‘বাংলাদেশিরা খুব দয়ালু’

0
87
উখিয়ার বালুখালীতে বসে আছে রোহিঙ্গা শিশুরা।
উখিয়ার বালুখালীতে বসে আছে রোহিঙ্গা শিশুরা।

নয় দিন আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে এসেছেন রাশিদা। সহিংসতার আগে রাশিদার জীবন ছিল খুব সাধারণ। নিজেদের কিছু জায়গাজমি রয়েছে। সেখানেই চাষবাস করতেন তিনি। নিজের বাড়িতে স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল স্বস্তিতেই।

এখন সবকিছুই পেছনে ফেলে আসতে হয়েছে রাশিদাকে। চট্টগ্রামের টেকনাফ উপজেলার উখিয়ার উচি প্রাঙ্কে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে রয়েছেন তিনি। আল-জাজিরার সাংবাদিক কেটি আর্নল্ডকে বলেছেন ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। বলেছেন নিজের যন্ত্রণা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা।

২৫ বছরের রাশিদা বললেন, ‘আমার বাড়ি, জমি সব পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। সেখানে ফিরলেও আর আমরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারব না। যখন সেনাবাহিনী আমাদের গ্রামে গুলি চালানো শুরু করল, আমরা তাড়াতাড়ি সন্তানদের জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে আসি। সন্তানেরা বনের মধ্যে বিপদের ভয় পাচ্ছিল। যখন বাড়ির কাছে গেলাম, দেখলাম, অনেক লোককে মেরে ফেলা হয়েছে।’

সেই ভয়ংকর সময়ের কথা মনে করে রাশিদা আরও বলেন, ‘জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এলাম। সীমান্তের কাছে যাওয়া পর্যন্ত আট দিন ধরে কেবল হাঁটলাম। আমরা খুব ক্ষুধার্ত ছিলাম। গাছের পাতা ছাড়া খাওয়ার আর কিছু ছিল না। সন্তানেরা খেতে চাইছিল। কিন্তু আমরা সঙ্গে কোনো খাবার নিতে পারিনি।’

ছোট্ট একটি নৌকায় করে বাংলাদেশ সীমান্ত পার হয়েছেন বলে জানান রাশিদা। বলেন, ‘এটা খুব বিপজ্জনক ছিল। মনে হচ্ছিল নৌকাটি ডুবে যাচ্ছে। তাই তিন সন্তানকে শক্ত করে আঁকড়ে রেখেছিলাম।’

রাশিদা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে থেকে আমি খুশি নই। এক একর ধানি জমিতে আমরা গবাদিপশু চরাতাম। আমাদের গ্রামটি খুব সুন্দর ছিল। আমার বাড়ির কথা মনে পড়ে। এখানে আমরা অসহায়বোধ করি। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ কী হতে পারে, সে নিয়ে কোনো ধারণা নেই।’

বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে রাশিদা আরও বলেন, ‘এখানে আমরা যথেষ্ট সমর্থন পাচ্ছি না। বাংলাদেশের লোকজন খুবই দয়ালু। তারা আমাদের কাপড় ও খাবার দিচ্ছে। কিন্তু আমি কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার দেখা পাইনি। যদি তারাও আমাদের সাহায্য করত। আমাদের খাবার প্রয়োজন। বিশ্ববাসীর কাছে আমার বার্তা হলো, আমরা শান্তি চাই। শান্তি ছাড়া আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।’

মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে ঢুকেছে বাংলাদেশে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সহিংসতা নিরসনে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চির ওপর চাপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

LEAVE A REPLY