আপনাদের শুদ্ধ করে সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব: খালেদা জিয়া

0
58
আপনাদের শুদ্ধ করে সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব: খালেদা জিয়া
আপনাদের শুদ্ধ করে সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব: খালেদা জিয়া

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না, হতে দেওয়া হবে না। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না, হতে পারে না। যারা সামান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই ভোট চুরি করে জিততে চায় তাদের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের মতো বৃহৎ দায়িত্ব কোনওভাবেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। নির্বাচনে ইভিএম বাতিল ও সেনা মোতায়েন করতে হবে।

রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এরা ক্ষমতায় থেকে জনগণকে যেমন ভয় পাচ্ছে, তেমনি বিভিন্ন দল বিশেষ করে বিএনপিকে ভয় পায়। যার কারণে আজকের সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের বিভিন্ন জায়গায় বাধা দিয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। বহুদলীয় গণতন্ত্রে পথ ও মতের পার্থক্য থাকবে। কিন্তু জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আলাপ-আলোচনা ছাড়া এ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। যারা ক্ষমতায় আছে এবং যারা সংসদের বাইরে আছে, সবাই মিলে এ পরিবর্তন আনতে হবে। সকলে মিলে একটি কার্যকর সংসদ আমরা দেখতে চাই।’

দীর্ঘদিন পর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেওয়া বক্তব্যে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচন, নির্বাচন কমিশন, প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ, অব্যাহত গুম-খুন, চালের মূল্য বৃদ্ধি, ক্ষমতাসীনদের বিদেশে টাকা পাচারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের এই অবস্থা থেকে মানুষ পরিবর্তন চায়, এদের হাত থেকে মুক্তি চায়। আর এই পরিবর্তন ভোটের মধ্য দিয়ে আসতে হবে। সে জন্য মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। এ অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন একটি নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন।

খালেদা জিয়া জোর দিয়ে বলেন, যে নির্বাচনে নির্দ্বিধায় মানুষ ভোট দিতে যাবে, যাকে পছন্দ, তাকে ভোট দেবে—এই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। হবে না। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা বিপুল করতালির মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সমর্থন জানায়।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ব্যাখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা স্থানীয় নির্বাচনগুলোকে দেখেন—চুরি করে, দুর্নীতি করে, এমনকি ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের নির্বাচনে খুলনায় আমাদের লোকদের নমিনেশন পেপার পর্যন্ত জমা দিতে দেয়নি। একই অবস্থা চিকিৎসক, শিক্ষকদের নির্বাচনগুলোতেও। সব নির্বাচনে তারা চুরি করে জিততে চায়।’

তিনি বলেন, এরা যে এত ছোট মনের, আজকে তারা দ্বিতীয় দিনের মতো প্রমাণ করে দিয়েছে। এত ছোট মন নিয়ে রাজনীতি করা যায় না। এরা মানুষকে ভয় পায়। এজন্য ৭ নভেম্বর আমাদের জনসভা করতে দেয়নি। আজকে অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু জনগণ যেন আসতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করেছে। গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। বাইরের জেলার মানুষ যেন না আসতে পারে। রাজধানীর হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়েছে। অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

তিনি আরও বলেন, এমনকি আমিও যেন সমাবেশে আসতে না পারি সেই ব্যবস্থাও করেছে। আমি বাসা থেকে বের হয়ে দেখি রাস্তায় খালি বাস রেখে দিয়েছে।

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যত‌দিন ক্ষমতায় থাক‌বে তত‌দিন দেশে গুম খুন হত্যা চলতেই থাকবে। আমরা রাজনী‌তি‌তে গুনগত প‌রিবর্তন চাই, ঐক্যের রাজনী‌তি কর‌তে চাই।’ এসময় চলমান রো‌হিঙ্গা সমস্যাকে ভোটার‌বিহীন সরকার নয় দেশের জাতীয় সমস্যা বলে উল্লেখ করেন তিনি। আর এই জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় ভোটারবিহীন এই অবৈধ সরকার চুপ থাকলেও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি জোর আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিএনপিপ্রধান বলেন, ‘দেশের এত ক্ষতি করেছেন। সম্পদ লুট করেছেন। পিঠ বাঁচানোর জন্য ক্ষমতায় থাকতে হবে বলে যা ভাবছেন তা হবে না। আমরা সহিংসতার রাজনীতি করি না। আপনাদের শুদ্ধ করব। আপনাদের সত্যিকার অর্থে মানুষ বানাব।’

আওয়ামী লীগের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘নির্বাচন দিয়ে আপনাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। মাঠে আপনারাও যাবেন, আমরাও যাব। বাধা দেবেন না। চ্যালেঞ্জ করছি, একটি জায়গায় আপনারা সভা করেন, আমরাও করছি; দেখি কাদের কত লোক আছে। ’ তিনি বলেন, ‘জনগণই আমাদের শক্তি। তাদের নিয়ে আমাদের পথচলা।

খালেদা জিয়া আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে যারা এক বছরের বেশি বেকার থাকবে তাদের জন্য বেকার ভাতা চালু করা হবে। সব ছাত্র-ছাত্রীর জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনা মূল্যে পড়ালেখার সুযোগ ও মেয়েদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সবার জন্য পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা হবে। সব শিক্ষিত ছেলের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থ করব। কৃষকদের কৃষি উপকরণ কম দামে দেব, ভর্তুকি দেব। তারা যে দামে ফসল উৎপাদন করবে সরকার তার চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনে নেবে। গ্রামে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে যাতে গ্রামের মানুষ শহরমুখী না হয়।’

বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সমাবেশস্থলে আসেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৯ মাস পরে রাজধানীর কোনো সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। দুপুর ২টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়।

LEAVE A REPLY