আখরোট ক্ষুধা কমায়

0
44

আখরোট সুস্বাস্থ্যের নিয়ামক, প্রমাণ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। মানুষের অতিরিক্ত ভোজনপ্রবণতায়ও বাদামের এ জাতটি লাগাম টেনে ধরে। এ নিয়ে যদিও পূর্ণাঙ্গ গবেষণা হয়নি কখনো। বেথ ইসরায়েল ডিকোনেস মেডিকেল সেন্টারের (বিআইডিএমসি) বিশেষজ্ঞরা এখন সে অভাবটিও পূরণ করে দিয়েছেন।

তাদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, আখরোট খাওয়ার পর মস্তিষ্কের ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে মস্তিষ্কে ক্ষুধার অনুভূতিও খুব একটা থাকে না। মস্তিষ্কের চৈতন্যের ওপর আখরোটের প্রভাব নিয়ে পরিচালিত গবেষণাটি প্রকাশ করা হয়েছে ডায়াবেটিস, ওবিসিটি অ্যান্ড মেটাবলিজম শীর্ষক জার্নালে। খবর সায়েন্স ডেইলি।

বিআইডিএমসির এন্ডোক্রিনোলজি, ডায়াবেটিস অ্যান্ড মেটাবলিজম বিভাগের মেডিসিন-বিষয়ক প্রশিক্ষক ও গবেষণা নিবন্ধটির মূল লেখক অলিভিয়া এম ফার বলেন, খাবার খাওয়ার পর তা মস্তিষ্কে কীভাবে প্রভাব ফেলে, সেটি নিয়ে কখনই মাথা ঘামাইনি আমরা। তবে আখরোট খেলে যে সবার পেট ভরে গেছে বলে অনুভব হয়, সেটা আমরা আগেই লক্ষ করেছিলাম। কিন্তু এটি খাওয়ার ধারাবাহিকতায় মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও ক্ষুধা অনুভূতির ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি আসলেই বেশ আশ্চর্যজনক।

গবেষণার জন্য ফার ও তার সহকর্মীরা ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এফএমআরআই) পদ্ধতির মাধ্যমে মস্তিষ্কের ওপর আখরোটের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন। এজন্য তারা ১০ জন স্থূলতায় ভোগা স্বেচ্ছাসেবককে নিয়োগ দেন। দুটি পাঁচ দিনব্যাপী সেশনে তাদের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এজন্য স্বেচ্ছাসেবকদের বিআইডিএমসির ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টারে (সিআরসি) এনে রাখা হয়, যাতে করে তাদের খাবারের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণের বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।

একটি পর্যবেক্ষণ সেশন চলাকালে স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতিদিন ৪৮ গ্রাম আখরোটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে দেয়া হয়। আরেকটি সেশনে তাদের আখরোটের উপাদানগুলোর কোনো ধরনের উপস্থিতি না রেখেই এর ফ্লেভারসমৃদ্ধ পানীয় পান করানো হয়। দেখা গেছে, আখরোটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণের সেশন শেষে তাদের ক্ষুধা অনেকটাই কমে গেছে। এমনকি লোভনীয় খাবারের ছবি দিয়েও তাদের খুব একটা আগ্রহী করে তোলা যায়নি।

LEAVE A REPLY