‘এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল’

0
131

খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’কে ‘ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল’ বল অভিহিত করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা হবে।

শনিবার এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।  জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বাংলাদেশ নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভুমিকা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘‘ভিশন ২০৩০’ যেটা আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপস্থাপন করেছেন, আমি মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে থাকবে। এটি দেশের রাজনীতিতে একটি মাইলফলক।

তিনি বলেন, এই ভিশনটা দেয়া হয়েছে যাতে আন্দোলন জোরদার হয়। এর মাধ্যমে হারানো বিষয়গুলো ফিরিয়ে আনতে পারব।

সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, আজকে ভারসাম্যের কথা বলেছি, আমরা দেখেছি যে, প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কর্তৃত্ববাদের জন্ম দিয়েছে। এটা আমাদের অভিজ্ঞতা শুধু এ সরকারের সময়ে নয়, আমাদের সময়েও। তবে এ সরকার একটু বেশি করেছে।

তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী এটা একটা কর্তৃত্ববাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয় যিনিই প্রধানমন্ত্রী হন না কেন। বিএনপি জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রী তো বেগম খালেদা জিয়াই হবেন।

মওদুদ আহমদ বলেন,  আমরা একটা ভাইব্রেট ফাংশনাল সংসদ দেখতে চাই। যে সংসদে একটা সত্যিকার বিরোধীদল থাকবে, যে বিরোধী দল সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সরকারের আজকে কোনো জবাবদিহিতা নেই, দেশে সুশাসন, প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে দুর্নীতির মাধ্যমে। আমরা একটি জবাবদিহিমূলক সরকার দেখতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। আমরা ক্ষমতায় গেলে সংসদে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি, পাবলিক আন্ডারটেইকেন কমিটি –এ দুটি কমিটির চেয়ারম্যান বিরোধী দল থেকে নেব। এ দুটি কমিটি হচ্ছে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কমিটি। আমরা সংসদে সংখ্যানুপাতে আসন বণ্টন বা সংখ্যানুপাতে যে বক্তৃতা নির্ধারণ আমরা তুলে দেব। কারণ বিরোধী দলকে সুযোগ দিতে হবে।

গত বুধবার হোটেল ওয়েস্টিনে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ‘ভিশন ২০৩০’ এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে দলের স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এই ভিশনের মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষের কাছে আমাদের আগামীদিনের অঙ্গিকার তুলে ধরেছি। ‘ভিশন ২০৩০’ বিএনপির সঙ্গে জনগণের সঙ্গে একটা চুক্তি।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমঝোতার কথা বলছি- এটা একটা কৌশল। কিন্তু এর উত্তর আসতে হবে রাস্তা থেকে। আন্দোলন ছাড়া এর কোনো বিকল্প নাই। নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আগামীতে একটি ‘সহায়ক সরকার’ এর রূপরেখা দেয়ার কথাও জানান মওদুদ।

তিনি বলেন, আমরা একটা রূপরেখা দেব- কীভাবে একটা নিরপেক্ষ সরকার গঠন করা যেতে পারে, যে সরকারের অধীনে দেশের মানুষ যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, ভোটাররা নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা করতে পারি।

সংগঠনের সভাপতি আবদুল্লাহিল মাসুদের সভাপতিত্বে ও সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেনের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য কবীর মুরাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক এস এম হাসান তালুকদার, অধ্যাপক এমতাজ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

LEAVE A REPLY