আটলান্টিক সিটির টক অব দ্যা টাউনঃ আটলান্টিক সিটির আলহেরা মসজিদ কখন “মুনার” দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হবে?

0
109
আটলান্টিক সিটির টক অব দ্যা টাউন
আটলান্টিক সিটির টক অব দ্যা টাউন

আটলান্টিক সিটি থেকে এবিএম নিউজঃ আটলান্টিক সিটির আলহেরা মসজিদ কখন মুনার দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত হবে এবং স্থানীয় মুসল্লীদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে এই প্রশ্ন সাউথজার্সীতে বসবাসরত কয়েক হাজার বাংলাদেশীর।,বৃটিশ শাসনের অবসান হয়েছিল লন্ডনে বসে ভারতবর্ষকে শাসনের নামে শোষন করার কারনে, ঠিক তেমনি স্থানীয় মুসল্লীদের দাবী এবং অধিকারকে উপেক্ষা করে মুনার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের “আটলান্টিক সিটির আলহেরা মসজিদকে” তাদের নানাবিধ কর্মকান্ডের হেড অফিস বানানোর অভিলাসও হবে ঠিক লন্ডনে বসে বৃটিশদের ভারত শাসনের নামে শোষন করার অভিপ্রায়।

এদিকে মসজিদ আলহেরাকে স্থানীয় মুসল্লীদের প্রানকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার জন্য স্থানীয় মুসল্লীরা নীরবে তাদের চেষ্ঠা অব্যহত রেখেছেন ।মুনা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন এবং মুনার প্রধান কাজ হওয়া উচিত অমুসলিম দেশে ধর্ম প্রচার করা।মসজিদ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার এবং ধর্ম প্রচারের একটি অন্যতম স্থান।কিন্তু ধর্ম প্রচারে ব্যস্ত না থেকে মসজিদকে যখন মুনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি বানানোর প্রচেষ্ঠা অব্যহত রাখা হয় তখনই মুসলিম উম্মার প্রতি মানুষের ঘৃনা এবং অবিশ্বাসের জন্ম নেয়। মুসল্লীদের প্রশ্ন কিসের লোভে মুনার নেতৃবৃন্দ হাজার হাজার ডলার খরছ করছেন মসজিদের মালিকানা নেয়ার জন্য ।

