সিএসআরে আটকে যেতে পারে ফোরজি!

0
73
সিএসআরে আটকে যেতে পারে ফোরজি!
সিএসআরে আটকে যেতে পারে ফোরজি!

দেশে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোরজি) টেলিযোগাযোগ সেবা চালু করতে যে নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে, তার একটি শর্ত নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অপারেটররা বলছে, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) মাধ্যমে অর্থ খরচ করতে হলে সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নেওয়ার যে শর্ত চূড়ান্ত নীতিমালায় রাখা হয়েছে, সেটি মানা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নীতিমালায় সিএসআরের বিষয়টি সংশোধন করা না হলে তাদের পক্ষে ফোরজিতে যাওয়া কঠিন হবে।

ফোরজির নীতিমালা অনুযায়ী, সিএসআর খাতে খরচ করতে হলে সেটি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) অনুমতি নিতে হবে। অর্থ খরচে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই মূলত আপত্তি মোবাইল ফোন অপারেটরদের। তাদের মতে, সিএসআরের অর্থ অনুমতি নিয়ে খরচ করতে হলে সেটি অপব্যবহার হওয়ার সুযোগ আছে। কারণ তখন এ অর্থ রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যবহার হওয়ার সুযোগ আছে।

গ্রামীণফোনের প্রধান করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, টেলিনরের অংশ হিসেবে সিএসআরের অর্থ খরচ করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি গ্রামীণফোনের জন্য একটি বড় সমস্যা, কারণ এটি একটি কমপ্লায়েন্স ইস্যু। এ অর্থ খরচে স্বচ্ছতা না থাকলে ফোরজির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া গ্রামীণফোনের জন্য কঠিন হবে। তিনি বলেন, সিএসআরে অপারেটররা কোন খাতে অর্থ খরচ করে সেটি বিটিআরসিকে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে নিয়মিত জানানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা চাইলে এ বিষয়ে আরও তথ্য দিতেও সমস্যা নেই। কিন্তু নির্দেশনা অনুযায়ী সিএসআরের অর্থ খরচ করার সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন।

সিএসআরের বিষয়ে রবি ও বাংলালিংকের অবস্থানও গ্রামীণফোনের মতোই। বাংলালিংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, সিএসআর নিয়ে বর্তমান নীতিমালায় যে শর্ত রাখা হয়েছে সেটি মেনে নিয়ে ভিওন ফোরজির বিনিয়োগে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেবে না।

সিএসআরের বিষয়টি নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রধান নির্বাহীরা গত মাসে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সঙ্গে এক বৈঠকে তাঁদের উদ্বেগ জানান। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায় সেটি নিয়ে কাজ চলছে।

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ফোরজি চালু করার লক্ষ্যে গত মাসে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করেছে বিটিআরসি। সিএসআর ছাড়াও এ নীতিমালার বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মোবাইল ফোন অপারেটররা আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে। এর মধ্যে আছে তরঙ্গের দাম, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতার শর্ত, বিনিয়োগের উৎস, ১২ বছরের জন্য তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ ইত্যাদি।

LEAVE A REPLY