৩০ লাখ টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ার’, ওসিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0
27

৩০ লাখ টাকা না দিলে ‘ক্রসফায়ার’ দেওয়া হবে ভয় দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা আদায় ও বাকি টাকা দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পাঁচ পুলিশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা ও বিশেষ জজ মোহাম্মদ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি করেন (বাদি) আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির ধর্মবিষয়ক সাবেক সহ-সম্পাদক ও ব্যবসায়ী মো. নুরুল আবছার। আসামিরা হলেন- চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পতেঙ্গা থানার সাবেক ওসি) আবুল কাসেম ভূঁইয়া, উপপরিদর্শক (এসআই) প্রণয় প্রকাশ, এসআই (নিরস্ত্র) আবদুল মোমিন, সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) তরুণ কান্তি শর্মা, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহিরসহ তিন মাদক বিক্রেতা ইলিয়াছ ওরফে গাভী ইলিয়াছ, মো. জসিম ও মো. নুরুল হুদা।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গত বছর ১ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মোবাইলে ফোন করে পতেঙ্গা থানার এসআই প্রণয় প্রকাশ ব্যবসায়ী নুরুল আবছারের অবস্থান জানতে চান। পরে বাসার বাইরে এসে দেখা করতে বলেন। ১৫ মিনিট পর সেখান থেকে দুজন স্থানীয় একটি বেকারিতে গিয়ে নাস্তা করেন। এ সময় সেখানে আসেন পতেঙ্গা থানার এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা, এসআই আবদুল মোমিন, এএসআই কামরুজ্জামান ও এএসআই মিহির।

এক পর্যায়ে তারা আবছারকে থানায় গিয়ে ওসি আবুল কাসেমের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তাদের কথা অনুযায়ী আবছার থানায় যান আবুল কাসেমের সঙ্গে দেখা করতে। তিনি থানায় ঢোকার পরই এএসআই কামরুজ্জামান তার মোবাইল, গাড়ির চাবি ও টাকা পয়সা নিয়ে নেন। এ সময় তাকে গালাগাল করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ আছে, ২ জুন দুপুরে এসআই আবদুল মোমিন ও এসএসআই মিহির সেই কক্ষে এসে আবছারকে গালাগাল দিয়ে বলেন, ‘তুই ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ব্যবসা করিস। জীবিত থাকতে হলে ৩০ লাখ টাকা দিবি। টাকা দিবি না ৮৮ ধারায় চালান দিবো আর না হয় ইয়াবা দিয়ে ক্রসফায়ারে দিবো।’

এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তারাও তাকে মানসিকভাবে চাপ দিতে থাকে এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে তিনি কোনো উপায় না পেয়ে তার ফুফাতো ভাইয়ের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে এসআই আবদুল মোমিন ও এএসআই কামরুজ্জামানকে দেন।

এজাহারে আবছারও আরও উল্লেখ করেন, টাকা পাওয়ার পরই বাকি ১৫ লাখ টাকা দিতে তাকে চাপ দিতে শুরু করেন এসআই প্রণয় প্রকাশ ও এসআই আবদুল মোমিন। টাকা না দিলে তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা কিংবা ইয়াবা দিয়ে আদালতে চালান দেয়ার হুমকি দেন দুজন।

অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় গত ৩ জুন এএসআই তরুণ কান্তি শর্মা বাদী হয়ে আবছারের বিরুদ্ধে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই দিন দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর প্রায় দুই মাস জেল খেটে গত বছর ২৯ জুলাই জামিনে কারাগার থেকে বের হন ব্যবসায়ী নুরুল আবছার।

জেল থেকে বের হয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে গতকাল সোমবার সকালে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পাঁচ পুলিশসহ নয়জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা ও বিশেষ জজ মোহাম্মদ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার বিষয়ে বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ মোমিনুর রহমান জানান, আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের পরিচালককে ঘটনার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বর্তমান সিএমপির পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাসেম ভূঁইয়া বলেন, ‘নূরুল আবছার পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছিলাম। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’