আবৃত্তিশিল্পী কাজী আরিফ ক্লিনিক্যালি ডেড

0
32

প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থপতি কাজী আরিফকে (৬৫) ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেছেন চিকিৎসকেরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

গত ২৫ এপ্রিল মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স নামের ওই হাসপাতালে কাজী আরিফের হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। পড়ে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

এদিকে একাধিক গণমাধ্যম তার মৃত্যুর খবর প্রচার করে।

শনিবার এ শিল্পীর মেয়ে আনুশকা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসকরা বলেছেন, তিনি ক্লিনিক্যালি ডেড। আগামীকাল রোববার সকালে তার লাইফ সাপোর্ট খোলা হবে।

নিউ ইয়র্ক প্রবাসী আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী ওবায়েদুল্লাহ মামুন জানান, ডাক্তাররা কাজী আরিফকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেছেন। এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহকাম উল্লাহও। তিনি জানান, আগামীকাল রোববার লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর অন্য সব সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

দীর্ঘদিন থেকে অসুস্থ কাজী আরিফের হার্টের বাল্ব অকেজো হলে তাকে ম্যানহাটনের মাউন্ট সিনাই সেন্ট লিওক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মঙ্গলবার বাল্ব পুনঃস্থাপন এবং আর্টারিতে বাইপাস সার্জারি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এখনও সেখানে রয়েছেন তিনি।

গত ২১ এপ্রিল কাজী আরিফ নিজেই তার অসুস্থতার খবর গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।

এক বার্তায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি এখন হাসপাতালের শয্যায়। এই ২৫ তারিখ আমার ওপেন হার্ট সার্জারি হবে। মিট্রাল ভাল্ব রিপ্লেস/রিপেয়ার করবে, আর একটা আর্টারি বাইপাসও করবে। এটি দ্বিতীয় দফা। হাসপাতালের নাম মাউন্ট সিনাই সেন্ট লুকস হসপিটাল।’

কাজী আরিফ ১৯৫২ সালের ৩১ অক্টোবর তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুরের রাজবাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রাম শহরে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে। পেশায় স্থপতি এই আবৃত্তিকার একজন লেখকও। ১৯৭১ সালে ‘১ নম্বর সেক্টর’-এর মেজর রফিকের নেতৃত্বে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন তিনি। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তাদের একজন তিনি। সারা দেশ ঘুরে আবৃত্তির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশে আবৃত্তিচর্চা এবং আবৃত্তিশিল্পকে আধুনিক সংগঠিত রূপ দিতে কাজী আরিফ আশির দশকে অন্যতম ভূমিকা রেখেছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য আবৃত্তির অ্যালবাম ‘পত্রপুট’। কাজী আরিফ জাতীয় বসন্ত উৎসব উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তির উৎসব হতো তার ইন্দিরা রোডের বাসায়। সেখানে শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের লোকজন সমবেত হতেন।

LEAVE A REPLY