কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের ১৫৬তম জন্মদিন আজ

0
57

আজ ২৫শে বৈশাখ। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তি। প্রতিবারের মতো এবারো দিনটি পালিত হচ্ছে সাড়ম্বরে। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

১৮৬১ সালের (১২৬৮ বঙ্গাব্দ) এই দিনে তিনি জোড়াসাঁকাের ঠাকুর পরিবারে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আভিজাত্যের সঙ্গে উদারতা মিলেছিল তাদের পরিবারের ঐতিহ্যে। এ পরিবেশ শৈশবেই মুক্ত করে দিয়েছিল তার মন। জন্মের দেড়শ’র বেশি বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু বাঙালির জীবন ও মানসে তার উপস্থিতি আজও দেদীপ্যমান।

টিভি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান। কবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপনে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘মানুষের ধর্ম : রবীন্দ্রনাথ ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা’। এ বিষয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তব্য দেবেন অধ্যাপক ড. হায়াৎ মামুদ। আলোচনার পর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় ৩০ মিনিটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়াও কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এবং খুলনার দক্ষিণডিহি ও পিঠাভোগসহ ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় তার জন্মবার্ষিকী উদ্যাপন করা হবে। এ উপলক্ষে রবীন্দ্রমেলা, রবীন্দ্রবিষয়ক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করবে স্থানীয় প্রশাসন।

তিনি ছিলেন বাঙালির অগ্রণী কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীত স্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, ছোটগল্পকার, অভিনেতা, কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক। রবীন্দ্রনাথ আধুনিক বাঙালির সৃজন ও মননের জ্যোতির্ময় প্রতীক, রুচি ও মানসের প্রধান নির্মাতা। প্রায় একক চেষ্টায় বাংলা সাহিত্যকে তিনি আধুনিকতায় উজ্জ্বল করে তুলেছেন, প্রতিষ্ঠা দিয়ে গেছেন বিশ্বসাহিত্যের সারিতে।

তিনি বাঙালির প্রাণের মানুষ। ১৯১০ সালে রচিত গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তি বাংলা ভাষা ও বাঙালির জন্য বয়ে এনেছিল বিশ্বের গৌরব। যে গীতাঞ্জলির জন্য তার এই নোবেল পুরস্কার অর্জন, সেই গীতাঞ্জলি এবং আরো অনেক বিখ্যাত সৃষ্টি রচিত হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের মাটিতেই। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-ইছামতির স্রোতধারা, নিসর্গ, গ্রামীণ জনসাধারণের জীবনাচার তার কবিমানস গঠনে রেখেছিল সুদূরপ্রসারী ভূমিকা। ১৯১৫ সালে তিনি বৃটিশ সরকারের নাইট উপাধি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ, ৩৮টি নাটক, ১৩টি উপন্যাস ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়েছে। তার সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প ও ১৯১৫টি গান যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

১৯৪১ সালে (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২শে শ্রাবণ) কলকাতার পৈতৃক বাসভবনেই পরলোকগমন করেন বাঙালির প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

LEAVE A REPLY