আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ পাওয়াকে নিজের পরিশ্রমের পুরস্কার এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের কাদের বলেছেন, আমি আমার পরিশ্রমের পুরস্কার পেয়েছি। রাজনীতির জীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পেয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ স্বীকৃতি আমাকে দিয়েছেন। আমি আমার নেত্রীর কাছে, অভিভাবকের কাছে কৃতজ্ঞ। তাকে কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই।
দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আজ সোমবার ধানমন্ডির একটি কমিউনিটি সেন্টারে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের কাছ থেকে আমার নামের প্রস্তাব আসাটাই ছিল এবারের সম্মেলনের বড় চমক। আর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাত বছরের অভিজ্ঞতা ও সুচিন্তিত দায়িত্ব পালন তাকে এই দায়িত্বে অনুপ্রেরণা যোগাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা: দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান এবং সদ্য সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার প্রত্যাশা অনুযায়ী কিভাবে দলকে গতিশীল করে এগিয়ে নিতে চান, তার একটি রূপরেখাও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় প্রধান পদে এই নির্বাচন নিয়ে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মধ্যে কোনো রকম হতাশা নেই জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সৈয়দ আশরাফের সাত বছরের অভিজ্ঞতা আমারও কাজে লাগবে।’
শেখ হাসিনার আস্থার প্রতিদান দেয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি আমাকে ডাক দিয়েছেন আওয়ামী লীগের মতো একটা ঐহিত্যবাহী পার্টির জন্য। এই পার্টির দায়িত্ব দিতে গিয়ে আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, আমি আমার সব ঘাম, শ্রম, মেধা দিয়ে, আমি আমার সব কিছু শক্তি, সামর্থ আমি উজাড় করে দেবো আমার নেত্রী প্রদত্ত এই আস্থার পবিত্রতা রক্ষা করতে গিয়ে।’
আমি কোনো আঞ্চলিক নেতা নই
ওবায়দুল কাদেরের জন্ম ও বেড়ে উঠা নোয়াখালীতে। তার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর এই অঞ্চলের বাসিন্দারা ভীষণভাবে আপ্লুত। ওবায়দুল কাদের সকালে যখন ধানমন্ডি ৩/এ তে ঢুকছিলেন, তখন তারা নোয়াখালীর নাম উল্লেখ করে স্লোগান দেন। তবে এসব স্লোগান না দিতে নেতা-কর্মীদেরকে অনুরোধ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি এখানে যখন ঢুকছিলাম, আঞ্চলিক কিছু স্লোগান হচ্ছিল। এসব আমাকে কষ্ট দেয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অঞ্চলের নই। আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরগঞ্জ, কুতুবদিয়া থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত বাংলাদেশে। গোটা বাংলাদেশের যে বিশাল দায়িত্ব দিয়েছেন। এটা সুবিশাল দায়িত্ব। এটা কোনো রিজিওনালিজম নাই। আমার কনস্টিটিউয়েন্সি আছে একটা, কিন্তু আমার পার্টি গোটা দেশেই। এখানে আমি নিরপেক্ষভাবে যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারি, তাহলে নেত্রী আমাকে যে আস্থা দিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা থাকবে না।’
আচরণ পাল্টাতে হবে
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদেরকে মানুষের সাথে ভালো আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের নেতা কর্মীদেরকে জনগণের সাথে আচার আচরণ আরো ভালো করতে হবে। আমরা জানি ১০টা বড় উন্নয়ন ও অর্জনকে দুটি খারাপ আচরণ ম্লান করে দিতে পারে। এটা মনে রেখে আমাদের আচরণে উন্নয়নে সবচেয়ে সেরা দলে পরিণত হতে হবে।’
আশরাফের মধ্যে হতাশার চাপ দেখিনি
সৈয়দ আশরাফের মধ্যে হতাশা রয়েছে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকেও কেবিনেটে তার সাথে আমার দেখা হয়েছে। তার মুখাবয়বে কোনো বিচলিত হওয়া বা হতাশার ছায়া দেখিনি। গত কয়েকটি কেবিনেটের চেয়েও তাকে আজ বেশি প্রাণবন্ত মনে হয়েছে। এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিউটি। আর শেখ হাসিনা যেখানে আছেন সেখানে অনৈক্য-বিভেদ প্রশ্রয় পাবে না। এই যে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আমার নাম প্রস্তাব করলেন, এটাই এবারের সম্মেলনের চমক এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ম্যাজিক পাওয়ার।’
নব নির্বাচিত এই সাধারণ সম্পাদক জানান, সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা হবে। আজ-কালের মধ্যে সম্পাদকমণ্ডলীর নেতাদের নাম, দু’একদিনের মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের নাম এবং তিন থেকে চারদিনের মধ্যে কার্যনির্বাহী সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।
এ সময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের জন্য তার দরজা সব সময় খোলা থাকবে বলেও উল্লেখ করেন ওবায়দুল কাদের।
শেষে কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয় তলায় ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে বৈঠকে বসেন তিনি। এ ছাড়া বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে যান।

LEAVE A REPLY