আটলান্টিক সিটির টক অব দ্যা টাউন
আটলান্টিক সিটির টক অব দ্যা টাউন

আটলান্টিক সিটিতে জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগ ভদ্র এবং মার্জিত লোক হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত ছিল। আটলান্টিক সিটিবাসী কখনও ভাবতে পারেনি সহজ সরল তিনজন ব্যক্তিকে স্থানীয় জনসাধারনের কাছে বিতর্কিত করার কাজটুকু মুনার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সুকৌশলে চালিয়ে যাবেন। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার স্থানটুকু হারানোর শংকায় রাতদিন চলছে ঘরে-বাইরে সকল স্থানে মসজিদ নিয়ে আলোচনা।গত এক যুগ ধরে জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগ ছিলেন ইকবাল, রহিম এবং স্থানীয় জনসাধারনের স্নেহে ধন্য।তাদের বিপদ আপদের সার্বক্ষনিক সঙ্গী ছিলেন তাদেরই সংগঠনের নেতা ইকবাল এবং রহিম।জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগ কি নিজেদের মান-সন্মানের চিন্তা না করে কেন হঠাৎ করে মসজিদ কমিটির পরিচালনায় থাকতে চান। আসলকি তারা আদৌ বিবাদে জড়ানোর মত ব্যক্তি নাকি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এবং মুনার কয়েকজন নেতার সাথে যুক্ত হয়ে তাদেরকে বিতর্কিত করার আপ্রান চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে আটলান্টিক সিটির ইসলাম প্রিয় মুসলিম ভাই বোনদের স্বপ্নের মসজিদের বিবাদ মিমাংসার দায়িত্ব পেয়েছে আটলান্টিক সিটি সুপরিয়ার কোর্ট। মুসলমান হিসাবে এই লজ্জা রাখব কোথায় যারা আল্লাহর ঘর তৈরী এবং সুরক্ষাকারী হিসাবে নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছেন তাদেরকি, একবারও লজ্জা হয়না মসজিদের বিবাদ নিয়ে কোর্টে যেতে। ধরা যাক ইকবাল, রহিমসহ অন্যান্যরা শুনানীতে হেরে গেলেন, তার মানে কি জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগকে এলাকাবাসীরা মাথায় তুলে রাখবেন ? কোর্টের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার ফলাফল কি আদৌ ভালভাবে মেনে নেবে ধর্মপ্রান মুসল্লীরা ? ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগকি মসজিদের মুতয়াল্লী হিসাবে কাজ করার জন্য নেতৃত্বে আসতে চাইছেন, নাকি মামলাবাজ মুনা সংগঠনটির অবৈধ কর্মকান্ডকে সহায়তা করার চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাংলাদেশীদের ধারনা জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগ বিশেষ একটি গ্রূফের চক্রান্তের শিকার।জসীম, সজিবুল মাওলা এবং সোহাগ কি একবারও ভেবে দেখেছেন মামলা মোকাদ্দমার মাধ্যমে সম্পত্তি দখল করলে তা ধরে রাখা যায় কিন্তু মসজিদ দখল করলে মসজিদের মুসল্লীদের মন পাওয়া যায় না। মুনা একটি ভাল সংগঠন তা নিয়ে কোন মুসলমানের বির্তক নেয় ।কিন্তু সংগঠনটিকে বির্তকিত করার জন্য দায়ী কয়েকজন উচচ বিলাসী নেতা।তারা ভূলে গেছেন তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারনে সংগঠনটির ইমেজ কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাউথজার্সীসহ নিকটবর্তী ষ্টেইট প্যানসেলভেনিয়া, নিউইর্য়ক, ভার্জিনিয়া এবং ডেলোয়ারে মুনা সংগঠনটি একটি ভয়ংকর এবং আতংকের নাম। জানা যায় ২০১৫ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্যানস্যালভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের আপার ডারবিতে মসজিদ নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডঃ সফিক, মাহবুবুর রহমান এবং আলমগীর হোসেন ।

৩,১৫,০০০ ডলার ব্যয়ে কিংসটন ইসলামিক সেন্টার নির্মানে সকল প্রক্রিয়া সম্পাদন করেন এলাকাবাসী। ২০১৬ সালে কিংসটন ইসলামিক সেন্টার নির্মানের জন্য আলহেরা মসজিদের মুসল্লীদেরও সহায়তা কামনা করা হয়। আটলান্টিক সিটির মুসল্লীরা তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মুক্ত হস্তে দান করেন। কিন্তু মুনার নেতৃবৃন্দের দ্ধন্ধের কারনে এলাকার জনগন ৩৫০০০ ডলার ডিপোজিট মানি হারালেও দেখতে পায়নি কিংসটন ইসলামিক সেন্টারের বাস্তবায়ন। এছাড়াও ৬৫০০০ হাজার ডলার কারসাজির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরোদ্ধে। জনগনের টাকা নিয়ে গড়া মসজিদ নিয়ে মুনার মত এত বড় একটি সংগঠনের কেন এত অপতৎপরতা। মসজিদের মধ্যে কি এমন স্বর্ণের খনি রয়েছে তার জন্য কোর্ট খরছ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে বেতন দিয়ে মসজিদ দখলের কাজে ব্যবহার করতে হবে ? স্থানীয় মুসল্লী ও মুনার কতিপয় নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে জানা যায় আলহেরা মসজিদ এবং বিভিন্ন মসজিদকে পুজি করে বিভিন্ন মুসলিম দেশ থেকে বিপুল পরিমান অর্থ সংগ্রহ করা হলেও গত অর্ধ যুগে আলহেরা মসজিদ লিখিতভাবে মুনা থেকে পেয়েছে ৪৪,০০০। যদিওবা সাধারন জনগনের কাছে প্রচার করা হচ্ছে তারা ২,০০,০০০ এর উপরে খরছ করেছে। যার কোন ডকুমেন্ট নেই। গত অর্ধ যুগে মসজিদ নির্মানসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১.৮ মিলিয়ন ডলার। বর্তমানে মসজিদের কোন রকম দেনা নেই তাই মসজিদের দখলদারিত্ব নেয়ার জন্য তারা হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আটলান্টিক সিটিতে এবং তাদেরকে সহায়তা করছেন আটলান্টিক সিটির বিএনপির নামধারী কিছু মুনার সমর্থক। মুনার কেন্দ্রীয় দুই নেতা ন্যাশনাল এ্যস্টিটেন এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আরমান চৌধুরী ,মুনার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জোনাল চীফ জিয়াউল ইসলাম শামীম এবং মুনার সুরা সদস্য, দাওয়া ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ডঃ রুহুল আমিনকে আলহেরা মসজিদের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কিন্তু সমাধানের পরিবর্তে মসজিদের জন্য আরেকটি কমিটি ঘটনের প্রচেষ্ঠার কারনে সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া রুদ্ধ হয়ে যায়।কমিটি গঠনের ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তারা জানান আলহেরা মসজিদ তাদের এপিলেটেড প্রতিষ্ঠান। তাই ট্রাষ্টিবোর্ড এবং কমিটি গঠনের অধিকার তাদের রয়েছে। ট্রাষ্টি বোর্ডে মুনার সদস্য ছাড়া স্থানীয় নন-মুনার অন্তভুক্তির সুযোগ নেই বলে তারা মনে করেন ।

