শেষ সুযোগ মিলছে বিতর্কিত আ. লীগ এমপিদের

0
180

আগামী একাদশ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনয়ন পেতে হলে নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ভালো কাজ করতে এমপিদের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যেহেতু নির্বাচনের বাকি আছে আরো প্রায় দুই বছর। এ সময়টায় স্থানীয় ভোটাদের সময় দিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে দলটির নানা কারণে বির্তকিত এমপিদের শেষ সুযোগ দিয়েছেন তিনি। যারা এ সময়ের মধ্যে নিজেদের শুধরাতে না পারবে তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে না বলেও প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিযে দিযেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী ২০১৯ সালে হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে সকল দলের অংশগ্রহণের জন্য একাদশ নির্বাচনকে অর্থবহ করতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। আর তাই একাদশ নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ হবে বলে মনে করে ক্ষমতাসীনরা। এ জন্য আগে থেকে প্রচারণা শুরু করেছেন তারা।

শুধু তাই নয়, একাদশ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাইও করে রেখেছে দলটি। তবে যেহেতু নির্বাচনের অনেক সময় বাকি আছে তাই এ নিয়ে কেউ কোনো কথা বলতে চাইছেন না।

কিন্তু আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যাদের নিয়ে ভোট যুদ্ধে নামতে চায় তাদের অনেককে নিয়ে আছে বেশ বির্তক। তাই প্রশ্ন উঠেছে, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কীভাবে নির্বাচনী নৌকা জয়ের বন্দরে পৌঁছবে। দলটির কয়েক ডজন এমপি নানা কারণে দেশের প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন।এর মধ্যে আওয়ামী লীগের এমপিদের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের জন্যই ক্ষমতাসীন দলটি দেশ বিদেশে নানান সময়ে বির্তকিত হয়েছে।

সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে দলের এমপিদের শুধরানোর জন্য শেষ সুযোগ দিলেন দলীয়প্রধান শেখ হাসিনা।

গতকাল রোববার আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে বিতর্কিত ও জনবিচ্ছিন্ন এমপিদের আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত স্থানীয় ভোটাদের সঙ্গে সখ্যতা তৈরি করে নিজেদের ইমেজ বাড়াতে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

শুধু তাই নয়, নিজের ব্যক্তিগত প্রচারের পাশাপাশি সরকারের নেওয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প জনগণের মাঝে প্রচার করতে বলেছেন। দলকে ক্ষমতায় আনতে আগামী নির্বাচনে স্থানীয় ও জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি মন্তব্য করেন।

তিনি এমপি মন্ত্রীদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ২০১৪ সালে আমি দ্বায়িত্ব নিলেও এবার আর দ্বায়িত্ব নিব না।যাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে তারা নিজে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অনেকেই মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণায় চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে দলটির বেশ কয়েকজন এমপির কপালে। যারা এতদিন নিজদের অপ্রতিরোধ্য ভাবতেন তাদের অনেকের মধ্যেই দেখা গেছে আতঙ্কের ছাপ। বৈঠকে উপস্থিত এমন বেশ কয়েকজন এমপি এ প্রতিবেদকে এ কথা জানিয়েছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে এমনটি মাথায় নিয়েই নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এজন্য সারা দেশে বেশ শক্ত ও জনপ্রিয় প্রাথী দিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রতি ৬ মাস পর পর এমপিদের আমলনামা তার কাছে আসে। যাদের আমলনামা ভালো না; তাদের শেষ সুযোগ হিসেবে এলাকায় গিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি এও বলেছেন, এখনও সময় আছে। ভালো কাজ করে নিজেদের আমলনামা ভালো করুন। তা না হলে মনানয়ন পাবেন না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্য ফেমাস নিউজকে বলেছেন, দলীয়প্রধান এলাকায় কাজ করতে বলেছেন, তাই যারা ঢাকা শহরমুখী রাজনীতি করছেন তারা বাধ্য হয়েই এলাকায় ফিরে যাবেন। এ সংসদ সদস্য দাবি করেন, দলীয় প্রধানের এমন কঠোর নির্দেশনার পর অনেকেই ধাক্কা খেয়েছেন। বিশেষ করে যারা নির্বাচনী এলাকায় যান না। তার মতে মনোনয়নের জন্য তদবির করে আর লাভ হবে না, এটা প্রধানমন্ত্রী এমপিদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। ফলে এমপিদের নির্বাচনী এলাকায় সমাগম বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেছেন, বিতর্কিতরা আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না এটা এক প্রকার নিশ্চিত। এর পরও প্রধানমন্ত্রী বিতর্কিতদের ভালো কাজ করার একটা সুযোগ দিয়েছেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর বিশাল উদারতা। এ সুযোগ প্রতিটি এমপির কাজে লাগানো উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দলীয় সভাপতির হাতে প্রতিটির এমপির আমলনামা আছে। তাই বিষয়টি লুকানোর কিছু নেই। যারা ভালো কাজ করবেন তাদের মনোনয়ন পেতে সমস্যা হবে না।

LEAVE A REPLY