কামান-গোলাবারুদ নিয়ে প্রস্তুত’ যুক্তরাষ্ট্র

0
109
কামান-গোলাবারুদ নিয়ে প্রস্তুত’ যুক্তরাষ্ট্র
কামান-গোলাবারুদ নিয়ে প্রস্তুত’ যুক্তরাষ্ট্র

প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বীপ গুয়ামে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আছড়ে পড়া একটি টর্পেডো বিস্ফোরিত হয়নি। সেই টর্পেডোর অবশিষ্টাংশ এই দ্বীপের আসান মেমোরিয়াল পার্কে সংরক্ষিত আছে। এই গুয়ামেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এরপর থেকে এ দ্বীপে আতঙ্ক বিরাজ করছে। মেমোরিয়াল পার্কে সংরক্ষিত ওই টর্পেডোতে বসে দুই শিশু ঘুড়ি দিয়ে নিজেদের লুকানোর চেষ্টা করছে। গতকালের ছবি l রয়টার্স
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল শুক্রবার টুইটার বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী উত্তর কোরিয়াকে মোকাবিলার জন্য ‘কামান ও গোলাবারুদ নিয়ে প্রস্তুত’ রয়েছে।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পাল্টাপাল্টি তর্জনগর্জনের মধ্যেই ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, উত্তর কোরিয়া বোকামিপূর্ণ আচরণ করলে সামরিক সমাধানের সব প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করা যায়, কিম জং-উন অন্য পথ খুঁজে পাবেন।

ট্রাম্প এমন পরিস্থিতিতে এই বক্তব্য দিলেন, যখন উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে, তিনি কোরীয় উপদ্বীপকে একটি পারমাণবিক লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। জবাবে পিয়ংইয়ং মার্কিন ভূখণ্ড গুয়ামের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ গুয়ামের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে গতকাল স্থানীয় বাসিন্দাদের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ‘অগ্নিগোলক বা স্ফুলিঙ্গ দেখলে তাকাবেন না, এটা আপনাদের অন্ধ করে দিতে পারে। এ রকম অবস্থায় তৎক্ষণাৎ মাটিতে শুয়ে পড়ে মাথা ঢাকতে হবে। বিস্ফোরণটা একটু দূরে হতে দেখলেও সেটা ৩০ সেকেন্ডে আঘাত হানতে পারে।’

ট্রাম্প সাংঘাতিক হুঁশিয়ারি দিলেও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উত্তর কোরিয়া সংকট সমাধানের আশা করছে। যুদ্ধ হলে সেটা বিপর্যয় ডেকে আনবে।

কিম জং-উন এবং ট্রাম্পের গত কয়েক দিনের বাগ্‌যুদ্ধে বিশ্বনেতারাও শঙ্কিত। জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল গতকাল বার্লিনে বলেছেন, তিনি উত্তর কোরিয়া সংকট নিরসনে যেকোনো ধরনের বলপ্রয়োগের বিরোধিতা করেন। জার্মানি এ ক্ষেত্রে এমন সমাধানের পক্ষ নেবে, যেটা সামরিক নয়। আর বাগ্‌যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধিকে তিনি সঠিক মনে করেন না।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের অন্তত ৬০ জন আইনপ্রণেতা বলেছেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি মন্তব্যের কারণে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা বেড়েছে এবং পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওই আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বরাবর একটি চিঠিতে সই করেছেন। এতে লেখা আছে, ‘ট্রাম্পের বিবৃতিগুলো দায়িত্বহীন এবং বিপজ্জনক, আর সেগুলো কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে উত্তর কোরিয়ার প্রচার-প্রচারণায় রসদ জুগিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের জনগণের জন্য একটা হুমকি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।’

গুয়ামে উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছাতে সময় নেবে মাত্র ১৪ মিনিট। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে গুয়ামের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের মুখপাত্র জেনা গামিন্দে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ রকম পরিস্থিতিতে সাইরেন বাজিয়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হবে। যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক দি প্যাসিফিক ডেইলি নিউজ-এর বরাত দিয়ে এনডিটিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।

গামিন্দে বলেন, ‘এ রকম পরিস্থিতিতে প্রথমে সেনাবাহিনী আমাদের কর্মকর্তাদের জানাবে এবং আমরা গণযোগাযোগের সব কটি মাধ্যম ব্যবহার করে জনগণকে এ সম্পর্কে সতর্ক করব। স্থানীয় গণমাধ্যম, গ্রাম প্রশাসন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’

এএফপি জানায়, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল গতকাল বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে ক্যানবেরা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় এগিয়ে আসবে।

LEAVE A REPLY