধরনা দিয়ে বেড়ান। এসব কারণেই আমাদের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।’

আবার চলচ্চিত্রের অনেকেই বলছেন, নায়ক-নায়িকারা যখন নিজে ছবির প্রযোজক হন, তখন তাঁরা রাত–দিন এক করে সিনেমার প্রচারে লেগে থাকেন। নিজের লগ্নি করা ছবি নিয়ে দেশের এ–প্রান্ত থেকেও–প্রান্তে ছুটে বেড়ান। কিন্তু ওই নায়ক-নায়িকাই অন্য প্রযোজকের ছবির কাজ শেষ করে এর প্রচারণায় অংশ নেন না।

প্রচারের বিষয়টি নিয়ে মিমের মতো মাহির মুখেও এক কথা। তিনি বলেন, ‘প্রচারের জন্য এখানে পরিকল্পনার অভাব। ছবি মুক্তির অন্তত দুই মাস আগে থেকেই একটি প্রচারের টিম করা উচিত। প্রচারের তারিখ নির্ধারণ করে শিল্পীদের শিডিউল নিতে হবে। আমাদের এখানে প্রযোজকদের সেই পরিকল্পনা নেই। হঠাৎ মুক্তির দিন কয়েক আগে নায়ক-নায়িকাকে ছবির প্রচারের জন্য ডাকেন। বেশির ভাগ সময় কিন্তু এমনই হয়েছে।’

তবে কিছু ক্ষেত্রে ঢালিউডে ব্যতিক্রমও দেখা যায়। আয়নাবাজি, স্বপ্নজাল, ঢাকা অ্যাটাক–এর মতো একটু ভিন্ন ধরনের ছবিগুলো মুক্তির সময় নায়ক-নায়িকাদের দেখা যায় অভিনব কৌশলে প্রচারাভিযানে অংশ নিতে। সম্প্রতি দেবী ছবির প্রচারের কৌশল তো দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে! ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ফাগুন হাওয়ায় ছবিটি নিয়েও এর শিল্পীদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে প্রচারের জন্য ইতিবাচক চেষ্টা। ছবির মুক্তি সামনে রেখে অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা, সিয়াম, রওনক, ফজলুর রহমান বাবুকে দেখা গেছে খেলার মাঠে, রিয়েলিটি শোর সেটে আর বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের অফিসে।