তাদের বক্তব্যে স্পষ্ঠ হয়েছে যে স্থানীয় মুসলমানদের গড়া মসজিদটির দখল তারা যে কোন কিছুর বিনিময়ে নিতে প্রস্তুত।তাদের খেয়ালী এবং আগ্রাসী মনমানসিকতা থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে না আসলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মুসলমানদের প্রানপ্রিয় সংগঠনটি অস্তিতের সংকটে পড়বে।তাই হাজার হাজার মুনার সমর্থক বর্তমান নেতৃ্ত্বের অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রত্যাশাই দিন কাটাচ্ছেন। তার প্রমান পাওয়া যাবে মুনার অন্যতম সংগঠক এবং সমালোচক সালাউদ্দিন মোঃ রাসেলের গত ৩১ই জুলাই ২০১৭ এর একটি পেইজবুক পোষ্টের মাধ্যমে ।তিনি মুনার নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে বলেন “আল্লাহর কসম, আমার পোস্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে নয় । ইসলামিক দুর্বৃত্ত ও ডিক্টেটরদের বিরুদ্ধে । আর যারা সংগঠনের নামে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সেই সব দুর্বৃত্ত দের বিরুদ্ধে । কয়েকজনে পরামর্শ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা মামলা করে না কেন ? এই বাটপার গুলো বড় বড় ইসলামিক রাগব বোয়াল সেজেছে । এদের বিরুদ্ধে মামলা করাটাকে যদি সংগঠন কেয়ার না করে তাহলে লিখনীর মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরী করে এদের মুখোশ উন্মোচন করতে সমস্যা কোথায় ? কারণ এদের মিষ্টি মুখের ভুলিতে তো সংগঠনের লোকের পাশাপাশি সাধারণ লোকজন ও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে । আমার প্রশ্ন জামায়াত শিবিরের ভাইয়েরা কি এই দুর্নীতিবাজ,লুটেরা দায়িত্বশীল বাটপারদের পক্ষে ? নাহলে কমেন্টস করে ব্যাক্তিগত এট্যাক কেন ? আমি তো অর্থনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলেছি, তাদের নৈতিক চরিএ নিয়ে তো প্রশ্ন তুলিনি । আমি হয়তো অন্য দশজনের মতো তাকওয়াবান না কিন্তু জীবনে কারও অর্থ মেরে খাইনি । তাকওয়া কি এটাকেই বলে ? তাকওয়ার আড়ালে মানুষের কোটি কোটি টাকা মেরে দেওয়া ?”

ইসলাম শান্তির ধর্ম।শান্তির বার্তা মুসল্লীদের কাছে পৌছে দেওয়ায় হউক মুনার পরিকল্পনা এটাই সকলের কাম্য। মুনার নেতৃত্বের কাছে আটলান্টিক সিটি আলহেরা মসজিদের দায়িত্ব দেয়া হবে কয়েক হাজার মুসল্লীর স্বপ্নের অপমৃত্যু।

LEAVE A REPLY