‘সাকিব না থাকাটা দলের জন্য চিন্তার কারণ’

0
107
সাকিবকে ছাড়া দল নির্বাচন যে কঠিন, সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।
সাকিবকে ছাড়া দল নির্বাচন যে কঠিন, সেটা স্বীকার করে নিয়েছেন প্রধান নির্বাচক।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যেদিন দল ঘোষণা করলেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, মুমিনুল হকের দলে না থাকা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিরাট ঝড়ই গিয়েছিল তাঁর ওপর! আজ অবশ্য কোনো বিতর্কের মধ্যে পড়তে হয়নি তাঁকে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টের যে দলটি দেওয়া হয়েছে, তাতে বিতর্কের উপাদান নেই খুব একটা। মিনহাজুল তাই ফুরফুরে মেজাজে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের অর্ধেকটাজুড়েই থাকল সাকিব আল হাসান-প্রসঙ্গ। যদিও দল ঘোষণার খানিক আগেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালন বিভাগের প্রধান আকরাম খান সাকিবের বিশ্রাম নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তিনি অনুরোধই করলেন, ‘নান্নু (মিনহাজুল) ভাইয়ের জন্য কিছু প্রশ্ন রাখেন (সাকিব-প্রসঙ্গে)!’
প্রধান নির্বাচকের সংবাদ সম্মেলনে সাকিবকে নিয়ে আগের প্রশ্নগুলোই ঘুরেফিরে হলো। উত্তরও খুব একটা ভিন্ন নয়। তবে এই সিরিজে সাকিবকে না পাওয়ায় একটা হাহাকার মিনহাজুলের কণ্ঠে ঠিকই পাওয়া গেল, ‘সাকিবকে ছাড়া আমরা এখনো দল করার চিন্তা করতে পারি না। সে ছুটি চেয়েছে। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার থাকবে না, এটা অবশ্যই দলের জন্য চিন্তার কারণ। তারপরও সামলে নিতে হবে। চোটে পড়লে ওকে ছাড়াই তো খেলতে হতো। সেভাবেই আমাদের মানসিকতা তৈরি করতে হবে। খেলার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সাকিব থাকা মানে একই সঙ্গে তিনজন খেলোয়াড়কে পাওয়া—দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান, বোলার, ফিল্ডার। এমন আদর্শ এক অলরাউন্ডারকে ছাড়াই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ যে পিছিয়ে থাকবে, সেটি স্বীকার করে নিলেন মিনহাজুল, ‘ও ছুটি চেয়েছে। বোর্ড সেটা মঞ্জুর করেছে। যেহেতু সে অনেক দিন ধরে সব সংস্করণে খেলছে। এখানে ওর একটা বিশ্রাম দরকার, যেটা সে চেয়েছে। ওকে তাই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ও না থাকায় অবশ্যই আমরা একটু ব্যাকফুটে থাকব।’
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাইজুল ইসলামের বাদ পড়ার কথা শোনা যাচ্ছিল কদিন ধরে। সাকিবের অনুপস্থিতিতে তাইজুলকে দলে রাখতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাচকেরা। সাকিব দ্রুত ফিরবেন এটাই আশা মিনহাজুলের, ‘এই মুহূর্তে সে সারা বিশ্বে সব জায়গায় খেলছে। তেমন লম্বা বিরতি এখনো পায়নি। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট থেকে একটু বিরতি চেয়েছে। দুই টেস্ট বা প্রথম টেস্টের পরই ফিরতে পারে। আশা করি সে দ্রুত ফিরবে।’
কিন্তু প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এমন একটা কঠিন সিরিজে কেন সাকিবকে ছুটি দেওয়া হলো, সে প্রসঙ্গ আবারও উঠল। টানা ক্রিকেটের মধ্যে থাকা একজন খেলোয়াড়ের কেন ছুটি দরকার—নির্বাচক হিসেবে নন, একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে সেটির ব্যাখ্যা দিলেন মিনহাজুল, ‘দল করার সময় ওর নামটা সবার আগে লিখতে হয়। বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার সে। তবে ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার। আমিও খেলোয়াড় ছিলাম, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শতভাগ ফিট না থাকলে পারফরম্যান্স শতভাগ ভালো হয় না। সে হিসেবে মনে করি, ও ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওর সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো উচিত।’

LEAVE A REPLY