ঢাকায় এই প্রথমবারের মত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করলেন পোপ ফ্রান্সিস

0
72
ঢাকায় এই প্রথমবারের মত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করলেন পোপ ফ্রান্সিস
ঢাকায় এই প্রথমবারের মত ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করলেন পোপ ফ্রান্সিস

সহিংসতার শিকার হয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস। এ সময় তিনি তার এশিয়া সফরে প্রথমবারের মতো ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ করেন।

শুক্রবার ঢাকায় আন্তঃধর্মীয় বৈঠকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ১৬ জনের একটি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেন পোপ ফ্রান্সিস। খবর বিবিসির।

সীমান্ত এলাকার শিবির থেকে ঢাকায় নিয়ে আসা ১৬জন শরণার্থীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পোপ যা বলেছেন তা অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘আজ সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের মাঝেও।’

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের একটা জাতিগোষ্ঠি হিসাবে স্বীকার করে না। তাদের কাছে রোহিঙ্গারা ‘অবৈধ বাঙালি’।

বাংলাদেশে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে বড় প্রার্থনা সভা
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিস বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় আকারের একটি প্রার্থনা সভায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, তাতে প্রায় এক লাখ মানুষ যোগ দিয়েছেন। খবর বিবিসির

সকাল দশটার দিকে এই অনুষ্ঠান শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে আসা খ্রিস্টানরা এই উন্মুক্ত প্রার্থনা সভায় অংশ নেন যা পোপ ফ্রান্সিস পরিচালনা করেছেন।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় নেতাকে নিজের চোখে দেখতে খুব ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন।

সেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পোপ ফ্রান্সিসের পৌরহিত্যে এই প্রার্থনা-সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে পোপ ফ্রান্সিস বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করেছেন।

বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে খৃস্টানদের এতো বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

ওই প্রার্থনা সভায় ১৬ জন যাজকের অভিষেক হয়েছে। তাদেরকে তিনি শান্তি ও মানবতার জন্যে কাজ করার কিছু দিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ৩০ বছরে এই প্রথম কোন পোপ বাংলাদেশ সফরে গেলেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে গিয়েছিলেন পোপ দ্বিতীয় জন পল।

ঢাকায় বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তারাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দান করেন।

এরপর তিনি কাকরাইলে খ্রিস্টানদের প্রধান গির্জা বিশপ হাউজে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে যোগ দেন।

সেখানে তিনি মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা কয়েকজন রোহিঙ্গা মুসলিমের সাথেও সাক্ষাৎ করেছেন।

ঢাকায় যাওয়ার আগে মায়ানমার সফরে গিয়ে পোপ ফ্রান্সিস রোহিঙ্গা শব্দটি একবারও উচ্চারণ না করায় তার প্রচুর সমালোচনা হয়েছে। বার্মা সরকার রোহিঙ্গাদেরকে আলাদা কোন জাতি বলে মনে করে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে পোপ ফ্রান্সিসের একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
ঢাকায় ভ্যাটিকানের রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে গিয়ে শেখ হাসিনা দেখা করেন পোপ ফ্রান্সিসের সাথে।

বিকালে তিনি কাকরাইলের রমনা ক্যাথেড্রালে যান, সেখানে আর্চবিশপ হাউজে বিশপদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। শান্তি কামনায় আন্তঃধর্মীয় ও সম্প্রদায়গত ঐক্য বিষয়ক সভায় অংশ নেন।

পরবর্তী কর্মসূচী
সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে মাদার টেরিজা হাউজ পরিদর্শনে যাবেন পোপ। এরপর তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে খ্রিস্টান যাজক, ধর্মগুরু ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চার্চের কবরস্থান পরিদর্শন করবেন। দুপুরের পর ঢাকায় নটরডেম কলেজে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।

সফরের ইতি টেনে বিকাল ৫টায় শাহজালাল বিমানবন্দর ছাড়বেন ক্যাথলিক ধর্মগুরু। তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

LEAVE A REPLY