সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত তিন বাংলাদেশীর জানাজা অনুষ্ঠিত নিজ নিজ গ্রামে দাফনের জন্য মরদেহ ঢাকার পথে

0
68

নিউইয়র্ক সিটির অদূরে লং আইল্যান্ড এলাকার নর্দার্ন ষ্টেট পার্কওয়েতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বাংলাদেশী নিহত তিন বাংলাদেশীর নামাজে জানাজা স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ মে) বাদ জোহর জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় সর্বস্তরের শোকার্ত শত শত অংশ নেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে তাদের নিজ নিজ গ্রামে/এলাকায় দাফনের সিদ্ধান্তের ফলে মরদেহ তিনটি রোববার রাতেই আমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে। এদিকে ঐ সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুত আহত অপরদিকে আহত আল আমীন এখনো হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মে শনিবার নিউইয়র্ক সময় ভোর ৫টার দিকে লং আইল্যান্ড এলাকার নর্দার্ন ষ্টেট পার্কওয়ের এক্সিট ৩১-এ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং অপর একজন আহত হন। নিহতরা হচ্ছেন ঢাকার মাতোয়াইলের শামসুল আলম (৬১), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আতাউর রহমান দুলাল (৩৫) এবং ময়মনসিংহের নৌহল এলাকার রায়হান ইসলাম (২৮)। আহত আল আমীনের দেশের বাড়ী কিশোরগঞ্জের ভৈরব বলে জানা গেছে। আল আমীনের ডান হাত ও পা এবং বুকের পাজরের অংশবিশেষ ভেঙ্গে গেছে। তাকে উইনথ্রপ ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দূর্ঘটনার পর থেকেই সে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে বলে জানা গেছে। তাকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।

অপরদিকে সোমবার (১৫ মে) জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে (জেএমসি) বাদ জোহর নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জেএমসি’র পেশ ইমাম মওলানা আবু জাফর বেগ জানাজা নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় সর্বস্তরের শোকার্ত শত শত অংশ নেন। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ফলে জেএমসি ভবনের অভ্যন্তর ছাড়াও মসজিদ ভবনের বাইরেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লী দাঁড়িয়ে জানাজা নামাজে অংশ নেন। এসময় সেখানে শোকাহত পরিবেশ বিরাজ করে। তিন সহকর্মীর মরদেহের কফিন দেখে অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

নিহতদের এক সময়ের সহকর্মী হাবিবুর রহমান ইউএনএ প্রতিনিধিকে জানান, নিহতদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে সোমবার (১৫ মে) জানাজা শেষে এদিন রাতেই আমিরাত এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকায় পাঠানো হবে। মরদেহের সাথে তাদের পরিবারের সদস্যরাও বাংলাদেশে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নিহতদের মরদেহ বুধবার সকালে ঢাকায় পৌছবে। আরো উল্লেখ্য, নিহত ও আহতরা সবাই নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় বসবাস এবং লং আইল্যান্ডে তাদের কর্মস্থল ইনভাজিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীতে সকালের শিফটে কাজ করতে যাচ্ছিলেন। নর্দার্ন ষ্টেট পার্কওয়ের হাইওয়ে ধরে একটি প্রাইভেট কার যোগে যাওয়ার পথে এক্সিট (হাইওয়ে থেকে লোকার রাস্তায় উঠার পথ) ৩১ নেয়ার পর তাদের প্রাইভেট কারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় প্রাইভেটকারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে বলে নিউইয়র্কের টহল পুলিশ জানায়। ঘটনার সময় রায়হান ইসলাম ড্রাইভ করছিলেন এবং গাড়ীটি তার নিজের। এই হতাহতের ঘটনায় বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।দূর্ঘটনার পর নিহত তিনজনের মরদেহ লং আইল্যান্ডের নাসাউ কমিউনিটি মেডিক্যাল সেন্টারে রাখা হন। সেখান থেকে রোববার মরদেহগুলো গ্রহণ করে রিজউডস্থ পার্ক ফিউনেরাল হোমে রাখা হয়।

LEAVE A REPLY