কানাডার সিনেটে মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির শুনানীতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসংশিত

0
58
কানাডার সিনেটে মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির শুনানীতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসংশিত
কানাডার সিনেটে মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির শুনানীতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রসংশিত

সদেরা সুজন, সিবিএনএ কানাডা থেকে।। মিয়ানমার কর্তৃক সেদেশের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে এক বিস্তারিত শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে কানাডার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে। অটোয়ার পার্লামেন্ট হিলের সিনেট মানবাধিকার বিষয়ক কমিটিতে এ শুনানী অনুষ্ঠিত হয় ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ (বুধবার)৷ শুনানীকালে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকার উচ্চ প্রসংশা করা হয়৷ সেই সাথে অবিলম্বে সহিংসতা ও হত্যাকান্ড বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার, সেনাবাহিনী ও দেশটির নেত্রী অং সান সু চি’র প্রতি কানাডার চাপ প্রয়োগের বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হয়৷
শুনানীকালে সিনেট মানবাধিকার কমিটির বিশেষ আম্ন্ত্রনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মিজানুর রহমান৷ তিনি মিযানমার কর্তৃক জোরপূর্বক বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সাময়িক আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেন৷ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রধানমন্তী কর্তৃক ঊথ্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করে হাই কমিশনার বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাব অনুসারে কোফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে মিয়ানমারকে তাদের নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং সংঘাত ও হত্যাকান্ড বন্ধ করে তাদের নাগরিক রোহিঙ্গাদেরকে স্থায়ীভাবে তাদের দেশ তথা মিয়ানমারে ফেরত নিতে হবে৷” এ সময় হাই কমিশনের মিনিস্টার নাঈম উদ্দিন আহমেদ এবং প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) দেওয়ান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন৷ প্রশ্নোত্তর পর্বে মিনিস্টার নাঈম আহমেদ বলেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের অবশ্যই বাংলাদেশ সরকারের সাথে প্রয়োনীয় সহযোগিতা করা বাঞ্ছনীয় এবং তাদরকে এ বিষয়ে বালাদেশের সাথে ‘এঙ্গেইজ্ড’ থাকতে হবে৷
পরে হাই কমিশনারের বক্তব্যের লিখিত কপি সিনেট হিউম্যান রাইটস কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়৷ পুরো শুনানী কানাডার সরকারী পার্লামেন্টভিউ টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়৷ শুনানীতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি, সিনেটর জিম মানসন৷ সভায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন কমিটির ডেপুটি চেয়ার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান, সিনেটর মারিলু ম্যাকফ্রেডান, সিনেটর ইয়োনাহ মার্টিন, সিনেটর থান হাই গো, সিনেটর রেইনেল এ্যান্ড্রিচুক এবং সিনেটর রাতনা ওমিডভার৷
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গ্রুপগুলোর মধ্যে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, ‘বার্মীজ মুসলিমস’ এবং রোহিঙ্গা এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার নেতৃবৃন্দ শুনানীতে সাক্ষ্য প্রদান করেন ৷ ‘বার্মীজ মুসলিমস অব কানাডা’ এর নেতা আহমেদ রামাদান রাখাইনে বর্মী সেনাবাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট মিলিশিযাদের রোহিঙ্গা নিধনকে গণহত্যা বলে অভিহিত করে বলেন, “এটি কেবল জাতিগত নির্মুল নয়, এক ভয়ঙ্কর গণহত্যা, যা বন্ধ করতে কেবল নিন্দা জ্ঞাপন নয়, বরং কানাডাসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী৷”
রোহিঙ্গা এ্যাসোসিয়েশন অব কানাডার প্রেসিডেন্ট আনোয়ার আরকানী রোহিঙ্গাদের উপর বর্মী নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর নিষ্ঠুরতা ও হত্যাযজ্ঞের বিশদ ও মর্মস্পর্শী বিবরণ তুলে ধরেন, যা শুনানীতে উপস্থিত সকলকে শিহরিত করে৷ তিনি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দানের জন্য সমস্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন৷
সিনেটের মানবাধিকার সংক্রান্ত সর্বশেষ শুনানী অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ অক্টোবর৷ উক্ত শুনানীতে কানাডার পররাষ্ট্র দপ্তরের (গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স, কানাডা) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক সহকারী উপমন্ত্রী ডন বোবিয়াশ ও মিয়ানমার ডেস্কের উর্ধতন কর্মকর্তাদের শুনানীতে ডেকে কানাডা সরকারের করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য শুনে সিনেট মানবাধিকার কমিটি৷
রোহিঙ্গাদের উপর চালিত গণহত্যা ও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন সংক্রান্ত এসকল শুনানীর পর খুব শীঘ্রই সিনেট মানবাধিকার কমিটি তার সিদ্ধান্ত কানাডা সরকারকে জানাবে ৷

LEAVE A REPLY