শুভ জন্মদিন কবি নির্মলেন্দু গুণ

0
55

২১ জুন বুধবার বাংলা ভাষার অন্যতম কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিন। শুভ জন্মদিন কবি।

নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী, যিনি নির্মলেন্দু গুণ নামে ব্যাপক পরিচিত, এক জন কবি ও চিত্রশিল্পী।

১৯৪৫ সালের ২১ জুন, ১৩৫২ বঙ্গাব্দের ৭ আষাঢ়, কাশবন, বারহাট্টা, নেত্রকোণায় এক হিন্দু পরিবারে জন্ম নেন তিনি। তার ছেলেবেলা কাটে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায়। বাবা সুখেন্দু প্রকাশ গুণ এবং মা বিনাপনি। বাবা-মার তিন মেয়ে এবং দুই ছেলের মধ্যে নির্মলেন্দু ছোট ছেলে। চার বছর বয়সে মার মৃত্যুর পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন চারুবালাকে।

কবিতার পাশাপাশি তিনি গদ্য ও ভ্রমণ কাহিনীও লিখেছেন। তার কবিতায় মূলত প্রেম, শ্রেণিসংগ্রাম ও স্বৈরাচার বিরোধিতা, এই বিষয়গুলো প্রকাশ পেয়েছে। যৌবনে এই কবি কমিউনিস্ট রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হওয়ার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই গ্রন্থের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং পরবর্তী কালে এর উপর ভিত্তি করে তানভির মোকাম্মেল একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এ ছাড়াও তার স্বাধীনতা, এই শব্দটি কী ভাবে আমাদের হল কবিতাটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য। তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা অ্যাকাডেমি এবং ২০০১ সালে একুশে পদক পুরস্কার অর্জন করেন।

প্রথমে বারহাট্টার করোনেশন কৃষ্ণপ্রসাদ ইন্সটিটিউটে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন তিনি। দুই বিষয়ে লেটারসহ মেট্রিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ পান ১৯৬২ সালে৷ মাত্র ৩ জন প্রথম বিভাগ পেয়েছিল স্কুল থেকে। মেট্রিক পরীক্ষার আগেই নেত্রকোণা থেকে প্রকাশিত ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণের প্রথম কবিতা ‘নতুন কান্ডারী’৷ মেট্রিকের পর আইএ.সি পড়তে চলে আসেন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজে৷ মেট্রিক পরীক্ষায় ভালো রেজাল্টের সুবাদে পাওয়া রেসিডেন্সিয়াল স্কলারশিপসহ পড়তে থাকেন এখানে৷

নেত্রকোণায় ফিরে এসে নির্মলেন্দু গুণ আবার ‘উত্তর আকাশ’ পত্রিকা ও তার কবি বন্ধুদের কাছে আসার সুযোগ পান৷ নেত্রকোণার সুন্দর সাহিত্যিক পরিমন্ডলে তার দিন ভালোই কাটতে থাকে৷ একসময় এসে যায় আইএসসি পরীক্ষা৷ ১৯৬৪ সালের জুন মাসে আইএসসি পরীক্ষায় ঢাকা বোর্ডের ১১৯ জন প্রথম বিভাগ অর্জনকারীর মাঝে তিনিই একমাত্র নেত্রকোণা কলেজের৷ পরবর্তীতে বাবা চাইতেন ডাক্তারি পড়া৷ কিন্তু না তিনি চান্স পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ৷ ভর্তির প্রস্তুতি নেন নির্মলেন্দু গুণ। হঠাত্‍ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা শুরু হয় ঢাকায়৷ দাঙ্গার কারণে তিনি ফিরে আসেন গ্রামে৷ ঢাকার অবস্থার উন্নতি হলে ফিরে গিয়ে দেখেন তার নাম ভর্তি লিষ্ট থেকে লাল কালি দিয়ে কেটে দেওয়া৷ আর ভর্তি হওয়া হলো না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফিরে আসেন গ্রামে৷ আইএসসিতে ভালো রেজাল্ট করায় তিনি ফার্স্ট গ্রেড স্কলারশিপ পেয়েছিলেন৷ মাসে ৪৫ টাকা, বছর শেষে আরও ২৫০ টাকা৷ তখনকার দিনে অনেক টাকা৷

১৯৬৯ সালে প্রাইভেটে বিএ পাশ করেন তিনি, যদিও বিএ সার্টিফিকেটটি তিনি তোলেননি। ১৯৬৫ সালে আবার বুয়েটে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন৷

তার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্ত্রগুলির মধ্যে রয়েছে, হুলিয়া, অসমাপ্ত কবিতা, মানুষ, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, আফ্রিকার প্রেমের কবিতা, নিরঞ্জনের পৃথিবী ইত্যাদি।

আজকের এই দিনে শক্তিমান এ কবিকে ফেমাসনিউজ টোয়েন্টিফের ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।

LEAVE A REPLY