আমেরিকায় বর্ণবাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে

0
90
আমেরিকায় বর্ণবাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে
আমেরিকায় বর্ণবাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে

যুক্তরাষ্ট্রে উসকে ওঠা বর্ণবাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের চারলটসভিল নগরে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের সঙ্গে ১২ আগস্ট শনিবার উদারনৈতিকদের দিনভর সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে একজনের মৃত্যু ঘটেছে। ঘটনা সামাল দেওয়ার জন্য পুলিশের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় আরও দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্তত ৩৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাজ্য গভর্নর জরুরি অবস্থা জারি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘর্ষের নিন্দা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘর্ষের জন্য দায়ী কোনো পক্ষের উল্লেখ না করে বিবৃতি প্রদান করায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। খোদ তাঁর দলের লোকজনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন।

চারলটসভিলের ইমানসিপেশন পার্ক থেকে আমেরিকার গৃহযুদ্ধকালীন একজন জেনারেলের ভাস্কর্য অপসারণের বিরোধিতা করে শ্বেতাঙ্গরা এই উত্তেজনার সূত্রপাত করে। আমেরিকার গৃহযুদ্ধে দাসপ্রথার পক্ষে ‘কনফেডারেট’ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়া জেনারেল রবার্ট ই লি এর ভাস্কর্য অপসারণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীরা সকাল থেকে সমবেত হতে থাকে। মাথায় হেলমেট পরে যুদ্ধংদেহী শ্বেতাঙ্গদের শোভাযাত্রা থেকে নাৎসি আমলের নানা স্লোগান দেওয়া হয়। শোভাযাত্রাটি পার্কের ওই ভাস্কর্য অভিমুখে যাত্রা শুরু করে।

উগ্রবাদীদের বিরোধিতা করে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সমর্থকেরা ওই এলাকায় সমবেত হন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। হাতাহাতি, বোতল ও পাথরের টুকরো নিক্ষেপের পাশাপাশি পিপার স্প্রে ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে কাঁদুনে গ্যাস ছুঁড়তে দেখা যায়। থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। এর কয়েক ঘণ্টা পর পার্কের কয়েক গজ দূরে শ্বেতাঙ্গদের বিরোধিতাকারীদের ভিড়ে একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। তাতেই ঘটে নিহতের ঘটনা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নগর জুড়ে উত্তেজনা চলছে। ঘটনা সামাল দেওয়ার জন্য আসা পুলিশের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় পড়লে পাইলট লেফটেন্যান্ট এইচ জে কুলেন এবং ট্রুপার বার্ক এম এম বাটেস দুর্ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে পুলিশ জানায়। পুলিশ জেমস এলেক্স ফিল্ডস নামের এক শ্বেতাঙ্গ যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেমস ঠিক কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করেছেন কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তর তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে, নিউজার্সির বেডমিনিস্টারে অবস্থানরত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার বিকেলে এক বিবৃতিতে দুপক্ষের সংঘর্ষের নিন্দা জানিয়েছে এবং এ ধরনের সংঘাত সংঘর্ষ অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিবৃতিতে শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদীদের চিহ্নিত করে কিছু না বলায় তাঁর দলের পক্ষ থেকেই প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কলোরাডো থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর কোরি গার্ডনার এক টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘মি. প্রেসিডেন্ট, আমাদের বলতে হবে এরা অশুভ শক্তি।’ এরা শ্বেতাঙ্গ উগ্রবাদী এবং অভ্যন্তরীণ জঙ্গি বলে এ সিনেটর উল্লেখ করেন। রিপাবলিকান সিনেটর মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছ থেকে জানতে চাই শ্বেতাঙ্গরা জঙ্গি আক্রমণ করেছে।’

আমেরিকার উদারনৈতিকসহ অনেকেই মনে করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংঘর্ষের জন্য দায়ী শ্বেতাঙ্গদের চিহ্নিত করে বক্তব্য না দেওয়ায় অসন্তোষ বাড়বে। আমেরিকার চেপে থাকা বর্ণবাদ চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আবার উসকে ওঠার অশনিসংকেত অনেকেই দেখছিলেন। ভার্জিনিয়ার ঘটনায় চাপা বর্ণবাদের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোনো দিকে যায় এ নিয়ে সর্বত্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। মার্কিন উদারনৈতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভার্জিনিয়ার ঘটনার জের ধরে আমেরিকার সামাজিক প্রতিক্রিয়া সামাল দেওয়াকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কঠিন পরীক্ষা বলে মন্তব্য করছে।

LEAVE A REPLY